হিন্দু ধর্ম • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৪

হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন

দুঃখ-কষ্ট থেকে মুক্তির জন্য গ্রামবাসী এক বিশেষ দেবীর পূজা করে। এ পূজাটি হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব। ধনী-গরিব শ্রেণিভেদে নতুন জামা-কাপড় পরে এ উৎসবে অংশগ্রহণ করে। অপরদিকে, মালতী দেবীর বিবাহের একযুগ পার হয়েছে কিন্তু তার কোনো সন্তান হয়নি। সন্তান লাভের আশায় বিশেষ এক দেবতার পূজা করে। এতে করে এক বছরের মধ্যে মালতীর কোল আলো করে ফুটফুটে সন্তানের জন্ম হয়।

  1. ক)

    বৈদিক দেবতা কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    কোন পূজার মধ্য দিয়ে নারীকে সম্মান দেখানো হয়? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    দুঃখ-কষ্ট থেকে মুক্তির জন্য গ্রামবাসীরা যে বিশেষ দেবীর পূজা করে, উক্ত দেবীর পরিচয় পাঠ্যপুস্তকের আলোকে ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    মালতী যে বিশেষ দেবতার পূজা করে সন্তান লাভ করে উক্ত দেবতার পূজার গুরুত্ব ও প্রভাব বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    বেদে যে সকল দেবতার কথা বলা হয়েছে, তাঁদের বৈদিক দেবতা বলে। যেমন- অগ্নি, ইন্দ্র, বরুণ, বায়ু।

  2. খ)

    কুমারী পূজা দুর্গাপূজার মহাষ্টমীর দিন অনুষ্ঠিত হয়। নারীকে মাতৃরূপে ও ঈশ্বরীরূপে ভাবনা হিন্দুসাধনা ও পূজার একটি বড় দিক। কুমারীর মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গারই পূজা করা হয়। এতে নারীর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা হয়। তাই এই পূজার মাধ্যমে নারীকে সম্মান জানানো হয়।

  3. গ)

    দুঃখ-কষ্ট থেকে মুক্তির জন্য গ্রামবাসীরা যে দেবীর পূজা করে, তিনি দেবী দুর্গা।

    দেবী দুর্গার পরিচয়: দেবী দুর্গা ঈশ্বরের শক্তির প্রতীক। তিনি আদ্যাশক্তি মহামায়া। 'দুর্গ' শব্দের অর্থ যে স্থানে গমন করা অত্যন্ত দুরূহ। দুর্গম নামক অসুরকে বধ করেছেন বলেও তাঁকে দুর্গা বলা হয়। আবার দুর্গা শব্দের অর্থ দুর্গতিনাশিনী, অর্থাৎ বিশ্বের সকল দুঃখ-কষ্ট বিনাশকারিণী। মহিষাসুর দেবরাজ ইন্দ্রের স্বর্গরাজ্য কেড়ে নিলে দেবতাদের সম্মিলিত তেজ থেকে তিনি আবির্ভূত হন এবং মহিষাসুরকে বধ করেন। তাই তিনি মহিষমর্দিনী। তিনি দশভুজা ও ত্রিনয়না এবং সিংহ তাঁর বাহন।

    উদ্দীপকের সাথে সংযোগ: উদ্দীপকে বলা হয়েছে, দুঃখ-কষ্ট থেকে মুক্তির জন্য এই পূজা করা হয়। এটি হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব। ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবাই নতুন জামা-কাপড় পরে অংশ নেয়। দুর্গাপূজা সর্ববৃহৎ উৎসব, যেখানে ধর্ম-বর্ণ-শ্রেণি নির্বিশেষে সবাই অংশ নেয়। দুর্গতিনাশিনী হিসেবে তিনি দুঃখ দূর করেন, তাই এসব বৈশিষ্ট্য দেবী দুর্গার পূজার সাথে মিলে যায়।

    অতএব, গ্রামবাসীরা দেবী দুর্গার পূজা করে।

  4. ঘ)

    মালতী দেবী সন্তান লাভের আশায় যে দেবতার পূজা করেছেন, তিনি কার্তিক। বিশেষ দেবতার পূজার পর তাঁর কোলে সন্তান এসেছে। কার্তিক পূজার গুরুত্ব ও প্রভাব নিচে বিশ্লেষণ করা হলো।

    কার্তিক দেবের পরিচয়: কার্তিক ভগবান শিবের পুত্র এবং দেবসেনাপতি। হিন্দুধর্মাবলম্বীরা তাঁকে রক্ষাকর্তা হিসেবে পূজা করেন। তাঁর পূজা বিশেষ তিথিতে করা হয়।

    ১. সন্তান কামনা পূরণে বিশ্বাস: সন্তানহীন দম্পতিরা কার্তিক দেবের পূজা করে সুসন্তান লাভের প্রার্থনা করেন। উদ্দীপকে মালতীর বিবাহের একযুগ পরেও সন্তান হয়নি। পূজার পর এক বছরের মধ্যে ফুটফুটে সন্তান জন্ম নেয়। এতে পারিবারিক জীবনে এ পূজার গুরুত্ব বোঝা যায়।

    ২. মানসিক শান্তি ও আশার সঞ্চার: দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ভক্তের মনে ভক্তি ও বিশ্বাস থেকে আশা তৈরি হয়। এতে মানসিক শক্তি বাড়ে এবং হতাশা কেটে যায়।

    ৩. নৈতিক শিক্ষা: দেবসেনাপতি কার্তিক অশুভ ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রামের প্রতীক। তাঁর পূজা ভক্তকে সাহস, শৃঙ্খলা ও কর্তব্যবোধের শিক্ষা দেয়।

    ৪. সামাজিক প্রভাব: পূজাকে কেন্দ্র করে আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা একত্র হন। এতে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সামাজিক বন্ধন বাড়ে।

    সুতরাং, কার্তিক পূজা সন্তান লাভের আশা পূরণের পাশাপাশি পারিবারিক সুখ, মানসিক শান্তি ও নৈতিক শিক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন