ভূগোল এবং পরিবেশ • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৩
ভূগোল এবং পরিবেশ প্রশ্ন
মিজান ইউটিউবে বিভিন্ন শিলা সম্পর্কে একটি তথ্যচিত্র দেখছিল। প্রথম শিলাকে নির্দেশ করে আলোচক বললেন, এই ধরনের শিলা সর্বপ্রথম সৃষ্টি হয়েছে। দ্বিতীয় শিলাটি দেখিয়ে বললেন, পলল থেকে এর সৃষ্টি এবং তৃতীয় বা শেষ আর একটি উজ্জ্বল বস্তু দেখিয়ে বললেন, এটি এক সময় কয়লা ছিল।
- ক)(1)
পর্বত কাকে বলে?
- খ)(2)
মরুভূমিতে বাতাসের ক্ষয়ক্রিয়া বেশি হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উজ়ীপকে উল্লিখিত আলোচকের দেখানো প্রথম শিলাটির বিবরণ দাও।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত দ্বিতীয় ও তৃতীয় শিলার কোনটি পৃথিবীর ধীর পরিবর্তন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সৃষ্টি হয়? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
সমুদ্রতল থেকে অন্তত ১,০০০ মিটারের বেশি উঁচু সুবিস্তৃত ও খাড়া ঢালবিশিষ্ট শিলাস্তূপকে পর্বত বলে।
- খ)
মরু এলাকা শুষ্ক, প্রায় বৃষ্টিহীন এবং গাছপালাশূন্য। গাছপালা কম থাকায় মাটি সুদৃঢ় থাকে না। এছাড়া দিনে সূর্যের তাপে এবং রাতের শীতলতায় শিলার সংকোচন ও প্রসারণ ঘটে, ফলে শিলার বন্ধন শিথিল হয়ে যায়। এরপর বায়ুপ্রবাহের আঘাতে শিলা সহজেই বাহিত হয়ে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। তাই মরুভূমিতে বাতাসের ক্ষয়ক্রিয়া বেশি।
- গ)
আলোচকের দেখানো প্রথম শিলাটি, যা সর্বপ্রথম সৃষ্টি হয়েছে, তা আগ্নেয় শিলা (Igneous rock)।
বিবরণ :
১. জন্মের প্রথমে পৃথিবী ছিল এক উত্তপ্ত গ্যাসপিণ্ড। তাপ বিকিরণ করে শীতল হয়ে গলিত অবস্থা থেকে ঘনীভূত বা কঠিন হয়ে এ শিলা গঠিত হয়েছে। পৃথিবীর প্রথম পর্যায়ে সৃষ্টি হয়েছে বলে একে প্রাথমিক শিলা বলে।
২. আগ্নেয়গিরি বা ভূমিকম্পের ফলে ভূত্বকের ফাটল দিয়ে নির্গত গলিত লাভা থেকেও এ শিলা সৃষ্টি হয়। ব্যাসল্ট ও গ্রানাইট এর উদাহরণ।
৩. বৈশিষ্ট্য : এ শিলা স্ফটিকাকার, অস্তরীভূত (স্তর থাকে না), কঠিন ও কম ভঙ্গুর এবং অপেক্ষাকৃত ভারী। এতে জীবাশ্ম দেখা যায় না।
৪. প্রকারভেদ : এটি বহিঃজ ও অন্তঃজ- এ দুই প্রকার। - ঘ)
উদ্দীপকের দ্বিতীয় শিলাটি পাললিক শিলা এবং তৃতীয় শিলাটি রূপান্তরিত শিলা (কয়লা রূপান্তরিত হয়ে সৃষ্ট গ্রাফাইট)। এ দুটির মধ্যে দ্বিতীয় শিলা অর্থাৎ পাললিক শিলা পৃথিবীর ধীর পরিবর্তন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সৃষ্টি হয়।
১. ধীর পরিবর্তন : সূর্যতাপ, বায়ুপ্রবাহ, বৃষ্টিপাত, নদী, হিমবাহ প্রভৃতি প্রাকৃতিক শক্তি দ্বারা যে পরিবর্তন ধীরে ধীরে সংঘটিত হয়, তাকে ধীর পরিবর্তন বলে। এর প্রধান ধাপ বিচূর্ণীভবন, ক্ষয়ীভবন, অপসারণ ও অবক্ষেপণ।
২. পাললিক শিলার গঠন : বৃষ্টি, বায়ু, তুষার, তাপ প্রভৃতির প্রভাবে শিলা ক্ষয়প্রাপ্ত ও বিচূর্ণীভূত হয়। সেই শিলাকণা জলস্রোত, বায়ু ও হিমবাহ দ্বারা বাহিত হয়ে নিম্নভূমি, হ্রদ বা সাগরগর্ভে পলল হিসেবে সঞ্চিত হয়। পরে উত্তাপ ও উপরের স্তরের চাপে জমাট বেঁধে পাললিক শিলা তৈরি হয়। এটি ক্ষয়, অপসারণ ও অবক্ষেপণ প্রক্রিয়ার ফল।
৩. রূপান্তরিত শিলার গঠন : আগ্নেয় ও পাললিক শিলা প্রচণ্ড চাপ, উত্তাপ ও রাসায়নিক ক্রিয়ায় রূপ বদলে রূপান্তরিত শিলা হয়। ভূআন্দোলন, অগ্ন্যুৎপাত ও ভূমিকম্প এর কারণ। এগুলো ভূআন্দোলনজনিত পরিবর্তন, ধীর পরিবর্তনের প্রক্রিয়া নয়।সুতরাং, পাললিক শিলাই পৃথিবীর ধীর পরিবর্তন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সৃষ্টি হয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও