হিন্দু ধর্ম • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৪
হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন
সজল বাবু প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে সূর্যকে প্রণাম করেন। স্নান সেরে তিনি মন্দিরে গিয়ে বিভিন্ন উপচারের মাধ্যমে দেবতার পূজা করেন। অন্যদিকে, কাজল বাবু প্রতিদিন সকালে বাগান পরিচর্যা করেন এবং গরিব-দুঃখীদের বিভিন্নভাবে আর্থিক সহযোগিতা করেন।
- ক)(1)
ঈশ্বর কাকে বলে?
- খ)(2)
কাকে নটরাজ বলা হয়? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
সজল বাবুর কর্মকাণ্ডের মধ্যে কোন দিকটি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
কাজল বাবুর অনুসরণকৃত পদ্ধতিতে কি ঈশ্বরলাভ সম্ভব? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি প্রদর্শন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
যিনি সর্বশক্তিমান সৃষ্টিকর্তা এবং সৃষ্টি, স্থিতি ও লয়ের কর্তা, যিনি এক ও অদ্বিতীয় ব্রহ্ম, তিনিই ঈশ্বর।
- খ)
ভগবান শিবকে নটরাজ বলা হয়। শিব সংহার বা প্রলয়ের দেবতা।
তিনি চিকিৎসাশাস্ত্র ও নৃত্যশাস্ত্রসহ বহু বিদ্যায় পারদর্শী। বিশেষ করে নাট্য ও নৃত্যে পারদর্শিতার কারণে তাঁকে নটরাজ বলা হয়।
- গ)
সজল বাবুর কর্মকাণ্ডে সাকার উপাসনা বা ভক্তিযোগের দিকটি ফুটে উঠেছে।
সাকার উপাসনার ধারণা: উপাসনা দুই প্রকার: সাকার ও নিরাকার। সাকার উপাসনায় প্রতীক বা প্রতিমাকে উদ্দেশ্য করে ব্রহ্মা, বিষ্ণু, শিব, সরস্বতী, লক্ষ্মী প্রভৃতি দেব-দেবীর পূজা করা হয়। একে সগুণ উপাসনা বা ভক্তিযোগও বলে। ভক্তিযোগে ঈশ্বরের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও বিশ্বাস নিয়ে সাকাররূপে তাঁর আরাধনা করা হয়। গীতায় বলা হয়েছে, নির্গুণ ব্রহ্মচিন্তার চেয়ে সগুণ সাকার ঈশ্বরের আরাধনা অপেক্ষাকৃত সহজ। ফুল, দূর্বা, তুলসী পাতা, বিল্বপত্র, চন্দন, আতপচাল, ধূপ ও দীপ প্রভৃতি উপকরণে পূজা করা হয়।
উদ্দীপকের সঙ্গে মিল: সজল বাবু প্রতিদিন সকালে সূর্যকে প্রণাম করেন, স্নান সেরে মন্দিরে গিয়ে বিভিন্ন উপচারের মাধ্যমে দেবতার পূজা করেন। উপচারসহ দেবতার পূজা সাকার উপাসনার বৈশিষ্ট্য।
অতএব, তাঁর কর্মকাণ্ডে সাকার উপাসনা বা ভক্তিযোগের দিক প্রকাশ পেয়েছে।
- ঘ)
কাজল বাবু প্রতিদিন বাগান পরিচর্যা করেন এবং গরিব-দুঃখীদের আর্থিক সহযোগিতা করেন। এটি জীবসেবা বা বৃক্ষ ও জীবের পরিচর্যা। আমার মতে, এ পদ্ধতিতে ঈশ্বরলাভ সম্ভব।
জীবসেবার ধারণা: অপরের সন্তোষ বিধানের জন্য দেহ ও মনের সমন্বয়ে যে কল্যাণকর কাজ করা হয়, তাকে সেবা বলে। জীবের পরিচর্যা, সংরক্ষণ ও বৃদ্ধিকে জীবসেবা বলা হয়। হিন্দুধর্মে ঈশ্বরজ্ঞানে জীবসেবাকে অন্যতম প্রধান ব্রত মনে করা হয়।
১. জীবের মধ্যে ঈশ্বরের অবস্থান: ঈশ্বর জীবাত্মারূপে প্রতিটি জীবের মধ্যে অবস্থান করেন। 'যত্র জীবঃ তত্র শিবঃ'। তাই জীবসেবা করলে ঈশ্বরেরই সেবা করা হয়। কাজল বাবু গরিব-দুঃখীদের সাহায্য করে প্রকৃতপক্ষে ঈশ্বরের সেবাই করেন।
২. স্বামী বিবেকানন্দের বাণী: 'জীবে প্রেম করে যেইজন, সেইজন সেবিছে ঈশ্বর'। ঈশ্বর বহুরূপে আমাদের সামনেই আছেন, তাঁকে অন্যত্র খোঁজার প্রয়োজন নেই।
৩. বৃক্ষসেবা: হিন্দুধর্মে বৃক্ষ একটি জীব এবং বৃক্ষের মধ্যে প্রাণরূপে ঈশ্বর বিরাজিত। তাই বাগানের পরিচর্যাও জীবসেবার অংশ।
৪. নিষ্কাম কর্ম: ফলের আশা না করে মানুষের কল্যাণে কাজ করলে তা নিষ্কাম কর্মে পরিণত হয়, যা মোক্ষলাভের সহায়ক।তবে সজল বাবুর মতো পূজা বা উপাসনাও ঈশ্বরলাভের অন্যতম পথ। গীতায় বলা হয়েছে, যে যেভাবে ঈশ্বরকে ডাকে, তিনি সেভাবেই তুষ্ট হন।
সুতরাং, কাজল বাবুর অনুসৃত জীবসেবার পদ্ধতিতে ঈশ্বরলাভ সম্ভব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও