বিজ্ঞান • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৯
বিজ্ঞান প্রশ্ন
- ক)(1)
সিরাম কাকে বলে?
- খ)(2)
একই ধরনের অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টিবডি একই ব্যক্তির রক্তে থাকে না কেন?
- গ)(3)
A চিত্রের অঙ্গাণুটির গঠন ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
কার্যকারিতার দিক থেকে B ও C এর ভূমিকা কি একই? বিশ্লেষণপূর্বক মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
রক্ত জমাট বাঁধার পর যে স্বচ্ছ রস পাওয়া যায়, অর্থাৎ রক্তরস থেকে জমাট বাঁধার জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিন সরিয়ে নিলে যে তরলটি থাকে, তাকে সিরাম বলে।
- খ)
অ্যান্টিজেন হলো লোহিত কণিকার গায়ে থাকা বিশেষ পদার্থ, আর অ্যান্টিবডি রক্তের সিরামে থাকে এবং অ্যান্টিজেনকে আক্রমণ করে। একই ধরনের অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টিবডি একই রক্তে থাকলে তাদের বিক্রিয়ায় লোহিত কণিকাগুলো গুচ্ছবদ্ধ বা জমাট বেঁধে যেত। এতে রক্ত জমাট বেঁধে প্রাণহানির ঝুঁকি দেখা দিত। উদাহরণ: A গ্রুপের রক্তে A অ্যান্টিজেন থাকে, কিন্তু সিরামে A-এর অ্যান্টিবডি থাকে না, থাকে শুধু B-এর অ্যান্টিবডি।
- গ)
A চিত্রটি হলো মানুষের হৃৎপিণ্ড (এটি অঙ্গাণু নয়, একটি অঙ্গ)। এর গঠন নিচে ব্যাখ্যা করা হলো।
১. অবস্থান: হৃৎপিণ্ড বক্ষগহ্বরে দুই ফুসফুসের মাঝখানে ও মধ্যচ্ছদার ওপরে থাকে। এর প্রশস্ত প্রান্ত ওপরের দিকে এবং ছুঁচালো প্রান্ত নিচের দিকে থাকে।
২. আবরণ: হৃৎপিণ্ড দ্বিস্তরী পেরিকার্ডিয়াম পর্দা দিয়ে ঘেরা। দুই স্তরের মাঝে পেরিকার্ডিয়াল ফ্লুইড থাকে, যা সংকোচনে সাহায্য করে।
৩. প্রকোষ্ঠ: এটি চারটি প্রকোষ্ঠে গঠিত। ওপরের দুটি ডান ও বাম অলিন্দ এবং নিচের দুটি ডান ও বাম নিলয়। অলিন্দের প্রাচীর পাতলা, কিন্তু নিলয়ের প্রাচীর পুরু ও পেশিবহুল।
৪. রক্তনালি: ডান অলিন্দের সঙ্গে একটি ঊর্ধ্ব মহাশিরা ও একটি নিম্ন মহাশিরা যুক্ত থাকে। - ঘ)
না, কার্যকারিতার দিক থেকে চিত্রের B ও C এর ভূমিকা এক নয়। চিত্র অনুযায়ী B হলো লোহিত রক্তকোষ এবং C হলো শ্বেত রক্তকোষ; দুটিই রক্তকোষ হলেও তাদের কাজ ভিন্ন।
১. B (লোহিত রক্তকোষ) এর কাজ: এটি দ্বি-অতল চাকতির মতো, নিউক্লিয়াসবিহীন (স্তন্যপায়ীতে) এবং হিমোগ্লোবিনে ভরা। এর প্রধান কাজ দেহের প্রতিটি কোষে অক্সিজেন সরবরাহ করা এবং কিছু পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড টিস্যু থেকে ফুসফুসে বহন করা। এ ছাড়া হিমোগ্লোবিনের সাহায্যে রক্তের অম্ল-ক্ষারের সমতা বজায় রাখতে বাফার হিসেবে কাজ করে।
২. C (শ্বেত রক্তকোষ) এর কাজ: এর নির্দিষ্ট আকার নেই, হিমোগ্লোবিনবিহীন এবং নিউক্লিয়াসযুক্ত। এর প্রধান কাজ রোগ প্রতিরোধ। জীবাণু দেহে ঢুকলে মনোসাইট ও নিউট্রোফিল ফ্যাগোসাইটোসিস পদ্ধতিতে জীবাণুকে গ্রাস করে ধ্বংস করে, আর লিম্ফোসাইট অ্যান্টিবডি তৈরি করে।
৩. সংখ্যা ও আয়ুর পার্থক্য: প্রতি ঘনমিলিমিটার রক্তে লোহিত কোষ প্রায় ৪.৫-৫.৫ মিলিয়ন (পুরুষে), আর শ্বেত কোষ ৪-১০ হাজার। লোহিত কোষের আয়ু প্রায় ১২০ দিন, শ্বেত কোষের ১-১৫ দিন।
৪. পরিপূরক সম্পর্ক: দুটি কোষ ভিন্ন কাজ করলেও একে অপরের পরিপূরক। লোহিত কোষ জীবনধারণের জন্য শক্তি উৎপাদনে সহায়তা করে, আর শ্বেত কোষ দেহকে সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে।
সুতরাং, B ও C এর কাজ এক নয়; লোহিত কোষ গ্যাস পরিবহনকারী, আর শ্বেত কোষ দেহের প্রতিরক্ষা বাহিনী।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও