ইসলাম • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৪

ইসলাম প্রশ্ন

নগরীর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবার রেখে যাওয়া অঢেল সম্পত্তি ও নিজের চাকুরির টাকা দিয়ে নিজ বাড়িতে গড়ে তুলেছেন এক বিশাল শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র। এখানে শতাধিক ইয়াতিম, অনাথ ও দুস্থ শিশু আশ্রয় পেয়ে উন্নত পরিবেশে বড় হচ্ছে। অপরদিকে তারই ছোট বেলার বন্ধু জনাব আকিল উদ্দীন অফিসের একজন বড় কর্মকর্তা। তিনি পকেটে বাড়তি টাকা না পেলে ফাইলে স্বাক্ষর করেন না। জনসাধারণ তার এহেন কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ হলেও ভয়ে কোনও কথাবার্তা বলেন না।

  1. ক)

    খায়িন কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    'যার মধ্যে আমানতদারি নেই, তার ইমান নেই'- ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    প্রধান শিক্ষকের কর্মকাণ্ড তোমার পাঠ্যবইয়ের আলোকে মূল্যায়ন করোঁ।

    (3)
  4. ঘ)

    জনাব আকিল উদ্দীনের কাজটি ইসলাম সম্মত নয়- কথাটির যথার্থতা বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    যে ব্যক্তি আমানতের খিয়ানত করে, অর্থাৎ বিশ্বাসভঙ্গ করে গচ্ছিত বস্তু আত্মসাৎ করে বা নষ্ট করে, তাকে খায়িন বলে।

  2. খ)

    আমানতদারি অর্থ বিশ্বস্ততা। রাসূল (স) বলেছেন, "যার আমানতদারি নেই, তার ঈমান নেই।"
    ঈমানদার ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে এবং কারও গচ্ছিত সম্পদ বা দায়িত্বে খিয়ানত করে না। যে আমানত রক্ষা করে না, তার মধ্যে ঈমানের প্রকৃত চেতনা নেই। তাই আমানতদারি ঈমানের অপরিহার্য অংশ।

  3. গ)

    প্রধান শিক্ষকের কর্মকাণ্ড ইসলামের দৃষ্টিতে অত্যন্ত প্রশংসনীয় এবং আখলাকে হামিদাহর অন্তর্ভুক্ত। তিনি নিজের সম্পদ ও আয় দিয়ে ইয়াতিম, অনাথ ও দুস্থ শিশুদের আশ্রয় ও শিক্ষার ব্যবস্থা করে ত্যাগ, দান ও পরোপকারের পরিচয় দিয়েছেন।

    ইসলামে ইয়াতিমের লালন-পালনের বিশেষ গুরুত্ব আছে। রাসূল (স) বলেছেন, "আমি এবং ইয়াতিমের লালন-পালনকারী জান্নাতে এভাবে থাকব", এ কথা বলে তিনি দুই আঙুল মিলিয়ে দেখান। সম্পদ আল্লাহর আমানত, আর তা সৎকাজে ব্যয় করা সাদাকায়ে জারিয়ার মতো উত্তম আমল। তাই প্রধান শিক্ষকের কাজ কুরআন-সুন্নাহর শিক্ষার আলোকে সর্বোত্তম।

  4. ঘ)

    জনাব আকিল উদ্দীন ঘুষ ছাড়া ফাইলে স্বাক্ষর করেন না। এটি ঘুষ ও আমানতের খিয়ানত। তাঁর কাজ ইসলামসম্মত নয়, কথাটি যথার্থ।

    ১. ঘুষ হারাম: কুরআনে বলা হয়েছে, "তোমরা অন্যায়ভাবে একে অপরের সম্পদ গ্রাস করো না এবং জেনেশুনে মানুষের সম্পদের কিছু অংশ আত্মসাৎ করার জন্য তা শাসকদের কাছে পেশ করো না।" রাসূল (স) ঘুষদাতা ও গ্রহীতা উভয়কে অভিশাপ দিয়েছেন।
    ২. দায়িত্বে খিয়ানত: পদের দায়িত্ব আমানত। বিনা ঘুষে কাজ না করা এ আমানতের বিশ্বাসভঙ্গ।
    ৩. জুলুম: তিনি জনসাধারণের ওপর জুলুম করছেন, যা ইসলামে নিষিদ্ধ।
    ৪. সামাজিক ক্ষতি: ঘুষ ন্যায়বিচার ও সুশাসন নষ্ট করে এবং দুর্নীতি ছড়ায়।

    সুতরাং, ইসলামের দৃষ্টিতে আকিল উদ্দীনের কাজ হারাম, তাই কথাটি যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন