পৌরনীতি ও নাগরিকতা • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৪

পৌরনীতি ও নাগরিকতা প্রশ্ন

মি. সাফিন দুই বছর আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যায়। সে ঐ দেশের সরকারের কাছে তার নাগরিকতার জন্য আবেদন করে এবং কিছু শর্ত সাপেক্ষে সে নাগরিকতা পেয়ে যায়। এর কিছুদিন পর সে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিয়ে করে এবং সেখানে তাদের একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। তার সন্তানটিও ঐ দেশের নাগরিকতা পায়।

  1. ক)

    আইনগত কর্তব্য কী?

    (1)
  2. খ)

    “সকল সুনাগরিকই নাগরিক কিন্তু সকল নাগরিকই সুনাগরিক নয়"- ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    মি. সাফিন ও তার সন্তানের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকতা লাভের মধ্যে পার্থক্য কী? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    মি. সাফিনের সন্তান কোন সূত্রে বাংলাদেশের নাগরিকতা পাবে? মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    রাষ্ট্র কর্তৃক প্রণীত আইন দ্বারা নির্ধারিত যে কাজ নাগরিকের অবশ্যই করা উচিত এবং না করলে শাস্তি পেতে হয়, তাকে আইনগত কর্তব্য বলে। যেমন আইন মেনে চলা ও কর প্রদান করা।

  2. খ)

    যাঁরা রাষ্ট্রের স্থায়ী অধিবাসী এবং রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে অধিকার ভোগ ও কর্তব্য পালন করেন, তাঁরা সবাই নাগরিক। এদের মধ্যে যাঁরা বুদ্ধি, বিবেক ও আত্মসংযম দিয়ে নিজের অধিকার ভোগ করেন ও কর্তব্য সচেতনভাবে পালন করেন, শুধু তাঁরাই সুনাগরিক। অর্থাৎ সুনাগরিক হতে হলে প্রথমে নাগরিক হতে হয়, তাই সকল সুনাগরিকই নাগরিক। কিন্তু যিনি অসৎ বা আইন অমান্যকারী, তিনি নাগরিক হলেও সুনাগরিক নন। তাই সকল নাগরিক সুনাগরিক নন।

  3. গ)

    মি. সাফিন ও তার সন্তান দুজনই মার্কিন নাগরিকতা পেয়েছে, কিন্তু পদ্ধতিতে পার্থক্য আছে।

    ১. মি. সাফিন: সে অন্য দেশ থেকে গিয়ে সরকারের কাছে আবেদন করেছে এবং শর্ত পূরণ করে নাগরিকতা পেয়েছে। এটি অনুমোদনসূত্রে বা আবেদনের মাধ্যমে নাগরিকতা অর্জন।
    ২. সন্তান: সে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করায় আপনা-আপনি নাগরিকতা পেয়েছে। এটি জন্মসূত্রে (জন্মস্থান নীতিতে) নাগরিকতা অর্জন।

    অর্থাৎ, সাফিনের নাগরিকতা আবেদননির্ভর ও শর্তসাপেক্ষ, আর তার সন্তানের নাগরিকতা জন্মের কারণে স্বাভাবিক ও স্বয়ংক্রিয়।

  4. ঘ)

    মি. সাফিনের সন্তান বাংলাদেশের নাগরিকতা পাবে জন্মসূত্রে রক্তসম্পর্ক বা বংশসূত্র নীতিতে, এ বিষয়ে আমি একমত।

    ১. নীতির স্বরূপ: রক্তসম্পর্ক নীতিতে সন্তান পিতা-মাতার নাগরিকতা লাভ করে, সে যে দেশেই জন্মগ্রহণ করুক না কেন।
    ২. প্রয়োগ: সাফিন বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন বলে ধরে নিলে, তার কন্যা বিদেশে জন্ম নিলেও বাংলাদেশের নাগরিকতার দাবি করতে পারবে। বাংলাদেশের সংবিধান ও নাগরিকত্ব আইনে এই নীতি স্বীকৃত।
    ৩. দ্বৈত নাগরিকতা: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জন্মস্থান নীতি মানে বলে কন্যা সেখানকার নাগরিকতাও পেয়েছে। ফলে সে দুই দেশেরই নাগরিক হতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইনের শর্ত মানতে হবে।

    সুতরাং, রক্তসম্পর্ক নীতিতেই সাফিনের সন্তান বাংলাদেশের নাগরিকতা পাবে বলে আমি মনে করি।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন