বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৬

বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন

দৃশ্যপট-১: মীরপুর স্কুলের শিক্ষার্থীরা শীতলক্ষ্যা থেকে বুড়িগঙ্গার তীর পর্যন্ত নৌকা ভ্রমণ করল। শিক্ষক জানালেন, এই উর্বর নদীর তীরই ছিল ঢাকার জন্ম ও বিকাশের মূল ভিত্তি, যেখানে মানুষ এক সময় কৃষি ও পশুপালনে নিয়োজিত ছিলেন।
দৃশ্যপট-২: সোহেল সেনাবাহিনীতে কর্মরত থাকায় রাজশাহী সেনানিবাসে অবস্থান করেন। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তিনি সর্বদা যুদ্ধের প্রস্তুতিতে শৃঙ্খলাবদ্ধ থেকে সামরিক শক্তি অক্ষুণ্ণ রাখার দিকে সতর্ক থাকেন।

  1. ক)

    'ইয়াং' কী?

    (1)
  2. খ)

    হেলেনিস্টিক সংস্কৃতি কীভাবে জন্ম নিয়েছিল? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    দৃশ্যপট-১ এর জীবনধারা কোন প্রাচীন সভ্যতার সঙ্গে মিল রয়েছে? পাঠ্যবইয়ের আলোকে ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    দৃশ্যপট-২ এ বর্ণিত ঘটনাটি কি সামরিক নগররাষ্ট্রের প্রতিচ্ছবি? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    'ইয়াং' হলো চীনা বিশ্বাসে ইন ও ইয়াং নামক দুটি বিপরীত শক্তির একটি, যা পুরুষ, আলো ও সক্রিয়তার প্রতীক।

  2. খ)

    আলেকজান্ডার গ্রিস থেকে অভিযান চালিয়ে পারস্য, মিশর ও প্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চল জয় করেন। এসব অঞ্চলে গ্রিক ভাষা, শিল্প ও জীবনধারা ছড়িয়ে পড়ে। একই সঙ্গে স্থানীয় পারসিক, মিশরীয় ও প্রাচ্য সংস্কৃতির সঙ্গে গ্রিক সংস্কৃতির মিশ্রণ ঘটে। এই সংমিশ্রণের ফলে যে নতুন সংস্কৃতি গড়ে ওঠে, তাকেই হেলেনিস্টিক সংস্কৃতি বলা হয়।

  3. গ)

    দৃশ্যপট-১-এর জীবনধারার সঙ্গে প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতার মিল রয়েছে।

    দৃশ্যপট-১-এ নদীর তীরের উর্বর জমিকে ঘিরেই ঢাকার জন্ম ও বিকাশ এবং মানুষের কৃষি ও পশুপালনে নিয়োজিত থাকার কথা বলা হয়েছে। মিশরীয় সভ্যতাও নীল নদের তীরে গড়ে ওঠে। নীল নদের বন্যায় পলি পড়ে জমি উর্বর হতো। সেই জমিতে মিশরীয়রা গম, যবসহ বিভিন্ন ফসল ফলাত এবং পশুপালন করত। ইতিহাসবিদদের মতে 'মিশর নীল নদের দান'। নদীনির্ভর কৃষি ও পশুপালনভিত্তিক এই জীবনধারাই দুটির মিল।

  4. ঘ)

    দৃশ্যপট-২-এ বর্ণিত ঘটনাটি সামরিক নগররাষ্ট্র স্পার্টার প্রতিচ্ছবি— আমি এ মতের পক্ষে।

    দৃশ্যপট-২-এ সোহেল সেনানিবাসে থেকে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সর্বদা যুদ্ধের প্রস্তুতি নেন এবং সামরিক শক্তি অক্ষুণ্ণ রাখতে সতর্ক থাকেন।

    ১. স্পার্টায় প্রতিটি পুরুষ নাগরিক ছিল সৈনিক। শিশু বয়স থেকেই (সাত বছর) রাষ্ট্র তাদের কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণ দিত।
    ২. সৈনিকরা কঠোর শৃঙ্খলা ও সংযমের মধ্যে জীবনযাপন করত। সোহেলের শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবন তারই অনুরূপ।
    ৩. স্পার্টার মূল লক্ষ্য ছিল সামরিক শক্তি বজায় রেখে রাষ্ট্রকে রক্ষা করা। সোহেলও একই লক্ষ্যে প্রস্তুত থাকেন।

    সুতরাং, সামরিক প্রস্তুতি ও শৃঙ্খলার দিক থেকে দৃশ্যপট-২ স্পার্টার প্রতিচ্ছবি।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন