ইসলাম • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২০
ইসলাম প্রশ্ন
শান্তিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জনাব রহিম উদ্দিন। একদিন জুমার নামাজ আদায় করার জন্য প্রথম সারিতে দাঁড়ান। দিনমজুর মফিজ মিয়া তখন নামাজ আদায়ের জন্য চেয়ারম্যান সাহেবের পাশে গিয়ে দাঁড়ালে চেয়ারম্যান সাহেব ধমক দিয়ে মফিজ মিয়াকে বলেন, তুমি পেছনের সারিতে গিয়ে দাঁড়াও। চেয়ারম্যান সাহেবের বড় ভাই ছমির উদ্দিন আরবি বছরের বিশেষ একটি মাসে বেশি বেশি দান-সাদকা করেন এবং সারা মাস ইবাদত পালন করেন। তিনি মনে করেন ঐ মাসের বিশেষ ইবাদত মানুষকে যাবতীয় পাপ কাজ থেকে বিরত রাখতে পারে।
- ক)(1)
হাক্কুল্লাহ কী?
- খ)(2)
ছাত্র-শিক্ষকের মধ্যে সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিত? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
জনাব রহিম উদ্দিন সাহেবের আচরণে সালাতের কোন শিক্ষাটি উপেক্ষিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
জনাব ছমির উদ্দিন যে ইবাদত পালন করেন তা চিহ্নিতপূর্বক এর সামাজিক গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
আল্লাহর সাথে সম্পর্কিত অধিকার বা ইবাদতসমূহকে হাক্কুল্লাহ (আল্লাহর হক) বলে।
- খ)
ছাত্র ও শিক্ষকের সম্পর্ক হওয়া উচিত পিতা-পুত্র ও শ্রদ্ধা-স্নেহের সম্পর্কের মতো। শিক্ষক ছাত্রকে জ্ঞান দান করেন, তাই ছাত্রের উচিত তাঁকে সম্মান করা, তাঁর কথা মান্য করা এবং তাঁর জন্য দোয়া করা। শিক্ষকেরও উচিত ছাত্রদের সন্তানের মতো স্নেহ করা, আন্তরিকভাবে শেখানো এবং সৎ পথ দেখানো। এই পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসাই শিক্ষা ও সমাজের উন্নতির ভিত্তি।
- গ)
জনাব রহিম উদ্দিনের আচরণে সালাতের সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের শিক্ষা উপেক্ষিত হয়েছে।
সালাতে ধনী-গরিব, ছোট-বড়, শিক্ষিত-অশিক্ষিত সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একই কাতারে দাঁড়ায়। এখানে পদমর্যাদার কোনো ভেদাভেদ নেই। উদ্দীপকে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রহিম উদ্দিন জুমার নামাজে প্রথম সারিতে পাশে দাঁড়ানো দিনমজুর মফিজ মিয়াকে ধমক দিয়ে পেছনের সারিতে যেতে বলেন। এতে তিনি নিজের পদমর্যাদাকে বড় করে দেখিয়েছেন এবং সালাতের সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের শিক্ষা অগ্রাহ্য করেছেন।
- ঘ)
জনাব ছমির উদ্দিন রমজান মাসের সিয়াম (রোজা) ইবাদত পালন করেন। উদ্দীপকে আরবি বছরের বিশেষ মাসে সারা মাস ইবাদত করা, বেশি দান-সাদকা করা এবং এই ইবাদত পাপ থেকে বিরত রাখার বিশ্বাস রমজানের সিয়ামের বৈশিষ্ট্যের সাথে মেলে।
সিয়ামের সামাজিক গুরুত্ব:
১. সহমর্মিতা ও সহানুভূতি: রোজাদার ক্ষুধার কষ্ট অনুভব করে, ফলে সে গরিব ও অভাবী মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল হয় এবং দান-সাদকায় উৎসাহিত হয়।
২. সাম্য ও ভ্রাতৃত্ব: ধনী-গরিব সবাই একই নিয়মে রোজা রাখে ও একসাথে ইফতার করে, এতে সামাজিক সম্প্রীতি বাড়ে।
৩. আত্মসংযম ও তাকওয়া: রোজা মানুষকে মিথ্যা, গিবত, অশ্লীলতাসহ সব পাপ থেকে বিরত রাখে এবং সংযমী ও সৎ করে তোলে। এতে সমাজে অপরাধ কমে।
৪. শৃঙ্খলা: নির্দিষ্ট সময়ে সাহরি ও ইফতারের মাধ্যমে মানুষ নিয়মানুবর্তিতা শেখে।সুতরাং, সিয়াম ব্যক্তিগত ইবাদতের পাশাপাশি সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও