কৃষিশিক্ষা • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২০
কৃষিশিক্ষা প্রশ্ন
রাজশাহী এলাকার যুবক রাজন বাবু জীবিকার প্রয়োজনে মালয়েশিয়ায় যায়, যাবার সময় সে তাঁর গৃহপালিত পশুগুলোকে প্রতিপালনে তাঁর স্ত্রীকে দিক নির্দেশনা দেন। রাজন বাবু একদিন খবরে জানতে পারেন বাংলাদেশে তীব্র খরা চলছে। আর বন্যা তো প্রায় বছর লেগেই আছে। মানুষের কষ্টের পাশাপাশি পশুপাখি বেঁচে থাকা প্রায় দুরূহ। তাই সে বাড়িতে চিঠি লিখে জানায় এখন পশুগুলোর জন্য তাঁর স্ত্রীর কী করণীয়। তিনি আরোও পরামর্শ দেন, রাস্তা ও বাঁধের পার্শ্বে জরুরি ভিত্তিতে বর্ষার শুরুতেই ইপিল ইপিল, বাবলা ও কাঁঠাল গাছের চারা যেন গ্রামের যুবকদের সহায়তায় লাগানো হয়।
- ক)(1)
অভিযোজন কাকে বলে?
- খ)(2)
জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে পশুপাখির স্বাস্থ্য ঝুঁকির সম্পর্ক আছে কিনা? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পশুগুলোর জন্য রাজন বাবুর স্ত্রীর করণীয় বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
রাজন বাবু গ্রামের যুবকদের সহায়তায় যে কর্মকাণ্ডের পরামর্শ প্রদান করেন তার যথার্থতা মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
কোনো জীব বা উদ্ভিদের পরিবেশের পরিবর্তনের সাথে নিজেকে খাপ খাইয়ে নেওয়ার ক্ষমতাকে অভিযোজন বলে।
- খ)
হ্যাঁ, জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে পশুপাখির স্বাস্থ্য ঝুঁকির সম্পর্ক আছে। তাপমাত্রা বেড়ে গেলে পশুপাখি তাপজনিত চাপে ভোগে এবং খাদ্য গ্রহণ ও উৎপাদন কমে যায়। বন্যা ও খরায় খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির অভাব দেখা দেয়, ফলে অপুষ্টি হয়। এছাড়া আবহাওয়ার পরিবর্তনে রোগজীবাণু ও পোকামাকড় বৃদ্ধি পায়, যা নতুন রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটায়।
- গ)
খরা ও বন্যার পরিস্থিতিতে রাজন বাবুর স্ত্রীর পশুগুলোর জন্য করণীয়:
১. খাদ্য সংরক্ষণ: খড়, হে বা সাইলেজ আগেই মজুত রাখা, যাতে সবুজ ঘাসের অভাবে খাদ্য সংকট না হয়।
২. বিশুদ্ধ পানি: খরায় পর্যাপ্ত পরিষ্কার পানি এবং বন্যায় বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
৩. আশ্রয়: বন্যায় পশুদের উঁচু ও নিরাপদ স্থানে সরানো এবং খরায় ছায়াযুক্ত ও বাতাস চলাচলযোগ্য ঘরে রাখা।
৪. স্বাস্থ্যসেবা: নিয়মিত টিকা ও কৃমিনাশক দেওয়া এবং অসুস্থ হলে দ্রুত পশু চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া।
৫. তাপ কমানো: গরমে পশুদের গোসল করানো ও ঠান্ডা রাখার ব্যবস্থা নেওয়া। - ঘ)
রাজন বাবু রাস্তা ও বাঁধের পাশে ইপিল ইপিল, বাবলা ও কাঁঠাল গাছের চারা লাগানোর পরামর্শ দিয়েছেন। এ পরামর্শ যথার্থ।
১. পশুখাদ্যের উৎস: ইপিল ইপিল ও কাঁঠাল গাছের পাতা প্রোটিনসমৃদ্ধ পশুখাদ্য, যা খরা ও বন্যার সময় সবুজ খাদ্যের ঘাটতি পূরণ করবে।
২. ভাঙন রোধ: বাঁধের পাশের গাছের শিকড় মাটি ধরে রাখে, ফলে বন্যায় বাঁধের ক্ষয় কমে।
৩. ছায়া ও পরিবেশ রক্ষা: গাছ ছায়া দেয়, তাপমাত্রা কমায় এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সামলাতে সাহায্য করে।
৪. অতিরিক্ত আয়: কাঁঠালের ফল ও বাবলার কাঠ বিক্রি করে আয় করা যায়, যুবকদের কর্মসংস্থানও হয়।
৫. সময়োপযোগী: বর্ষার শুরুতে চারা লাগালে গাছ সহজে বাঁচে ও দ্রুত বাড়ে।সুতরাং, রাজন বাবুর পরামর্শ পশুপাখি ও মানুষ উভয়ের জন্য কল্যাণকর ও যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও