ইসলাম • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২০

ইসলাম প্রশ্ন

যাবুল মিয়া ইসলামের বিধি-বিধান পালন করে না। সে মনে করে এসব নিরর্থক, এগুলোর মোটেও প্রয়োজন নেই। এমনকি সম্প্রতি সে গলায় একটি চেইনে বিধর্মীদের ক্রুশচিহ্ন ব্যবহার করে। অন্যদিকে মকবুল জোরপূর্বক ক্ষমতার বলে বিভিন্ন অনৈতিক কাজ করে থাকে। এলাকার মুরব্বি নাসিম মিয়া বলেন, 'একদিন এ পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে। সকলকে আল্লাহর সামনে হাজির হয়ে দুনিয়ার সকল কাজকর্মের হিসাব দিতে হবে।'

  1. ক)

    কবর কী?

    (1)
  2. খ)

    'এটি সেই কিতাব যাতে কোনো সন্দেহ নেই'- ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    বাবুল মিয়ার কার্যকলাপ চিহ্নিতপূর্বক ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    নাসিম মিয়ার বক্তব্যের যথার্থতা নিরূপণ করে মকবুল মিয়ার কাজের পরিণতি বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    কবর হলো মৃত্যুর পর থেকে কিয়ামত পর্যন্ত মানুষের অবস্থানস্থল, যাকে আলমে বারযাখ বলা হয়।

  2. খ)

    উক্তিটি সূরা বাকারার ২ নম্বর আয়াতের অংশ, যেখানে পবিত্র কুরআনকে বোঝানো হয়েছে। কুরআন আল্লাহর বাণী, যা জিবরাইল (আ)-এর মাধ্যমে মহানবি (স)-এর ওপর নাজিল হয়েছে। এর কোনো বিষয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই এবং আল্লাহ নিজেই এটি সংরক্ষণের দায়িত্ব নিয়েছেন। তাই এটি সন্দেহমুক্ত, নির্ভুল ও মুত্তাকিদের জন্য পথনির্দেশ।

  3. গ)

    উদ্দীপকের যাবুল মিয়া ইসলামের বিধি-বিধান পালন করে না, এগুলোকে নিরর্থক মনে করে এবং গলায় বিধর্মীদের ক্রুশচিহ্ন ব্যবহার করে। তার এসব কাজে কুফর প্রকাশ পেয়েছে।

    ব্যাখ্যা:
    ১. কুফর অর্থ অস্বীকার করা। ইসলামের মৌলিক বিষয় ও বিধি-বিধানকে অস্বীকার বা অবজ্ঞা করা কুফর।
    ২. বিধি-বিধানকে নিরর্থক মনে করা আল্লাহর নির্দেশকে অস্বীকারেরই নামান্তর।
    ৩. বিধর্মীদের ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহার তাদের ধর্মের সাথে একাত্মতা ও ইসলামের প্রতি অনীহা প্রকাশ করে।

    কুফরের পরিণতি আখিরাতে চিরস্থায়ী জাহান্নাম।

  4. ঘ)

    নাসিম মিয়ার বক্তব্য অত্যন্ত যথার্থ। কারণ—
    ১. কিয়ামতের দিন সমগ্র সৃষ্টি ধ্বংস হবে (সূরা আর-রাহমান: ২৬)। এরপর সবাইকে পুনরুত্থিত করা হবে।
    ২. প্রত্যেক মানুষকে আল্লাহর সামনে দাঁড়িয়ে দুনিয়ার সব কাজের হিসাব দিতে হবে (সূরা যিলযাল: ৭-৮)। এটি আখিরাতে বিশ্বাসের মূল কথা।

    মকবুলের কাজের পরিণতি: মকবুল ক্ষমতার বলে জোরপূর্বক অনৈতিক কাজ করে, অর্থাৎ সে জুলুম ও ফিসকে লিপ্ত। এর পরিণতি—
    ১. দুনিয়ায় সমাজে অশান্তি, ঘৃণা ও অশ্রদ্ধা।
    ২. আখিরাতে হিসাবের দিন তাকে জবাবদিহি করতে হবে এবং মজলুমের হক আদায় করতে হবে।
    ৩. তওবা না করলে জাহান্নামের কঠিন শাস্তি ভোগ করতে হবে।

    সুতরাং, মকবুলের উচিত এখনই তওবা করে অন্যায় ত্যাগ করা।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন