বাংলা ১ম পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৬
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
ষাট বছরের বৃদ্ধ মকবুলের সাথে বিয়ে হয় তেরো বছরের টুনির। ধানভানা থেকে শুরু করে জমির কাজ সবই মকবুল টুনির দ্বারা করায়, তবুও সে মকবুলের মন পায় না। মকবুলের চাচাতো ভাই মন্তু টুনির রূপে ও গুণে মুগ্ধ। টুনি মাঝে মাঝে স্বপ্ন দেখে মন্তর সাথে চলে যাওয়ার। কিন্তু যেতে পারে না।
- ক)(1)
নিমগাছের কোন অংশ যকৃতের জন্য ভারি উপকারী?
- খ)(2)
নিমগাছটি কেন নতুন লোকটির সাথে চলে যেতে চাইল? বুঝিয়ে লেখো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের মকবুল ‘নিমগাছ’ গল্পের যে দিক-কে ইঙ্গিত করে তা—ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
“টুনি যেন ‘নিমগাছ’ গল্পের লক্ষ্মীবউ”—তুমি কি এর সাথে একমত? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
নিমগাছের তিক্ত পাতা (ও ছাল) যকৃতের জন্য উপকারী বলে গল্পে বলা হয়েছে।
- খ)
নিমগাছ সবার কাছে কেবল উপকারী বস্তু হিসেবে ব্যবহৃত হয়, কেউ তার সৌন্দর্য দেখে না। নতুন লোকটি গাছের পাতার সৌন্দর্য ও ফুল দেখে মুগ্ধ হয়, কেবল ব্যবহারের জন্য নয়। এই প্রথম কেউ গাছটির সৌন্দর্যকে মূল্য দিল। তাই নিমগাছের মনে হলো, এখানকার শোষণ ও অবহেলা ছেড়ে তার সঙ্গে চলে গেলে সে সম্মান ও ভালোবাসা পাবে।
- গ)
উদ্দীপকের মকবুল 'নিমগাছ' গল্পের স্বার্থপরতা ও শোষণের দিককে ইঙ্গিত করে।
উদ্দীপকে মকবুল টুনিকে দিয়ে ধানভানা ও জমির কাজ সবই করিয়ে নেয়, অথচ তার মন পায় না ও তাকে মূল্য দেয় না। গল্পেও বাড়ির সবাই নিমগাছকে নিজেদের প্রয়োজনে ব্যবহার করে, কিন্তু কেউ তার সৌন্দর্য বা অনুভূতির মূল্য দেয় না। উভয় ক্ষেত্রেই অন্যের শ্রমকে স্বার্থের জন্য ব্যবহার করা হয়, কিন্তু সম্মান দেওয়া হয় না।
- ঘ)
আমি এ মন্তব্যের সঙ্গে একমত।
১. শোষিত অবস্থা: টুনি তেরো বছর বয়সে ষাট বছরের মকবুলের স্ত্রী হয়ে ধানভানা ও জমির কাজ করে, অথচ ভালোবাসা পায় না। 'নিমগাছ' গল্পের লক্ষ্মীবউও সংসারের সব কাজ করে কিন্তু নিজের অনুভূতি প্রকাশের সুযোগ পায় না।
২. প্রতিবাদহীন সহনশীলতা: টুনি যেতে চাইলেও যেতে পারে না। লক্ষ্মীবউ ও নিমগাছ উভয়েই সব সহ্য করে নীরবে।
৩. মূল্যায়নের অভাব: উভয়কেই শুধু ব্যবহার করা হয়, মর্যাদা দেওয়া হয় না। টুনি মন্তুর কাছে রূপ-গুণের স্বীকৃতি পায়, যেমন নিমগাছ নতুন লোকটির কাছে সৌন্দর্যের স্বীকৃতি পায়।সুতরাং, টুনি 'নিমগাছ' গল্পের লক্ষ্মীবউয়ের মতোই নারীর নীরব বঞ্চনার প্রতীক—মন্তব্যটি যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও