বাংলা ১ম পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২০
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
শাওন সাহেব বিশ্ববিদ্যালয় পড়া শেষে বাবার ব্যবসায় দেখাশুনা করছেন। তিনি ব্যবসায়ে অধিক মুনাফা অর্জনের জন্য শ্রমিকের বেতন ও বোনাসের কিছু অংশ কমিয়ে দেন। তিনি এখন প্রচুর অর্থ ও বিত্তের মালিক। তার বন্ধু হাফিজ সাহেব বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে বড় চাকরি করেন। তিনি শ্রম ও অর্থ দিয়ে তাঁর গ্রামে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। সেখানে তিনি শিক্ষার্থীদের নাচ, গান, আবৃত্তি ও নাটকসহ নানা সাংস্কৃতিক বিষয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেন। মাঝে মাঝে তিনি শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দুর্যোগপূর্ণ স্থানে নিয়ে যান।
- ক)(1)
লোভের ফলে মানুষের কীসের মৃত্যু ঘটে?
- খ)(2)
শিক্ষার অপ্রয়োজনের দিকটিকে লেখক শ্রেষ্ঠ দিক বলেছেন কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের শাওন সাহেবের মধ্যে 'শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব' প্রবন্ধের কোন দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
"উদ্দীপকের হাফিজ সাহেবের চেতনায় 'শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব' প্রবন্ধের আসল উদ্দেশ্য ফুটে উঠেছে"- উক্তিটির মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
লোভের ফলে মানুষের মনুষ্যত্বের মৃত্যু ঘটে।
- খ)
লেখকের মতে শিক্ষার দুটি দিক আছে: প্রয়োজনের দিক ও অপ্রয়োজনের দিক। প্রয়োজনের দিক জীবিকা ও বৈষয়িক সুবিধার সাথে যুক্ত, আর অপ্রয়োজনের দিক সাহিত্য, শিল্প, সংগীত, দর্শন ও সংস্কৃতিচর্চার মতো আত্মার খোরাক জোগায়। এ দিকটি মানুষকে প্রাণিত্বের স্তর থেকে তুলে মনুষ্যত্বের স্তরে পৌঁছে দেয়। তাই লেখক শিক্ষার অপ্রয়োজনের দিকটিকে শ্রেষ্ঠ বলেছেন।
- গ)
উদ্দীপকের শাওন সাহেবের মধ্যে 'শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব' প্রবন্ধের লোভ ও অর্থলিপ্সার ফলে মনুষ্যত্বহীনতার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
প্রবন্ধে লেখক বলেছেন, লোভের কাছে আত্মসমর্পণ করলে মানুষের মনুষ্যত্ব নষ্ট হয় এবং সে প্রাণিত্বের স্তরে নেমে আসে। শাওন সাহেব বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি পেলেও অধিক মুনাফার লোভে শ্রমিকের বেতন ও বোনাস কমিয়েছেন। ফলে তিনি প্রচুর অর্থ-বিত্তের মালিক হলেও শ্রমিকদের প্রতি সহমর্মিতা ও মানবিকতা হারিয়েছেন। এটি অর্থ সাধনাকেই জীবনের লক্ষ্য মনে করার ফল।
- ঘ)
উক্তিটি যথার্থ। 'শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব' প্রবন্ধের আসল উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে মনুষ্যত্বের বিকাশ ঘটানো; শুধু অর্থ উপার্জনের যোগ্যতা অর্জন নয়।
১. মনুষ্যত্বের বিকাশ: প্রবন্ধে লেখক বলেছেন, শিক্ষার প্রকৃত লক্ষ্য মানুষকে প্রাণিত্বের বাঁধন থেকে মুক্ত করে মনুষ্যত্বে উত্তীর্ণ করা। হাফিজ সাহেব বড় চাকরি করেও কেবল অর্থ-উপার্জনে আবদ্ধ থাকেননি।
২. সংস্কৃতিচর্চা: তিনি স্কুলে শিক্ষার্থীদের নাচ, গান, আবৃত্তি ও নাটক শেখানোর ব্যবস্থা করেছেন, যা শিক্ষার অপ্রয়োজনের (আত্মার) দিকের বিকাশ ঘটায়।
৩. সেবা ও সহমর্মিতা: তিনি শ্রম ও অর্থ দিয়ে গ্রামে স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং শিক্ষার্থীদের দুর্যোগপূর্ণ স্থানে নিয়ে গিয়ে মানুষের দুঃখ-কষ্ট উপলব্ধি করতে শেখান, যা মানবিক বোধ জাগ্রত করে।সুতরাং, হাফিজ সাহেবের কর্মকাণ্ডে প্রবন্ধের আসল উদ্দেশ্য, অর্থাৎ মনুষ্যত্ব ও সংস্কৃতিবোধের বিকাশ, সুস্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও