বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৬

বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন

মমিনপুর এলাকার চেয়ারম্যান দিলীপ কুমার একজন প্রজাবৎসল, শিক্ষানুরাগী, ধর্ম নিরপেক্ষ ব্যক্তি। তিনি তার এলাকায় হিন্দুদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জন্য জমি দান করেন। তিনি অনেকগুলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণ করেন। তার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শিক্ষার্থীরা পড়তে আসে। তিনি সে সব শিক্ষার্থীদের থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা করেন।

  1. ক)

    'ব্রহ্মক্ষত্রিয়' কী?

    (1)
  2. খ)

    ত্রি-শক্তির সংঘর্ষ বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের সাথে তোমার পঠিত কোন পাল রাজার কর্মকাণ্ডের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    তুমি কি মনে কর, “উক্ত শাসকই ছিলেন পাল বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ শাসক”? তোমার মতের সপক্ষে যুক্তি দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    ব্রহ্মক্ষত্রিয় হলো সেন রাজাদের নিজেদের পরিচয়ে ব্যবহৃত শব্দ, যার অর্থ ব্রাহ্মণ বংশজাত হয়েও ক্ষত্রিয়ের কর্ম গ্রহণকারী।

  2. খ)

    ত্রি-শক্তির সংঘর্ষ বলতে পাল, গুর্জর-প্রতিহার ও রাষ্ট্রকূট— এই তিন শক্তির মধ্যে কনৌজ (কান্যকুব্জ) দখল ও উত্তর ভারতের কর্তৃত্ব নিয়ে সংঘটিত দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধকে বোঝায়। কনৌজ ছিল রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ, তাই এর অধিকার লাভে তিন শক্তি বারবার সংঘর্ষে জড়ায়। এই সংঘর্ষে পাল বংশ ধর্মপাল ও দেবপালের সময় সক্রিয় ছিল।

  3. গ)

    উদ্দীপকের চেয়ারম্যান দিলীপ কুমারের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে পাল রাজা ধর্মপালের কর্মকাণ্ডের সাদৃশ্য রয়েছে।

    দিলীপ কুমার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণ করেছেন, বিভিন্ন অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করেছেন এবং ধর্ম নিরপেক্ষভাবে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে জমি দান করেছেন। ধর্মপালও সোমপুর ও বিক্রমশীল মহাবিহার প্রতিষ্ঠা করেন, যেখানে দেশ-বিদেশের শিক্ষার্থীরা পড়তে আসত এবং তাদের আবাসন ও ভরণপোষণের ব্যবস্থা ছিল। তিনি নিজে বৌদ্ধ হয়েও অন্য ধর্মের প্রতি সহনশীল ছিলেন।

  4. ঘ)

    উদ্দীপকের ব্যক্তি ধর্মপালকে নির্দেশ করে। তাঁকে পাল বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ শাসক বলার পক্ষে যুক্তি রয়েছে।

    ১. ধর্মপাল পাল সাম্রাজ্যের ভিত্তি সুদৃঢ় করেন এবং ত্রি-শক্তির সংঘর্ষে অংশ নিয়ে কনৌজ পর্যন্ত প্রভাব বিস্তার করেন।
    ২. তিনি সোমপুর ও বিক্রমশীল মহাবিহার প্রতিষ্ঠা করে শিক্ষা-সংস্কৃতির বিকাশে বিরাট অবদান রাখেন।
    ৩. তিনি বৌদ্ধ ধর্মের পৃষ্ঠপোষক হয়েও সহনশীল নীতি অনুসরণ করেন।
    ৪. তবে দেবপালের শাসনামলে সাম্রাজ্য আরও বিস্তৃত হয়েছিল, তাই কেউ কেউ তাঁকেও শ্রেষ্ঠ মনে করেন।

    সুতরাং, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অবদানের বিচারে ধর্মপালকে পাল বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ শাসকদের একজন বলা সংগত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন