কৃষিশিক্ষা • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩
কৃষিশিক্ষা প্রশ্ন
রাঙামাটি জেলার মিতু চাকমা তার বাড়ির পাশের টিলাটিতে পেঁপে চাষের সিদ্ধান্ত নেয়। অতঃপর সে সম্পূর্ণ টিলাটি সাধারণভাবে চাষ দিয়ে পেঁপে গাছ লাগিয়ে দেয়। নিয়মিত পরিচর্যায় বাগানটি বেশ সুন্দর হয়ে ওঠে। একদিন সারা রাতব্যাপী প্রবল বৃষ্টিপাত হওয়ায় বাগানে সেচ দিতে হবেনা এই ভেবে সে বেশ খুশি হয়। পর দিন বাগানের অবস্থা দেখে সে হতাশ হয়ে পড়ে।
- ক)(1)
কখন নদী ভাঙন হয়?
- খ)(2)
ভূমিক্ষয়ের অসুবিধা কী? ব্যাখ্যা করো ।
- গ)(3)
মিতু চাকমার হতাশ হয়ে পড়ার কারণ ব্যাখ্যা করো ।
- ঘ)(4)
কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করলে মিতু চাকমার এই ধরনের সমস্যা হতো না ? তোমার মতামত বিশ্লেষণ করো ।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
বর্ষাকালে নদীতে প্রবল স্রোত ও পানির চাপ বেড়ে গেলে নদী ভাঙন হয়।
- খ)
ভূমিক্ষয়ের ফলে জমির উপরের উর্বর স্তর ক্ষয় হয়ে যায়, ফলে মাটির উর্বরতা ও ফসল উৎপাদন কমে। মাটি জলাশয়, নদী ও খালে জমে সেগুলোর গভীরতা কমায়, ফলে বন্যার ঝুঁকি বাড়ে। এছাড়া ভূমিক্ষয়ে কৃষিজমি নষ্ট হয় এবং কৃষকের আর্থিক ক্ষতি হয়।
- গ)
মিতু চাকমা পাহাড়ি টিলার পুরো ঢালে সাধারণ পদ্ধতিতে চাষ করে পেঁপে গাছ লাগিয়েছিলেন। সারা রাত প্রবল বৃষ্টি হওয়ায় ঢাল বেয়ে নেমে আসা পানির স্রোতে টিলার উপরের উর্বর মাটি ধুয়ে যায়। এতে গাছের গোড়ার মাটি সরে গিয়ে গাছ হেলে পড়া বা উপড়ে যাওয়ার মতো ক্ষতি হয়।
ঢালু জমিতে কোনো আচ্ছাদন বা প্রতিরোধ না থাকলে বৃষ্টির পানি দ্রুত নেমে আসে এবং ভূমিক্ষয় ঘটায়। এই ক্ষতি দেখেই মিতু হতাশ হয়েছেন।
- ঘ)
মিতু চাকমা যদি ঢালু টিলায় ভূমিক্ষয় প্রতিরোধের উপযুক্ত পদক্ষেপ নিতেন, তবে এই সমস্যা হতো না। আমার মতে নিচের পদক্ষেপগুলো কার্যকর হতো:
১. কন্টুর চাষ: ঢালের আড়াআড়িভাবে সমান উচ্চতায় সারি করে গাছ লাগালে পানির স্রোত বাধা পায় ও মাটি ধুয়ে যায় না।
২. সোপান বা ধাপ চাষ: টিলাকে ধাপে ধাপে সমতল করে চাষ করলে পানির বেগ কমে ও মাটি ধরে রাখা যায়।
৩. আচ্ছাদন ও বৃক্ষরোপণ: গাছের ফাঁকে ঘাস, লতা বা আচ্ছাদন ফসল লাগালে এবং খড় বা পাতার মালচ দিলে বৃষ্টির সরাসরি আঘাত কমে।সুতরাং, উপযুক্ত পদ্ধতি অনুসরণ করলে টিলার মাটি রক্ষা পেত এবং বাগানের ক্ষতি হতো না।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও