গার্হস্থ্য বিজ্ঞান • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২
গার্হস্থ্য বিজ্ঞান প্রশ্ন
দশ বছর বয়সী রাতুল একা থাকতে খুব ভালোবাসে। সে কারো সাথে মিশতে পারে না। পারিপার্শ্বিক পরিবেশ সম্পর্কে তার ধারণা স্পষ্ট নয়। সে কোনো খেলাধুলায়ও অংশগ্রহণ করতে চায় না। রাতুলের বাবা মা এ ব্যাপারে খুবই উদ্বিগ্ন হয়ে একজন শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেন। তিনি বলেন, "বিভিন্ন বয়সের বিকাশমূলক কার্যক্রম সম্পর্কে জানা থাকলে অনেক সুবিধা হয়।"
- ক)(1)
কত বছর বয়সে শিশু শক্ত খাবার খেতে শেখে?
- খ)(2)
বর্ধন ও বিকাশের মধ্যকার পার্থক্য উল্লেখ করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে রাতুল বিকাশের যে স্তরে রয়েছে সেই বয়সের বিকাশমূলক কাজ সম্পর্কে ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী বিকাশমূলক কার্যক্রম সম্পর্কে জ্ঞান থাকলে কী কী সুবিধা হতে পারে বলে তুমি মনে করো? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
শিশু সাধারণত ছয় মাস বয়সের পর থেকে ধীরে ধীরে এবং দুই বছরের মধ্যে শক্ত খাবার খেতে শেখে।
- খ)
বর্ধন ও বিকাশের মধ্যে পার্থক্য:
বিষয় বর্ধন বিকাশ ১. প্রকৃতি দৈহিক আকার ও আয়তনের পরিমাণগত পরিবর্তন কার্যক্ষমতা ও দক্ষতার গুণগত পরিবর্তন ২. পরিমাপ উচ্চতা, ওজন ইত্যাদি মেপে বোঝা যায় আচরণ ও দক্ষতা পর্যবেক্ষণ করে বোঝা যায় ৩. স্থায়িত্ব নির্দিষ্ট বয়সে থেমে যায় সারা জীবন চলতে থাকে - গ)
উদ্দীপকে দশ বছর বয়সী রাতুল মধ্য শৈশব (৬ থেকে ১২ বছর) স্তরে আছে। এ বয়সের বিকাশমূলক কাজগুলো হলো:
১. খেলাধুলার জন্য প্রয়োজনীয় শারীরিক দক্ষতা অর্জন করা।
২. নিজের প্রতি সুস্থ দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলা।
৩. সমবয়সীদের সাথে মিশতে ও মানিয়ে চলতে শেখা।
৪. পড়া, লেখা ও গণনার মৌলিক দক্ষতা অর্জন।
৫. দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় ধারণা লাভ করা, অর্থাৎ পরিবেশ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা তৈরি করা।
৬. বিবেক, নৈতিকতা ও মূল্যবোধ গড়ে তোলা।
৭. ব্যক্তিগত স্বাধীনতা অর্জন এবং সামাজিক গোষ্ঠীর প্রতি সঠিক মনোভাব তৈরি করা।রাতুল একা থাকে, মিশতে পারে না, খেলাধুলা করে না এবং পরিবেশ সম্পর্কে ধারণা স্পষ্ট নয়, ফলে সে এ বয়সের বিকাশমূলক কাজগুলোতে পিছিয়ে আছে।
- ঘ)
আমি মনে করি, বিভিন্ন বয়সের বিকাশমূলক কাজ সম্পর্কে জ্ঞান থাকলে বাবা-মা ও অভিভাবকদের জন্য অনেক সুবিধা হয়। যেমন:
১. স্বাভাবিক বিকাশ বোঝা যায়: কোন বয়সে শিশুর কী দক্ষতা অর্জন করার কথা তা জানলে শিশু স্বাভাবিকভাবে বাড়ছে কি না তা সহজে বোঝা যায়।
২. সমস্যা আগেভাগে শনাক্ত করা যায়: রাতুলের মতো মেলামেশায় অনীহা বা অস্বাভাবিক আচরণ দ্রুত চোখে পড়ে এবং সময়মতো বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া যায়।
৩. বয়সোপযোগী প্রত্যাশা ও পরিবেশ তৈরি: শিশুর ওপর সাধ্যের অতিরিক্ত চাপ না দিয়ে বয়সের উপযোগী খেলা, শিক্ষা ও কাজের সুযোগ দেওয়া যায়।
৪. সঠিক পরিচর্যা ও দিকনির্দেশনা: শিশুর প্রয়োজন অনুযায়ী যত্ন নিয়ে তাকে পরবর্তী স্তরের জন্য প্রস্তুত করা যায়।সুতরাং, বিকাশমূলক কাজ সম্পর্কে জানা থাকলে শিশুর সুষম বিকাশ নিশ্চিত করা সহজ হয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও