বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫

বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন

  1. ক)

    পোড়ামাটির নীতি কী?

    (1)
  2. খ)

    তাসখন্দ চুক্তি কেন সম্পাদিত হয়েছিল?

    (2)
  3. গ)

    ছক-১ এর খ অঞ্চলটির সাথে তৎকালীন পাকিস্তানের কোন অঞ্চলের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    তুমি কি মনে কর, পাকিস্তান আমলে ছক-১ এর চেয়ে ছক-২ এর তথ্যগুলো বাঙালিদেরকে স্বাধিকার অজ্জ্বনর জন্য অধিক উদ্বুদ্ধ করে? বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    যুদ্ধের সময় পশ্চাদপসরণকালে ঘরবাড়ি, ফসল, সেতু ও সবকিছু পুড়িয়ে ধ্বংস করে দেওয়ার যে কৌশল, তাকে পোড়ামাটির নীতি বলে। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সেনারা এ নীতি অনুসরণ করে।

  2. খ)

    ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ কোনো পক্ষের চূড়ান্ত জয় ছাড়াই থেমে যায়। যুদ্ধ-পরবর্তী উত্তেজনা কমিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে সোভিয়েত প্রধানমন্ত্রী কোসিগিনের মধ্যস্থতায় ১৯৬৬ সালের জানুয়ারিতে তাসখন্দ চুক্তি সম্পাদিত হয়।

    এই চুক্তিতে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী লাল বাহাদুর শাস্ত্রী উভয় দেশের সৈন্য যুদ্ধপূর্ব অবস্থানে ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সম্মত হন।

  3. গ)

    ছক-১-এ প্রশাসনিক পদে ‘ক’ অঞ্চলের কর্মকর্তা ৯৩% এবং ‘খ’ অঞ্চলের মাত্র ৭%। এ থেকে বোঝা যায়, ‘খ’ অঞ্চলটি তৎকালীন পাকিস্তানের পূর্ব পাকিস্তানের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

    পাকিস্তান আমলে জনসংখ্যায় বেশি হওয়া সত্ত্বেও পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিরা প্রশাসন, সামরিক ও অন্যান্য উচ্চপদে খুব কম সুযোগ পেত। আর ‘ক’ অঞ্চল তুলনামূলক বেশি সুবিধা ভোগ করা পশ্চিম পাকিস্তানের মতো। এই বৈষম্যই ছকে ফুটে উঠেছে।

  4. ঘ)

    হ্যাঁ, আমার মতে ছক-২-এর তথ্য ছক-১-এর চেয়ে বাঙালিকে স্বাধিকার অর্জনে অধিক উদ্বুদ্ধ করেছিল।

    ১. ছক-২-এর হিসাব: প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় ‘ক’ অঞ্চলে ৫০০ কোটি ও ‘খ’ অঞ্চলে ১১৩ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়। অর্থাৎ ‘খ’ পায় মোট 113500+113×100≈18.4%\frac{113}{500+113} \times 100 \approx 18.4\%। দ্বিতীয় পরিকল্পনায় ‘ক’-এর ১৩৫০ ও ‘খ’-এর ৯৫০ কোটি টাকার হিসাবে ‘খ’ পায় 9501350+950×100≈41.3%\frac{950}{1350+950} \times 100 \approx 41.3\%, যা জনসংখ্যার অনুপাতে এখনো কম।
    ২. অর্থনৈতিক বৈষম্য সব সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা, কৃষি ও শিল্পকে সরাসরি প্রভাবিত করেছে। এ কারণেই বাঙালি অর্থনৈতিক স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে ৬ দফা তোলে।
    ৩. ছক-১-এর প্রশাসনিক বৈষম্য মূলত শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণিকে বেশি ক্ষুব্ধ করেছিল।

    সুতরাং, ছক-১ গুরুত্বপূর্ণ হলেও ছক-২-এর অর্থনৈতিক বঞ্চনার চিত্রই বাঙালিকে ব্যাপকভাবে স্বাধিকারের জন্য উদ্বুদ্ধ করেছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন