ব্যবসায় উদ্যোগ • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৪
ব্যবসায় উদ্যোগ প্রশ্ন
জনাব হাসান একজন চাকরিজীবী। তিনি রাজশাহীতে বসবাস করলেও প্রতিদিন নাটোর গিয়ে অফিস করেন। তিনি ভবিষ্যৎ জীবনের নিরাপত্তার কথা ভেবে বিমা করেছেন। তিনি নিয়মিত নির্দিষ্ট প্রিমিয়াম প্রদান করেন। তার অবর্তমানে তার স্ত্রীকে ক্ষতিপূরণ বাবদ বিমাকৃত টাকা গ্রহণের নমিনী করেন। অন্যথায় তার জীবিত অবস্থায় তিনি মেয়াদান্তে বোনাসসহ সম্পূর্ণ টাকা পাবেন।
- ক)(1)
পেটেন্ট কী?
- খ)(2)
নৌ বিমা কেন করা হয়? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে জনাব হাসান সাহেব কোন ধরনের বিমা চুক্তি করেছেন? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
"উদ্দীপকে বর্ণিত বিমা ক্ষতিপূরণের চুক্তি নয়"- উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
পেটেন্ট হলো এক ধরনের মেধাসম্পদ, যার মাধ্যমে আবিষ্কারককে তাঁর আবিষ্কারের স্বীকৃতিস্বরূপ একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য একচেটিয়া মালিকানা দেওয়া হয়।
- খ)
নদী ও সমুদ্রপথে যাত্রার সময় ঝড়-ঝঞ্ঝা, ঢেউ, সুনামি, দস্যুতা ও যুদ্ধ-বিগ্রহের মতো নানা ঝুঁকি থাকে। সারা বিশ্বের ব্যবসায়-বাণিজ্যের অধিকাংশ পণ্যই নৌপথে পরিবাহিত হয়। এসব ঝুঁকিজনিত ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ পেতে নৌ বিমা করা হয়। এতে পণ্য হারালে বা নষ্ট হলে ব্যবসায়ী আর্থিক ক্ষতি থেকে রক্ষা পান।
- গ)
উদ্দীপকে জনাব হাসান জীবন বিমা চুক্তি করেছেন।
যে বিমা চুক্তির মাধ্যমে বিমাকারী বিমা কিস্তির বিনিময়ে বিমা গ্রহণকারী ব্যক্তিকে বা তাঁর নির্বাচিত ব্যক্তিকে একটি বিশেষ সময়ের পরে বা বিমাগ্রহীতার মৃত্যুতে বিমাকৃত অর্থ প্রদান করে, তাকে জীবন বিমা বলে। এর বিষয়বস্তু মানুষের জীবন। উদ্দীপকে হাসান ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার জন্য নিয়মিত প্রিমিয়াম দেন। তাঁর মৃত্যু হলে নমিনী হিসেবে স্ত্রী টাকা পাবেন, আর জীবিত থাকলে মেয়াদান্তে বোনাসসহ সম্পূর্ণ টাকা পাবেন। এসব বৈশিষ্ট্য জীবন বিমার সঙ্গে মিলে যায়।
- ঘ)
উক্তিটি যথার্থ। সাধারণভাবে বিমাকে ক্ষতিপূরণের চুক্তি বলা হলেও জীবন বিমার ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য নয়।
১. ক্ষতিপূরণের চুক্তি: অগ্নি বা নৌ বিমার মতো সাধারণ বিমায় ক্ষতি ঘটলে বিমাকারী প্রকৃত ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দেয়। ক্ষতি না হলে কিছু দেয় না।
২. জীবন বিমার প্রকৃতি: মানুষের জীবনের ক্ষতিপূরণের নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারে না। তাই জীবন বিমায় নির্দিষ্ট সময় পরে বা মৃত্যুর পর নির্ধারিত বিমাকৃত অর্থ প্রদান করা হয়।
৩. উদ্দীপকে প্রয়োগ: হাসান সাহেব জীবিত থাকলেও মেয়াদ শেষে বোনাসসহ পুরো টাকা পাবেন। অর্থাৎ কোনো ক্ষতি না ঘটলেও তিনি টাকা পাচ্ছেন। মৃত্যু হলে স্ত্রী (নমিনী) বিমাকৃত অর্থ পাবেন, যা মূলত আর্থিক নিরাপত্তা, প্রকৃত ক্ষতির পরিমাপ অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ নয়।সুতরাং, জীবন বিমায় ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ ছাড়াই নির্দিষ্ট অর্থ দেওয়া হয় বলে উদ্দীপকের বিমা ক্ষতিপূরণের চুক্তি নয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও