বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৬
বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন
দৃশ্য-১: ইকবাল সাহেব উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান। তিনি তার উপজেলার উন্নয়নকল্পে বহু রাস্তাঘাট ও সেতু নির্মাণ করেন। ইকবাল সাহেব জনগণের কল্যাণের কথা মাথায় রেখে উৎপাদিত পণ্য অন্নদামে বিক্রির উদ্যোগ নেন।দৃশ্য-২: রাসেল সাহেব একজন বড় ব্যবসায়ী। তিনি চট্টগ্রাম থেকে মালামাল এনে ঢাকায় বিক্রি করেন। তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কর্মচারী নিয়োগের ব্যাপারে হিন্দু-মুসলমান ভেদাভেদ করেন না। কর্মচারীদের কাছে তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয়।
- ক)(1)
নিজামত কী?
- খ)(2)
বখতিয়ার খলজিকে কেন ভাগ্যান্বেষী সৈনিক বলা হয়?
- গ)(3)
ইকবাল সাহেব মুঘল আমলের কোন সুবাদারের কর্মকাণ্ডকে অনুসরণ করে দ্রব্য বিক্রির উদ্যোগ নেন? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
দৃশ্য-২ এ রাসেল সাহেব হুসেন শাহি বংশের যে শাসকের প্রতিনিধিত্ব করছে- তার উন্নয়ন কার্যক্রম বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
নিজামত হলো মুঘল আমলে বাংলায় সুবাদারের অধীনে সামরিক শাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও ফৌজদারি বিচারসংক্রান্ত প্রশাসন।
- খ)
ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বখতিয়ার খলজি ছিলেন দরিদ্র ও সাধারণ পরিবারের সন্তান। শারীরিক গঠনের ত্রুটির কারণে তিনি সামরিক বাহিনীতে চাকরি পাননি। তাই ভাগ্য ফেরানোর আশায় তিনি একের পর এক স্থানে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং নিজের সাহসে এগিয়ে যান। শেষে নিজ চেষ্টায় বিহার ও বাংলা জয় করেন। এ কারণে তাঁকে ভাগ্যান্বেষী সৈনিক বলা হয়।
- গ)
ইকবাল সাহেব মুঘল আমলের সুবাদার শায়েস্তা খান-এর কর্মকাণ্ড অনুসরণ করে অল্প দামে দ্রব্য বিক্রির উদ্যোগ নেন।
শায়েস্তা খান বাংলার সুবাদার থাকাকালে জনগণের কল্যাণে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখেন। তাঁর আমলে টাকায় আট মণ চালও পাওয়া যেত। ইকবাল সাহেবও জনগণের কল্যাণের কথা ভেবে উৎপাদিত পণ্য অল্প দামে বিক্রির ব্যবস্থা করেন। শায়েস্তা খান রাস্তাঘাট ও সেতু নির্মাণেও মনোযোগী ছিলেন, যা ইকবাল সাহেবের উন্নয়নকাজের সঙ্গেও মিলে যায়।
- ঘ)
দৃশ্য-২-এ রাসেল সাহেব হুসেন শাহি বংশের শাসক আলাউদ্দিন হুসেন শাহ-এর প্রতিনিধিত্ব করছেন।
রাসেল সাহেব কর্মচারী নিয়োগে হিন্দু-মুসলমান ভেদাভেদ করেন না। হুসেন শাহও ধর্মীয় সহনশীলতার জন্য বিখ্যাত ছিলেন। তাঁর উন্নয়ন কার্যক্রম ছিল নিম্নরূপ।
১. প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক: তিনি হাবশি শাসনের অবসান ঘটিয়ে দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনেন। সরকারি পদে যোগ্য হিন্দুদেরও নিয়োগ দেন।
২. সাহিত্য ও সংস্কৃতি: তাঁর আমলে বাংলা সাহিত্যের ব্যাপক বিকাশ ঘটে; মহাভারতের বাংলা অনুবাদ হয় এবং বহু কবি পৃষ্ঠপোষকতা পান।
৩. ধর্মীয় সম্প্রীতি ও স্থাপত্য: হিন্দু-মুসলমান সম্প্রীতি বজায় থাকায় এ সময় শ্রীচৈতন্যদেবের বৈষ্ণব আন্দোলন বিকশিত হয়। তিনি মসজিদ, মাদ্রাসা, সরাই ও জলাশয় নির্মাণ করেন।
৪. অর্থনীতি: দেশে শান্তি থাকায় ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষি উন্নতি লাভ করে।সুতরাং, রাসেল সাহেবের উদার ও সম্প্রীতিমূলক কাজে হুসেন শাহের জনকল্যাণমূলক শাসনেরই প্রতিফলন ঘটেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও