হিন্দু ধর্ম • Combined Board • সকল বোর্ড ২০১৬

হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন

অমরেন্ত বাবু একজন ধর্মপ্রাণ মানুষ। যেখানে ধর্ম অনুষ্ঠান হয় সেখানে উপস্থিত হয়ে ধর্মের কথা শ্রবণ করেন। তিনি জীবনে মোক্ষলাভের পথ খোঁজেন এবং জানতে পারেন একমাত্র নিষ্কামকর্মের মাধ্যমে মোক্ষলাভ সম্ভব। তিনি মনে করেন, মানবজীবনের একমাত্র লক্ষ্য হচ্ছে মোক্ষলাভ।

  1. ক)

    ভগবান শ্রীকৃষ্ণ কোন যুগে এসেছেন?

    (1)
  2. খ)

    সকামকর্ম বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    কেন অমরেন্ত বাবু নিষ্কামকর্ম বেছে নিলেন? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    'নিষ্কামকর্মের মাধ্যমেই মোক্ষলাভ সম্ভব'- সপক্ষে যুক্তি দেখাও

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    ভগবান শ্রীকৃষ্ণ দ্বাপর যুগে এসেছেন।

  2. খ)

    যখন বিশেষ কোনো ফলের আশায় কর্ম করা হয়, তখন তাকে সকাম কর্ম বলে। অর্থাৎ এটি কামনা-বাসনাযুক্ত কর্ম। এ কর্মে কর্তার কর্তৃত্বের অভিমান ও ফলাকাঙ্ক্ষা থাকে এবং কর্তা মনে করেন কর্মের ফল তিনিই ভোগ করবেন। সকাম কর্মে জীব জন্ম-মৃত্যুর বন্ধনে আবদ্ধ হয়।

  3. গ)

    অমরেন্দ্র বাবু নিষ্কামকর্ম বেছে নিয়েছেন, কারণ তিনি জেনেছেন একমাত্র নিষ্কামকর্মের মাধ্যমেই মোক্ষলাভ সম্ভব।

    ধারণা : কর্ম দুই প্রকার—সকাম ও নিষ্কাম। সকাম কর্মে ফলের আশা থাকে এবং এর ফলে কর্তা বন্ধনে আবদ্ধ হন। বৈদিক যুগে সকাম কর্মের সর্বোচ্চ ফল ছিল স্বর্গলাভ, কিন্তু পুণ্য ক্ষয় হলে আবার মর্ত্যে জন্ম নিতে হয়, তাই এতে মোক্ষ মেলে না। অপরদিকে নিষ্কাম কর্মে ফলের আশা ত্যাগ করে কর্ম করা হয় এবং এর ফল কর্তাকে স্পর্শ করে না।

    উদ্দীপকের সাথে প্রয়োগ : অমরেন্দ্র বাবু ধর্মপ্রাণ ও মোক্ষলাভের পথের সন্ধানী। তিনি মনে করেন মানবজীবনের একমাত্র লক্ষ্য মোক্ষলাভ। শাস্ত্র অনুযায়ী, সকাম কর্ম বন্ধন সৃষ্টি করে, আর নিষ্কাম কর্মেই মোক্ষলাভ হয়। তাই মোক্ষকামী হিসেবে তিনি নিষ্কামকর্মের পথ বেছে নিয়েছেন।

    অতএব, মোক্ষ অর্জনের উদ্দেশ্যেই অমরেন্দ্র বাবু নিষ্কামকর্ম অনুসরণ করেছেন।

  4. ঘ)

    ‘নিষ্কামকর্মের মাধ্যমেই মোক্ষলাভ সম্ভব’—উক্তিটি যথার্থ। শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ নিষ্কামকর্মকেই কর্মযোগ বলে মোক্ষের উপায় হিসেবে নির্দেশ করেছেন।

    ধারণা : মোক্ষ হলো জন্ম-মৃত্যুর চক্র থেকে মুক্তি। যে কর্ম ফলের আশা ছাড়া ঈশ্বরের কর্ম মনে করে করা হয়, তা নিষ্কাম কর্ম। আর এই নিষ্কাম কর্মই যোগসাধনায় কর্মযোগ।

    ১. সকাম কর্মের সীমাবদ্ধতা : সকাম কর্মে বন্ধন হয়। বৈদিক যুগের যাগযজ্ঞ থেকে স্বর্গ পাওয়া যায়, কিন্তু পুণ্য ক্ষয় হলে আবার জন্ম নিতে হয়। তাই সকাম কর্ম মোক্ষের উপায় নয়, যা অমরেন্দ্র বাবু জেনেছেন।
    ২. কর্মত্যাগ সম্ভব নয় : দ্বাপর যুগে শ্রীকৃষ্ণ সন্ন্যাসবাদীদের মত খণ্ডন করে বলেন, দেহধারী জীবের পক্ষে সম্পূর্ণ কর্মত্যাগ সম্ভব নয়। জীবনধারণের জন্য কর্ম করতেই হবে, তাই কর্মকে যোগে বা নিষ্কাম কর্মে পরিণত করতে হবে।
    ৩. নিষ্কাম কর্মের পদ্ধতি ও ফল : কর্মফল ঈশ্বরে সমর্পণ করা, ‘আমি কর্তা’ এই অনুভূতি না রাখা, নিজ কর্ম অবশ্যই সম্পন্ন করা এবং ফলের আশা ত্যাগ করা—এভাবে কর্ম করলে অন্তরে আনন্দ আসে, ভগবানের প্রতি ভক্তির উদয় হয় এবং ঈশ্বরের অনুগ্রহে মুক্তি ঘটে।
    ৪. গীতার নির্দেশ : ‘কর্মণ্যেবাধিকারস্তে মা ফলেষু কদাচন’—কর্মে অধিকার আছে, ফলে নয়। এই নির্দেশ অনুসরণ করলেই কর্ম মোক্ষের সহায়ক হয়।

    সুতরাং, সকাম কর্ম বন্ধন সৃষ্টি করে, আর নিষ্কাম কর্ম ফলাসক্তি ত্যাগ করে ঈশ্বরের কাছে নিয়ে যায়। অতএব, নিষ্কামকর্মের মাধ্যমেই মোক্ষলাভ সম্ভব।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন