বিজ্ঞান • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৩
বিজ্ঞান প্রশ্ন
নেপালে একটি দুর্যোগে প্রায়ই চেয়ার, টেবিল, ভবন ইত্যাদি কম্পিত হয়। অন্যদিকে আমাদের উপকূলীয় অঞ্চল প্রায়ই সিত্রাং এর মতো দুর্যোগের কবলে পড়ে।
- ক)(1)
ঘূর্ণিঝড় কাকে বলে?
- খ)(2)
শিল্পোন্নত দেশে এসিড বৃষ্টি বেশি হয় কেন?
- গ)(3)
নেপালে সংঘটিত দুর্যোগটির কারণ ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
নেপাল ও বাংলাদেশে সংঘটিত দুর্যোগ দুটির সংঘটন পরবর্তী করণীয় তুলনামূলক বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
নিম্নচাপের কারণে বাতাস যখন প্রচণ্ড গতিবেগে ঘুরতে থাকে, তখন তাকে ঘূর্ণিঝড় বা সাইক্লোন বলে।
- খ)
শিল্পোন্নত দেশে কয়লা বা গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, কলকারখানা ও যানবাহনের সংখ্যা অনেক বেশি। এসব উৎস থেকে বিপুল পরিমাণ সালফার ডাই-অক্সাইড ও নাইট্রোজেন অক্সাইড গ্যাস বাতাসে মেশে। এই গ্যাসগুলো বাতাসের অক্সিজেন ও বৃষ্টির পানির সাথে বিক্রিয়া করে সালফিউরিক এসিড ও নাইট্রিক এসিড তৈরি করে। তাই শিল্পোন্নত দেশে এসিড বৃষ্টি বেশি হয়।
- গ)
নেপালে সংঘটিত দুর্যোগটি হলো ভূমিকম্প, কারণ চেয়ার, টেবিল ও ভবন কম্পিত হয়েছে। এর কারণ নিচে ব্যাখ্যা করা হলো।
১. পৃথিবীর ভূত্বক কতগুলো অংশে বিভক্ত, যাদের টেকটনিক প্লেট বলে। প্লেটগুলো স্থির নয়, চলমান।
২. একটি চলমান প্লেট আরেকটি প্লেটকে চাপ দিলে সেখানে শক্তি সঞ্চিত হয়।
৩. হঠাৎ প্লেটগুলো সরে গেলে সঞ্চিত শক্তি বেরিয়ে আসে। এতে ভূপৃষ্ঠে কম্পন সৃষ্টি হয়, যা ভূমিকম্প। এর মাত্রা রিখটার স্কেলে মাপা হয়।নেপাল প্লেট সীমানার কাছে থাকায় সেখানে এমন ভূমিকম্প ঘটেছে। ২০১৫ সালে নেপালে বড় ভূমিকম্প হয়েছিল।
- ঘ)
নেপালের দুর্যোগটি ভূমিকম্প এবং বাংলাদেশের উপকূলের দুর্যোগটি ঘূর্ণিঝড় (সিত্রাং)। দুটির সংঘটনের পরবর্তী করণীয় তুলনা করা হলো।
১. চিকিৎসা ও উদ্ধার: উভয় ক্ষেত্রেই আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও দ্রুত হাসপাতালে পাঠাতে হবে এবং সরকারি-বেসরকারি সংস্থার সমন্বয়ে ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ চালাতে হবে। ভূমিকম্পের পর যার প্রয়োজন বেশি, তাকে আগে চিকিৎসা দিতে হবে।
২. ভূমিকম্পের পর বিশেষ করণীয়: পানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস লাইন পরীক্ষা করে ক্ষতিগ্রস্ত হলে সরবরাহ বন্ধ করতে হবে। গ্যাসের গন্ধ পেলে ম্যাচ জ্বালানো যাবে না, ঘরের বাইরে যেতে হবে। রেডিওতে খবর শুনতে হবে এবং টেলিফোন জরুরি কাজে ব্যবহারের জন্য ছেড়ে দিতে হবে।
৩. ঘূর্ণিঝড়ের পর বিশেষ করণীয়: ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের কারণে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষের সাহায্য ও ত্রাণ পৌঁছানো, ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ ও আশ্রয়কেন্দ্র মেরামত এবং উপকূলে গাছপালা লাগানো প্রয়োজন।
৪. ভবিষ্যৎ প্রস্তুতি: ভূমিকম্পের পর ভূমিকম্প সহনীয় ভবন নির্মাণ ও ড্রিল বাড়াতে হবে। ঘূর্ণিঝড়ের পর পূর্বাভাস ব্যবস্থা জোরদার, মজবুত আশ্রয়কেন্দ্র ও স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম বাড়াতে হবে।সুতরাং, দুটি দুর্যোগেই উদ্ধার, চিকিৎসা ও ত্রাণ জরুরি, তবে ভূমিকম্পে স্থাপনা ও গ্যাস-বিদ্যুতের নিরাপত্তা এবং ঘূর্ণিঝড়ে জলোচ্ছ্বাস ও আশ্রয়কেন্দ্রের ওপর বেশি গুরুত্ব দিতে হয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও