বাংলা ১ম পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২২

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

অ্যানুয়ালের রেজাল্ট হতে বাড়ি ফিরল ছেলে,
মা বললেন-কোন পেপারে কত নম্বর পেলে?
হিস্ট্রিতে মম, এইটি ফোর, ম্যাথসে নাইন জিরো,
মা বললেন- 'ফ্যান্টাস্টিক, জাস্ট লাইক এ হিরো।
জিওগ্রাফির পেপারে তো হাড্রেটে হানড্রেট,
ডুবিয়ে দিল বেঙ্গলিটা ভেরি পুয়োর গ্রেড।
ছেলের মাথায় হাত রেখে মা ঠোঁট বেঁকিয়ে বলেন-
নেভার মাইন্ড বেঙ্গলিটা না শিখলেও চলে। -
বাবা বললেন–বেশ বলেছ বঙ্গমাতার কন্যে,
বাংলা-টাংলা আমার মতো অশিক্ষিতের জন্যে ।
বিদ্যাসাগর রবীন্দ্রনাথ নেহাৎ ছিলেন বোকা,
না হলে কেউ শখ করে হয় বাংলা বইয়ের পোকা?
মা বললেন-চুপ করোতো, ওর ফন্টটা কীসে?
স্কুলে কেন বেঙ্গলিটা পড়ায় না ইংলিশে?

  1. ক)

    আরবি-ফারসি শাস্ত্রে কবি আবদুল হাকিমের কী নেই?

    (1)
  2. খ)

    সর্ববাক্য বুঝে প্রভু কিবা হিন্দুয়ানী'— বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের মায়ের বক্তব্যে 'বঙ্গবাণী' কবিতার যে বিশেষ দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে তা ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের বাবাকে কি কবি আবদুল হাকিমের প্রতিরূপ বলা যায়? তোমার মতের পক্ষে যুক্তি দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    আরবি-ফারসি শাস্ত্রে কবি আবদুল হাকিমের কোনো রাগ (বিদ্বেষ) নেই।

  2. খ)

    এ চরণে কবি বোঝাতে চেয়েছেন, আল্লাহ বা প্রভু সব ভাষাই বোঝেন। তখনকার কিছু মানুষ বাংলাকে 'হিন্দুয়ানী' ভাষা বলে অবজ্ঞা করত এবং ধর্মচর্চার ভাষা হিসেবে আরবি-ফারসিকেই শ্রেষ্ঠ মনে করত। কবি বলেন, স্রষ্টার কাছে ভাষার ভেদ নেই; তাই মাতৃভাষা বাংলাও ধর্মচর্চা ও ভাব প্রকাশের উপযুক্ত ভাষা।

  3. গ)

    উদ্দীপকের মা সন্তানের বাংলা বিষয়ে কম নম্বর পাওয়াকে গুরুত্ব দেননি; বরং বলেছেন, বাংলা না শিখলেও চলে, এবং ইংরেজি ভাষাতেই পড়ানোর কথা বলেছেন। এতে মাতৃভাষার প্রতি অবজ্ঞা এবং বিদেশি ভাষার প্রতি মোহ প্রকাশ পেয়েছে। 'বঙ্গবাণী' কবিতায় কবি আবদুল হাকিম ঠিক এমন মানুষদেরই কঠোর সমালোচনা করেছেন, যারা বাংলাভাষায় জন্মে বাংলাকে ঘৃণা করে। তাই মায়ের বক্তব্যে কবিতার মাতৃভাষা-বিদ্বেষী মানসিকতার দিকটিই প্রতিফলিত হয়েছে।

  4. ঘ)

    উদ্দীপকের বাবাকে কবি আবদুল হাকিমের প্রতিরূপ অনেকটাই বলা যায়, তবে সম্পূর্ণভাবে নয়।

    ১. বাবা মায়ের বাংলা-বিরোধী মনোভাবে ক্ষুব্ধ। তাই ব্যঙ্গ করে বলেছেন, বিদ্যাসাগর-রবীন্দ্রনাথ নাকি বোকা ছিলেন। এই ব্যঙ্গের আড়ালে বাংলা ভাষার প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা ও মাতৃভাষা অবহেলায় বেদনা প্রকাশ পেয়েছে। কবি আবদুল হাকিমও মাতৃভাষা-বিদ্বেষীদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
    ২. কবির মতো বাবাও মাতৃভাষার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন, যদিও ইঙ্গিতে।
    ৩. তবে কবি সরাসরি যুক্তি দিয়ে ধিক্কার জানিয়েছেন এবং বাংলা ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছেন। বাবা তা না করে কেবল ব্যঙ্গ করেই থেমেছেন।

    অতএব, ক্ষোভ ও ভাষাপ্রীতির দিক থেকে বাবা কবির প্রতিরূপ হলেও প্রতিবাদের দৃঢ়তায় তিনি কবির সমকক্ষ নন।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন