বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৫

বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন

  1. ক)

    'সোমপুর বিহার' নির্মাণ করেন কে?

    (1)
  2. খ)

    'সতীদাহ প্রথা' বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের চিত্রটি কোন যুগের ভাস্কর্য শিল্পকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উক্ত যুগটি স্থাপত্য শিল্প ছাড়াও ভাষা ও সাহিত্যে অবদান রেখেছিল- বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    পাল বংশের শাসক ধর্মপাল সোমপুর বিহার নির্মাণ করেন।

  2. খ)

    সতীদাহ প্রথা হলো একটি পুরোনো হিন্দু সামাজিক কুপ্রথা, যাতে স্বামীর মৃত্যুর পর বিধবা স্ত্রীকে স্বামীর চিতায় জীবন্ত দগ্ধ হতে বাধ্য করা হতো। রাজা রামমোহন রায়ের প্রচেষ্টায় ১৮২৯ খ্রিস্টাব্দে গভর্নর জেনারেল লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক আইন করে এই প্রথা নিষিদ্ধ করেন।

  3. গ)

    উদ্দীপকের চিত্রে পোড়ামাটির ফলকের মতো অলংকরণ দেখা যায়, যা পাল যুগের ভাস্কর্য শিল্পকে নির্দেশ করে।

    পাল যুগে পাহাড়পুরের সোমপুর মহাবিহারের দেয়ালে অসংখ্য পোড়ামাটির ফলক ও পাথরের ভাস্কর্য ব্যবহার করা হয়েছিল। এগুলোতে দেবদেবী, মানুষ, পশুপাখি ও গ্রামীণ জীবনের দৃশ্য খোদাই করা আছে। ধাতব মূর্তি ও পাথরের ভাস্কর্যেও এ যুগের দক্ষতা প্রকাশ পায়। এসব নিদর্শন পাল যুগের উন্নত ভাস্কর্য শিল্পের পরিচয় বহন করে।

  4. ঘ)

    পাল যুগ স্থাপত্য ছাড়াও ভাষা ও সাহিত্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিল। মন্তব্যটি যথার্থ।

    ১. বাংলা ভাষার উদ্ভব: এ যুগেই বাংলা ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন 'চর্যাপদ' রচিত হয়, যা বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যদের রচিত পদসংকলন।
    ২. সংস্কৃত সাহিত্য: পাল শাসকদের পৃষ্ঠপোষকতায় সংস্কৃত ভাষায় সাহিত্য ও জ্ঞানচর্চা বিকাশ লাভ করে; সন্ধ্যাকর নন্দীর 'রামচরিত' এ যুগের উল্লেখযোগ্য রচনা।
    ৩. শিক্ষাকেন্দ্র: সোমপুর ও বিক্রমশীলার মতো বিহারগুলো শিক্ষা ও সাহিত্যচর্চার কেন্দ্র ছিল, যেখানে বহু পণ্ডিত গ্রন্থ রচনা ও অনুবাদ করেন।

    সুতরাং, পাল যুগ স্থাপত্যের পাশাপাশি ভাষা ও সাহিত্যের বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন