বাংলা ১ম পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২০
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
রায়পুর গ্রামের জমির উর্বরা শক্তি কমে যাওয়ায় সকলে বেশ চিন্তিত হয়ে পড়ে। গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা একত্রে বসে জমির উর্বরতা কীভাবে বাড়ানো যায়, তা নিয়ে অনেক আলোচনা করেও কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। এক পর্যায়ে গ্রামের অভিজ্ঞ কৃষক রহিম মিয়া রাসায়নিক সার এর ব্যবহার কমিয়ে জৈব ও সবুজ সার প্রয়োগের মাধ্যমে এই সমস্যা সমাধানের পরামর্শ দেন। এতে জমির উর্বরতা শক্তি ফিরে আসে এবং কৃষকেরা লাভবান হয়। কিন্তু অনেকেই ঈর্ষান্বিত হয়ে রহিম মিয়ার বিরুদ্ধাচারণ করে।
- ক)(1)
'জুতা-আবিস্কার' কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে?
- খ)(2)
'পদধূলি তত্ত্ব' বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
- গ)(3)
গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা 'জুতা-আবিষ্কার' কবিতায় কাদের প্রতিনিধিত্ব করেছে ? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
“উদ্দীপকের কৃষকই যেন 'জুতা-আবিষ্কার' কবিতার কেন্দ্রীয় চরিত্র"- বক্তব্যটির -মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
'জুতা-আবিষ্কার' কবিতাটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'কল্পনা' কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।
- খ)
রাজার পায়ে ধুলো লাগার সমস্যা নিয়ে রাজসভার পণ্ডিত-সভাসদরা যে দীর্ঘ ও জটিল আলোচনা-গবেষণা করেছিলেন, তাকেই কৌতুক করে 'পদধূলি তত্ত্ব' বলা হয়েছে।
সমস্যাটি ছিল সামান্য, কিন্তু সমাধানের জন্য তাঁরা বড় বড় তত্ত্ব আর বিশাল আয়োজনের কথা ভেবেছেন। অথচ সহজ সমাধান তাঁদের চোখে পড়েনি। এভাবে কবি অকেজো পাণ্ডিত্য ও বাহুল্যপ্রিয়তাকে ব্যঙ্গ করেছেন।
- গ)
উদ্দীপকের গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা 'জুতা-আবিষ্কার' কবিতায় রাজা, তাঁর পাত্রমিত্র, পণ্ডিত ও সভাসদদের প্রতিনিধিত্ব করেছে।
উদ্দীপকে জমির উর্বরতা কমে যাওয়ায় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা একত্রে বসে অনেক আলোচনা করেও কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি। কবিতাতেও রাজার ধুলোর সমস্যা সমাধানে রাজ্যের জ্ঞানী-গুণী ও সভাসদরা জটিল পরামর্শ ও বড় বড় আয়োজনের কথা বলেছেন, কিন্তু সহজ ও কার্যকর সমাধান দিতে পারেননি।
অর্থাৎ দুই ক্ষেত্রেই সমাজের প্রভাবশালী ও বিজ্ঞ বলে পরিচিতরা সমস্যার সমাধানে ব্যর্থ। এ দিক থেকে তারা কবিতার রাজা ও পারিষদদের প্রতিনিধি।
- ঘ)
উদ্দীপকের অভিজ্ঞ কৃষক রহিম মিয়া 'জুতা-আবিষ্কার' কবিতায় সমস্যার সহজ ও বাস্তবসম্মত সমাধানকারী চরিত্রের সঙ্গে মিলে যায়, তবে কবিতার কেন্দ্রীয় চরিত্র নিয়ে মন্তব্যটি সম্পূর্ণ গ্রহণযোগ্য নয়।
১. রহিম মিয়া যেখানে সবাই ব্যর্থ, সেখানে রাসায়নিক সারের বদলে জৈব ও সবুজ সার ব্যবহারের সহজ সমাধান দেন। কবিতাতেও পণ্ডিতদের জটিল পরিকল্পনার বিপরীতে একটি সরল ও কার্যকর উপায়ে ধুলোর সমস্যার সমাধান হয়, যা জুতার আবিষ্কারে পরিণত হয়।
২. উদ্দীপকের কৃষকের মতো অভিজ্ঞতা ও বাস্তব বুদ্ধিই কবিতার সমাধানের মূল শক্তি।
৩. তবে কবিতার কেন্দ্রে আছে রাজা ও পারিষদদের হাস্যকর অতিশয়তা এবং সমাজের অকেজো পাণ্ডিত্যের ব্যঙ্গ। উদ্দীপকে সে ব্যঙ্গের দিক নেই; সেখানে মূলত ফসলের সমস্যার সমাধান ও কিছু মানুষের ঈর্ষা ফুটে উঠেছে।সুতরাং, সমাধানকারী ব্যক্তির দিক থেকে উদ্দীপকের কৃষকের সঙ্গে কবিতার সমাধানদাতার সাদৃশ্য আছে, কিন্তু কবিতার সামগ্রিক ব্যঙ্গ ও কেন্দ্রীয় ভাব উদ্দীপকে অনুপস্থিত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও