ইসলাম • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৬
ইসলাম প্রশ্ন
জনাব আনিস স্থানীয় বিদ্যালয়ে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা লাভ করে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের আশায় সৌদি আরবের উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ে গমন করেন। সেখানে পাঁচ বছর অবস্থান করে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষ পাণ্ডিত্য অর্জন করেন। দেশে ফিরে এসে মানুষকে আল্লাহর পথে আহ্বান করার কাজে আত্মনিয়োগ করেন। অপরদিকে তাঁর ভাই আশরাফ সাহেব একজন ব্যবসায়ী। তিনি তার দোকানের কর্মচারীদেরকে অত্যন্ত ভালোবাসেন। সময়মত কর্মচারীদের মাসিক বেতন ও অন্যান্য ভাতাদি পরিশোধ করেন। তার দোকানের কর্মচারী আল আমীন অসুস্থ হলে ঢাকায় নিয়ে সু-চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। চিকিৎসা চলাকালীন তার পরিবারের সমস্ত ব্যয়ভার বহন করেন।
- ক)(1)
শিক্ষার্থী কারা?
- খ)(2)
জিহাদের সর্বোচ্চ স্তরটি ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
জনাব আনিস কোন ধরনের শিক্ষা অর্জন করেছেন? পাঠ্যবইয়ের আলোকে ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
আশরাফ সাহেবের কর্মকাণ্ডে ইঙ্গিতকৃত বিষয়টি চিহ্নিতপূর্বক মানবকল্যাণে এর ভূমিকা পাঠ্যবইয়ের আলোকে মূল্যায়ন কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
যারা শিক্ষকের কাছ থেকে জ্ঞান অর্জন করে বা শিক্ষা গ্রহণ করে, তাদের শিক্ষার্থী বলে।
- খ)
জিহাদের সর্বোচ্চ স্তর হলো আল্লাহর পথে ইসলাম ও মানবতার রক্ষায় জান ও মাল উৎসর্গ করে সংগ্রাম করা। এ পথে যারা শাহাদাত বরণ করেন, তাদের মর্যাদা আল্লাহর কাছে অনেক বেশি। তবে এ ধরনের জিহাদ নির্দিষ্ট শর্ত ও নিয়মের অধীনে বৈধ এবং অন্যায় রক্তপাত নিষিদ্ধ। হাদিসে জালিম শাসকের সামনে সত্য কথা বলাকেও উত্তম জিহাদ বলা হয়েছে।
- গ)
জনাব আনিস ধর্মীয় (দ্বীনি) শিক্ষা অর্জন করেছেন, যা ফরজে কিফায়া পর্যায়ের শিক্ষা।
ইসলামি শিক্ষার কিছু অংশ প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ফরজ (ফরজে আইন), যেমন ইমান, নামাজ, রোজার প্রাথমিক জ্ঞান। আর কিছু শিক্ষা এমন, যা সমাজের কিছু লোক অর্জন করলেই সবার পক্ষ থেকে আদায় হয়ে যায়। একে ফরজে কিফায়া বলে। উদ্দীপকে আনিস উচ্চতর ডিগ্রির জন্য উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঁচ বছর অবস্থান করে বিশেষ পাণ্ডিত্য অর্জন করেছেন এবং দেশে ফিরে মানুষকে আল্লাহর পথে আহ্বান করছেন। এই বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের ধর্মীয় জ্ঞান সমাজের জন্য অত্যন্ত জরুরি, তাই তাঁর শিক্ষা ফরজে কিফায়া ধর্মীয় শিক্ষা।
- ঘ)
আশরাফ সাহেবের কর্মকাণ্ডে ইঙ্গিতকৃত বিষয়টি হলো শ্রমিকের অধিকার ও মালিক-শ্রমিক সম্পর্ক। তিনি কর্মচারীদের ভালোবাসেন, সময়মতো বেতন-ভাতা দেন এবং অসুস্থ আল আমীনের চিকিৎসা ও পরিবারের খরচ বহন করেন।
পাঠ্যবইয়ের আলোকে মানবকল্যাণে এর ভূমিকা:
১. ন্যায্য মজুরি ও হাদিস: রাসুলুল্লাহ (স) বলেছেন, "শ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগেই তার পারিশ্রমিক দিয়ে দাও।" (ইবনে মাজাহ) আশরাফ সাহেব এ নির্দেশ পালন করেছেন।
২. ভ্রাতৃত্ব ও সহমর্মিতা: কর্মচারীর বিপদে পাশে দাঁড়ানো ইসলামের ভ্রাতৃত্বের শিক্ষা।
৩. শোষণমুক্ত সমাজ: শ্রমিকের অধিকার নিশ্চিত হলে শোষণ কমে এবং ধনী-দরিদ্রের মধ্যে সম্প্রীতি বাড়ে।
৪. উৎপাদন বৃদ্ধি: সন্তুষ্ট কর্মচারী আন্তরিকভাবে কাজ করে, ফলে ব্যবসায় উন্নতি হয়।সুতরাং, শ্রমিকের প্রতি ইসলামি আচরণ মানবকল্যাণ ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও