ইসলাম • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৩
ইসলাম প্রশ্ন
ইমাম সাহেব জুমার আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, আমাদের নবির এমন একজন সাথী ছিলেন যিনি ইসলামের জন্য অকাতরে সবকিছু বিলিয়ে দিতেন। আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করতে সাহায্যের প্রয়োজন হলে তিনি তার সমস্ত সম্পদ আল্লাহর নবির হাতে তুলে দেন। ইমাম সাহেবের ভাই রফিক সাহেব একজন উপজেলা চেয়ারম্যান। তিনি তার উপজেলায় একজন ন্যায়পরায়ণ, সৎ ও জনদরদী চেয়ারম্যান হিসেবে পরিচিত। তার ছেলে নেশাগ্রস্ত হয়ে অন্যকে প্রহার করায় তিনি তাকে কঠিন শাস্তি দেন। বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় জেলা প্রশাসক বলেন, রফিক সাহেবের মতো ন্যায়পরায়ণ জনপ্রতিনিধি আজ বড়ই প্রয়োজন।
- ক)(1)
মদিনা সনদ কী?
- খ)(2)
খুলাফায়ে রাশেদিনের জীবনাদর্শ আমাদের জন্য অনুকরণীয় ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
ইমাম সাহেব কোন সাহাবির জীবনী আলোচনা করেন? তা চিহ্নিত করে ইসলামের খেদমতে তার অবদান ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
জনাব রফিক সাহেবের ঘটনার সাথে কোন খলিফার জীবনের মিল পাওয়া যায়? তা চিহ্নিত করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ঐ খলিফার অবদান বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
মদিনায় হিজরতের পর রাসুলুল্লাহ (সা.) সেখানকার মুসলমান, ইহুদি ও অন্যান্য গোত্রের মধ্যে শান্তি ও সহাবস্থানের জন্য যে লিখিত সংবিধান বা চুক্তি করেন, তাকে মদিনা সনদ বলে।
- খ)
খুলাফায়ে রাশেদিন অর্থাৎ হযরত আবু বকর, উমর, উসমান ও আলী (রা.) ছিলেন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শের যথার্থ অনুসারী। তাঁরা সততা, ন্যায়বিচার, ত্যাগ ও সহজ-সরল জীবনযাপনের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাঁদের শাসনে ইসলামি রাষ্ট্রে ন্যায় ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তাই তাঁদের জীবনাদর্শ আমাদের ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে অনুকরণীয়।
- গ)
ইমাম সাহেব হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.)-এর জীবনী আলোচনা করেন। জিহাদের জন্য সাহায্যের প্রয়োজনে তিনি তাঁর সমস্ত সম্পদ রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাতে তুলে দেন। ইসলামের খেদমতে তাঁর অবদান:
১. তিনি পুরুষদের মধ্যে প্রথম ইসলাম গ্রহণ করেন এবং ইসলাম প্রচারে সর্বস্ব ব্যয় করেন।
২. তিনি হিজরতের সময় রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গী ছিলেন।
৩. প্রথম খলিফা হিসেবে তিনি ভণ্ডনবি ও যাকাত অস্বীকারকারীদের দমন করে ইসলামি রাষ্ট্রকে সুসংহত করেন এবং কুরআন সংকলনের উদ্যোগ নেন। - ঘ)
জনাব রফিক সাহেবের ঘটনার সাথে হযরত উমর (রা.)-এর জীবনের মিল পাওয়া যায়। হযরত উমর (রা.) নেশা বা মদপানের অপরাধে নিজের ছেলেকে শাস্তি দিয়েছিলেন। ঠিক তেমনি রফিক সাহেব নেশাগ্রস্ত ছেলের অন্যায়ের জন্য তাকে কঠিন শাস্তি দেন। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় হযরত উমর (রা.)-এর অবদান:
১. আইনের সমতা: তিনি রাজা-প্রজা, আত্মীয়-অনাত্মীয় সবার জন্য একই আইন প্রয়োগ করেছেন, এমনকি নিজের পরিবারকেও ছাড় দেননি।
২. বিচার বিভাগ: তিনি প্রদেশে কাজি নিয়োগ করে ন্যায়বিচারের ব্যবস্থা করেছেন।
৩. জবাবদিহি: তিনি গভর্নরদের কাজের হিসাব নিতেন, ফলে প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠিত হয়।সুতরাং, হযরত উমর (রা.) ন্যায়বিচারের এক অনন্য আদর্শ। রফিক সাহেবও তাঁর পথ অনুসরণ করেছেন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও