বিজ্ঞান • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৪

বিজ্ঞান প্রশ্ন

বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল বিশেষ দুর্যোগপ্রবণ এলাকা। বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস হয়ে থাকে। তাই দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ ভয় ও শঙ্কার মধ্যে জীবন-যাপন করে।

  1. ক)

    কার্বন দূষণ কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    এসিড বৃষ্টি কেন হয় ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের দ্বিতীয় দুর্যোগটির কারণ ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের দুর্যোগগুলো থেকে পরিত্রাণের উপায় বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে যাওয়াকে কার্বন দূষণ বলে।

  2. খ)

    এসিড বৃষ্টির জন্য প্রাকৃতিক ও মনুষ্যসৃষ্ট দুই ধরনের কারণই দায়ী।

    আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, দাবানল, বজ্রপাত ও গাছপালার পচনের ফলে নাইট্রোজেন অক্সাইড ও সালফার ডাই-অক্সাইড গ্যাস বাতাসে মেশে। কয়লা বা গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, কলকারখানা, ইটের ভাটা, যানবাহন ও গৃহস্থালির চুলা থেকেও এই গ্যাস নির্গত হয়। এই গ্যাসগুলো বাতাসের অক্সিজেন ও বৃষ্টির পানির সাথে বিক্রিয়া করে নাইট্রিক এসিড ও সালফিউরিক এসিড তৈরি করে, ফলে বৃষ্টির পানি এসিডীয় হয়ে পড়ে।

  3. গ)

    উদ্দীপকে বঙ্গোপসাগরে তিনটি দুর্যোগের কথা বলা হয়েছে: নিম্নচাপ, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস। এর দ্বিতীয় দুর্যোগটি হলো ঘূর্ণিঝড় (Cyclone)।

    ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির কারণ:
    ১. উচ্চ তাপমাত্রা: ঘূর্ণিঝড় তৈরি হতে সাগরের তাপমাত্রা প্রায় ২৭° সেলসিয়াসের বেশি হতে হয়। বঙ্গোপসাগরে প্রায় সারা বছরই এই তাপমাত্রা থাকে।
    ২. বাষ্পীভবন ও সুপ্ত তাপ: উত্তপ্ত পানি বাষ্পীভূত হয়ে উপরে উঠে জলকণায় পরিণত হলে সুপ্ত তাপ বাতাসে ছেড়ে দেয়। এতে বাতাস উত্তপ্ত হয়, বাষ্পীভবন আরও বাড়ে এবং বায়ুমণ্ডল অস্থিতিশীল হয়ে নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়।
    ৩. নিম্নচাপ: নিম্নচাপ সৃষ্টি হলে আশপাশের বাতাস প্রচণ্ড বেগে সেদিকে ছুটে আসে এবং কুণ্ডলীয় আকারে ঘুরতে থাকে। এটিই ঘূর্ণিঝড়।

    অতএব, নিম্নচাপ ও সাগরের উচ্চ তাপমাত্রাই ঘূর্ণিঝড়ের মূল কারণ।

  4. ঘ)

    উদ্দীপকের দুর্যোগগুলো হলো নিম্নচাপ, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস। এগুলো প্রাকৃতিক দুর্যোগ হওয়ায় সম্পূর্ণ প্রতিরোধ করা প্রায় অসম্ভব; তবে প্রস্তুতি নিলে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি অনেক কমানো যায়।

    ১. পূর্বাভাস ও সতর্কবাণী: পূর্বাভাস প্রক্রিয়া জোরদার করে সময়মতো সতর্কসংকেত প্রচার করতে হবে, যাতে মানুষ আগেই নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে পারে।
    ২. আশ্রয়কেন্দ্র ও সরিয়ে নেওয়া: উঁচু ও মজবুত আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করতে হবে এবং ঝড়ের সময় নিচু এলাকার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হবে।
    ৩. বাঁধ ও বৃক্ষরোপণ: জলোচ্ছ্বাস ঠেকাতে উপকূলীয় এলাকায় বাঁধ নির্মাণ এবং প্রচুর গাছপালা লাগাতে হবে।
    ৪. পূর্বপ্রস্তুতি ও সচেতনতা: সরকার ও রেড ক্রিসেন্টের সাইক্লোন প্রস্তুতি কার্যক্রমের মতো স্বেচ্ছাসেবী দল গঠন ও জনসচেতনতা বাড়াতে হবে।

    সুতরাং, সময়মতো পূর্বাভাস, আশ্রয়কেন্দ্র, বাঁধ, বনায়ন ও পূর্বপ্রস্তুতির মাধ্যমে এই দুর্যোগগুলোর ক্ষতি থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন