ভূগোল এবং পরিবেশ • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৩

ভূগোল এবং পরিবেশ প্রশ্ন

দৃশ্যকল্প-১: ষড়ঋতুর দেশ বাংলাদেশে সম্প্রতি ঋতুগুলোর নিজস্ব বৈশিষ্ট্যে কিছু পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে, যেমন- শীতহীন শীতকাল, নির্দিষ্ট সময়ের পূর্বেই গ্রীষ্মের প্রকোপ, বর্ষাকালে অনাবৃষ্টি, আবার কখনও অতিবৃষ্টি। দিন দিন সারাবিশ্বে এই পরিবর্তনগুলো ব্যাপক আকার ধারণ করছে।দৃশ্যকল্প-২: ডিসেম্বর মাস। সিলেটের বাসিন্দা রাজু কক্সবাজারে গিয়ে দেখল সেখানে তেমন শীতের প্রকোপ নেই।

  1. ক)

    বায়ুর আর্দ্রতা কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    তিব্বত মালভূমিকে বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।.

    (2)
  3. গ)

    দৃশ্যকল্প-১ এ-বর্ণিত পরিবর্তনের কারণ ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত সময়ে রাজুর এলাকা ও তার বেড়াতে যাওয়া এলাকার জলবায়ুর ভিন্নতার একটি নির্দিষ্ট কারণ রয়েছে-তুমি কি মনে করো? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    বায়ুতে অবস্থিত জলীয় বাষ্পের পরিমাণকে বায়ুর আর্দ্রতা বলে।

  2. খ)

    মৌসুমি বায়ু সমুদ্র থেকে জলীয়বাষ্প বয়ে এনে হিমালয় পর্বতে বাধা পায়। হিমালয়ের দক্ষিণ ঢালে বায়ু উপরে উঠে প্রচুর বৃষ্টি ঝরায়। হিমালয় পার হয়ে উত্তরে তিব্বত মালভূমিতে পৌঁছাতে পৌঁছাতে বায়ু শুষ্ক হয়ে যায়। ফলে সেখানে খুব কম বৃষ্টি হয়। তাই তিব্বত মালভূমিকে বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল বলা হয়।

  3. গ)

    দৃশ্যকল্প-১ এ শীতহীন শীতকাল, আগেভাগে গ্রীষ্ম, বর্ষায় অনাবৃষ্টি বা অতিবৃষ্টি ইত্যাদি জলবায়ু পরিবর্তনের লক্ষণ।

    কারণ:
    ১. গ্রিনহাউস গ্যাস বৃদ্ধি: কার্বন ডাইঅক্সাইড, মিথেন প্রভৃতি গ্যাস বায়ুমণ্ডলে বেড়ে যাওয়ায় পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়ছে (বৈশ্বিক উষ্ণায়ন)।
    ২. বন ধ্বংস: বন কেটে ফেলায় বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাইঅক্সাইড বাড়ছে এবং বৃষ্টিপাতের স্বাভাবিক ধারা ব্যাহত হচ্ছে।
    ৩. জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার ও শিল্পায়ন: কয়লা, তেল, গ্যাস পোড়ানো ও কলকারখানার ধোঁয়া জলবায়ুর ভারসাম্য নষ্ট করছে।
    ৪. অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও ভূমি ব্যবহারের পরিবর্তনও এর পেছনে ভূমিকা রাখে। এসব কারণে ঋতুগুলোর স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্যে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।

  4. ঘ)

    হ্যাঁ, আমি মনে করি ডিসেম্বরে সিলেট ও কক্সবাজারের জলবায়ুর ভিন্নতার একটি নির্দিষ্ট কারণ আছে। সেটি প্রধানত সমুদ্রের সান্নিধ্য বা সমুদ্র থেকে দূরত্ব এবং এর সাথে অবস্থান ও ভূপ্রকৃতি।

    ১. সমুদ্র থেকে দূরত্ব: কক্সবাজার বঙ্গোপসাগরের তীরে। সমুদ্রের পানি ধীরে গরম ও ধীরে ঠান্ডা হয়, তাই সমুদ্রের কাছে শীতের প্রকোপ কম এবং জলবায়ু সমভাবাপন্ন। সিলেট সমুদ্র থেকে দূরে, তাই শীত বেশি অনুভূত হয়।
    ২. অবস্থান: সিলেট বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বে ও তুলনামূলক উত্তরে অবস্থিত। শীতকালে উত্তর থেকে আসা শীতল বায়ু প্রথমে উত্তরাঞ্চলকে ঠান্ডা করে।
    ৩. ভূপ্রকৃতি: সিলেটের উত্তরে মেঘালয় পাহাড় ও হিমালয়ের নৈকট্যে রাতে তাপমাত্রা অনেক কমে যায়।

    সুতরাং, সমুদ্রের প্রভাব, অবস্থান ও ভূপ্রকৃতির কারণে একই সময়ে সিলেট বেশি শীতল এবং কক্সবাজার তুলনামূলক উষ্ণ থাকে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন