ইসলাম • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৪

ইসলাম প্রশ্ন

দৃশ্যকল্প-১: জনাব জামাল ইসলাম শিক্ষা ক্লাসে একজন মুসলিম মনীষীর জীবনী আলোচনা করেন, যার সংকলিত গ্রন্থকে আল-কুরআনের পর সবচেয়ে বিশুদ্ধ গ্রন্থ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।দৃশ্যকল্প-২: জনাব আনিস একজন মুসলিম শাসকের জীবনী অধ্যয়ন করেন। যিনি ছিলেন ন্যায় ও ইনসাফের মূর্ত প্রতীক। অন্যায়-অপরাধের শাস্তি প্রদানের ক্ষেত্রে তিনি তার আপনজনকেও ছাড় দেননি।

  1. ক)

    রসায়ন শাস্ত্রের জনক কে?

    (1)
  2. খ)

    হযরত আবু বকর (রা)-কে ইসলামের ত্রাণকর্তা বলা হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    জনাব জামাল যে মনীষীর জীবনী আলোচনা করছিলেন তা চিহ্নিত করে জ্ঞানের ক্ষেত্রে তাঁর অবদান বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    "আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় এমন শাসক অত্যাবশ্যক।"- দৃশ্যকল্প-২ এর আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    রসায়ন শাস্ত্রের জনক জাবির ইবনে হাইয়ান।

  2. খ)

    রাসূল (স)-এর ওফাতের পর যখন একদল লোক ইসলাম ত্যাগ করে (রিদ্দা), ভণ্ড নবীরা আবির্ভূত হয় এবং অনেকে যাকাত দিতে অস্বীকার করে, তখন ইসলাম বিপদের মুখে পড়ে।
    হযরত আবু বকর (রা) দৃঢ়তার সাথে এসব বিদ্রোহ ও ফিতনা দমন করেন এবং কুরআন সংকলনের উদ্যোগ নেন। তাঁর এ ভূমিকার ফলে ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহ রক্ষা পায়, তাই তাঁকে ইসলামের ত্রাণকর্তা বলা হয়।

  3. গ)

    জনাব জামাল ইমাম বুখারী (র)-এর জীবনী আলোচনা করছিলেন। তাঁর সংকলিত 'সহিহ বুখারী' কুরআনের পর সবচেয়ে বিশুদ্ধ গ্রন্থ হিসেবে স্বীকৃত।

    জ্ঞানের ক্ষেত্রে অবদান:
    ১. তিনি হাদিস সংগ্রহের জন্য দীর্ঘ সফর করেন এবং লক্ষ লক্ষ হাদিস থেকে কঠোর যাচাই-বাছাই করে সহিহ হাদিসগুলো সংকলন করেন।
    ২. প্রতিটি হাদিস লেখার আগে গোসল করে দুই রাকাআত নামায পড়তেন বলে বর্ণিত আছে, যা তাঁর নিষ্ঠার প্রমাণ।
    ৩. সহিহ বুখারী ছাড়াও তিনি আরও গ্রন্থ রচনা করেন।
    এ অবদানের জন্য তিনি হাদিসশাস্ত্রে 'আমিরুল মুমিনীন ফিল হাদিস' উপাধিতে ভূষিত।

  4. ঘ)

    দৃশ্যকল্প-২-এর শাসক, যিনি আপনজনকেও শাস্তি থেকে ছাড় দেননি, তিনি হযরত উমর (রা)-এর মতো ন্যায়পরায়ণ শাসক। উমর (রা) নিজের ছেলে আবু শাহমাকে মদ্যপানের অপরাধে শাস্তি দিয়েছিলেন।

    "আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় এমন শাসক অত্যাবশ্যক" কথাটি যথার্থ। কারণ—
    ১. সবার জন্য সমান আইন: শাসক নিজ পরিবারকেও আইনের ঊর্ধ্বে না রাখলে সাধারণ মানুষ বিশ্বাস করে যে আইন সবার জন্য সমান।
    ২. ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা: পক্ষপাতহীন শাস্তি দিলে অপরাধীরা অপরাধ করতে ভয় পায় এবং সমাজে শান্তি আসে।
    ৩. আদর্শ স্থাপন: শাসকের দৃষ্টান্ত দেখে কর্মকর্তা ও জনগণ আইন মানতে উদ্বুদ্ধ হয়।

    সুতরাং, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় ন্যায়পরায়ণ ও নিরপেক্ষ শাসক অপরিহার্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন