হিন্দু ধর্ম • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৪

হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন

ড. রোজারী জাপান থেকে সিলেটে আসেন কাজে। এয়ারপোর্ট থেকে আম্বরখানায় টেক্সি করে আসার পথে পাসপোর্ট ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রসহ হ্যান্ডব্যাগটি গাড়িতে রেখেই নেমে পড়েন। বিকেল বেলায় টেক্সিচালক তার গাড়িতে হ্যান্ডব্যাগটি দেখতে পেয়ে বিস্মিত হন। অতঃপর চালক মাইক যোগে প্রাপ্তি বিজ্ঞপ্তি প্রচার করেন। ডঃ রোজারী মাইকিং শুনে তার ব্যাগটি ফিরে পান। এতে খুশি হয়ে টেক্সিচালককে পাঁচ হাজার টাকা পুরস্কার দেন।

  1. ক)

    শিষ্টাচার কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    'নমস্কার প্রণামের প্রতিশব্দ'- বুঝিয়ে লেখো।

    (2)
  3. গ)

    টেক্সিচালকের আচরণে কোন গুণটি প্রকাশ পেয়েছে? বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    টেক্সিচালক কি জলদেবীর প্রতিচ্ছবি? পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    নম্র, ভদ্র বা শিষ্ট আচারকে শিষ্টাচার বলে।

  2. খ)

    প্রণাম বলতে প্রকৃষ্টরূপে নমন বা নমস্কার করা বোঝায়। প্রণাম চার প্রকার: অভিবাদন, পঞ্চাঙ্গ প্রণাম, অষ্টাঙ্গ প্রণাম ও নমস্কার।
    নমস্কার হলো হাত জোড় করে মাথায় ঠেকানো। শ্রদ্ধা ও ভক্তি প্রকাশের এই উপায়ে প্রণামেরই ভাব প্রকাশ পায়। উভয়ের উদ্দেশ্য বড়দের ও দেবদেবীর প্রতি শ্রদ্ধা জানানো।
    তাই বলা হয়, নমস্কার প্রণামের প্রতিশব্দ।

  3. গ)

    টেক্সিচালকের আচরণে সততা গুণটি প্রকাশ পেয়েছে।
    সততার ধারণা: সততা হলো নিজের লাভ-লোভ ত্যাগ করে সত্য ও ন্যায়ের পথে থাকা, পরের জিনিসের প্রতি লোভ না করা এবং যার যা প্রাপ্য তাকে তা ফিরিয়ে দেওয়া। পাঠ্যপুস্তকে বলা হয়েছে, 'সততাই উৎকৃষ্ট পন্থা'। মিথ্যাচার নয়, সততাই জীবনের শ্রেষ্ঠ পথ। সততা ধর্মের দশ লক্ষণের একটি, অস্তেয় বা চুরি না করার সঙ্গেও এর মিল আছে।
    উদ্দীপকের সঙ্গে সম্পর্ক: ড. রোজারী পাসপোর্ট ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রসহ হ্যান্ডব্যাগ ট্যাক্সিতে ফেলে গিয়েছিলেন। চালক ব্যাগটি পেয়ে তা নিজের কাছে রাখেননি, বরং মাইকে প্রাপ্তি বিজ্ঞপ্তি প্রচার করে মালিককে ফিরিয়ে দিয়েছেন। লোভ করার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি অন্যের জিনিস ফেরত দিয়েছেন।
    তাই চালকের আচরণে সততা প্রকাশ পেয়েছে।

  4. ঘ)

    না, টেক্সিচালক জলদেবীর প্রতিচ্ছবি নন। বরং তিনি পাঠ্যপুস্তকের গরিব কাঠুরিয়ার প্রতিচ্ছবি, আর জলদেবীর প্রতিচ্ছবি ড. রোজারী।
    পাঠ্যপুস্তকের গল্প: দরিদ্র কাঠুরিয়ার কুঠার নদীতে পড়ে গেলে জলদেবী সোনার ও রুপার কুঠার তুলে আনেন। কাঠুরিয়া সোনা বা রুপার কুঠারটি নিজের নয় বলে সত্য কথা বলেন এবং শুধু নিজের লোহার কুঠারটি চান। তাঁর সততায় মুগ্ধ হয়ে জলদেবী তাঁকে সোনা ও রুপার কুঠারও দিয়ে দেন।
    ১. চালকের সঙ্গে কাঠুরিয়ার মিল: সোনার কুঠার নিয়ে নেওয়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও কাঠুরিয়া লোভ করেননি। তেমনি চালক পাসপোর্ট ও দামি কাগজপত্র রেখে দেওয়ার সুযোগ পেয়েও তা মালিককে ফিরিয়ে দিয়েছেন। দুজনের সততা ও লোভহীনতা একই।
    ২. ড. রোজারীর সঙ্গে জলদেবীর মিল: জলদেবী সততায় মুগ্ধ হয়ে কাঠুরিয়াকে পুরস্কার দিয়েছিলেন। ড. রোজারীও খুশি হয়ে চালককে পাঁচ হাজার টাকা পুরস্কার দিয়েছেন। অর্থাৎ পুরস্কারদাতার ভূমিকা জলদেবীর মতো ড. রোজারী পালন করেছেন, চালক নন।
    ৩. ভূমিকার পার্থক্য: জলদেবী সততার পরীক্ষক ও পুরস্কারদাতা। চালক সততা প্রদর্শনকারী ও পুরস্কারপ্রাপ্ত। তাই চালকের ভূমিকা জলদেবীর নয়, কাঠুরিয়ার।
    সুতরাং, টেক্সিচালক জলদেবীর নন, গরিব কাঠুরিয়ার প্রতিচ্ছবি। এই ঘটনা প্রমাণ করে, সততাই উৎকৃষ্ট পন্থা।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন