হিন্দু ধর্ম • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৪
হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন
আনন্দ অত্যন্ত ধর্মানুরাগী। সে বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ অধ্যয়ন করে। সে নিত্য গীতা পাঠ করে। সে ঈশ্বরের স্বরূপ জানতে আরও বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ পাঠ করা শুরু করে। সে এসব পড়ে জানতে পারে ব্রহ্ম, ঈশ্বর, ভগবান ঈশ্বরের বিভিন্ন নাম। ঈশ্বরের বৈশিষ্ট্য অনুসারে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন নামে ডাকা হয়।
- ক)(1)
ভগবান কে?
- খ)(2)
"ঈশ্বর ধর্মের মূল উৎস"- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
আনন্দ স্রষ্টার স্বরূপ সম্পর্কে কী জেনেছিল? বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
আনন্দ স্রষ্টা অবতাররূপে যে পৃথিবীতে নেমে আসতেন তার কারণ জানতে পারল, তোমার পাঠ্যবইয়ের আলোকে তা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
ভক্তের কাছে ঈশ্বর যে নামে পরিচিত, তিনিই ভগবান। ঐশ্বর্য, বীর্য, যশ, শ্রী, জ্ঞান ও বৈরাগ্য, এই ছয় গুণ যাঁর আছে, তিনি ভগবান।
- খ)
হিন্দুধর্মের মূলে রয়েছেন স্বয়ং ভগবান, ‘ধর্মমূলং হি ভগবান্’। ঈশ্বর এক ও অদ্বিতীয় এবং সবকিছু তাঁর থেকেই সৃষ্ট। তিনি আমাদের সৃষ্টি ও পালন করেন এবং তিনি সর্বশক্তিমান। আমাদের মঙ্গল-অমঙ্গল সব তাঁর হাতে। তাই ঈশ্বরের উপাসনাই ধর্ম, এ কারণে বলা হয় ঈশ্বর ধর্মের মূল উৎস।
- গ)
উদ্দীপকের আনন্দ ধর্মগ্রন্থ পাঠ করে স্রষ্টার স্বরূপ সম্পর্কে জেনেছিল যে, তিনি এক হলেও বৈশিষ্ট্য অনুসারে বিভিন্ন নামে পরিচিত। তাঁর স্বরূপ ব্রহ্ম, ঈশ্বর ও ভগবান রূপে প্রকাশিত।
পাঠ্যবই অনুযায়ী যিনি নিজেই নিজের স্রষ্টা, সর্বশক্তির উৎস এবং যাঁর উপরে কেউ নেই, তিনিই পরম স্রষ্টা। সনাতন ধর্মে তাঁকে ব্রহ্ম, পরমেশ্বর, পরমাত্মা, আত্মা, ঈশ্বর ও ভগবান বলা হয়। জ্ঞানীর কাছে তিনি ব্রহ্ম, যোগীর কাছে পরমাত্মা এবং ভক্তের কাছে ভগবান। তিনি বিশ্বের সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা ও সংহারকর্তা। তিনি নিরাকার, আবার প্রয়োজনে সাকার রূপ ধারণ করেন। ঐশ্বর্য, বীর্য, যশ, শ্রী, জ্ঞান ও বৈরাগ্য, এই ছয় গুণে তিনি গুণান্বিত।
উদ্দীপকে আনন্দ নিত্য গীতা পাঠ করে এবং ঈশ্বরের স্বরূপ জানতে আরও ধর্মগ্রন্থ পড়ে। সে জানতে পারে, ব্রহ্ম, ঈশ্বর ও ভগবান একই সত্তার বিভিন্ন নাম এবং ঈশ্বরের বৈশিষ্ট্য অনুসারে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন নামে তাঁকে ডাকা হয়। এ জ্ঞান পাঠ্যবইয়ের স্বরূপের আলোচনার সাথে মিলে যায়।
অতএব আনন্দ জানল, স্রষ্টা এক ও অদ্বিতীয়, কিন্তু গুণ ও উপলব্ধির ভিন্নতায় তিনি বহু নামে পরিচিত।
- ঘ)
উদ্দীপকের আনন্দ জানতে পারল, স্রষ্টা অবতাররূপে পৃথিবীতে নেমে আসেন। পাঠ্যবইয়ের আলোকে এর কারণ হলো ধর্মের গ্লানি ও অধর্মের উত্থান রোধ করে সাধুদের রক্ষা, দুষ্টদের বিনাশ ও ধর্ম প্রতিষ্ঠা করা।
পাঠ্যবইয়ে বলা হয়েছে, ভগবান বিষ্ণু যখন বিভিন্ন রূপ ধরে পৃথিবীতে অবতরণ করেন, তখন তাঁকে অবতার বলা হয়। তাঁর অবতাররূপে আসার কারণ গীতায় শ্রীকৃষ্ণ নিজেই বলেছেন :
‘যদা যদা হি ধর্মস্য গ্লানির্ভবতি ভারত। অভ্যুত্থানমধর্মস্য তদাত্মানং সৃজাম্যহম্॥ পরিত্রাণায় সাধুনাং বিনাশায় চ দুষ্কৃতাম্। ধর্মসংস্থাপনার্থায় সম্ভবামি যুগে যুগে॥’ (গীতা ৪/৭-৮)১. ধর্মের গ্লানি ও অধর্মের অভ্যুত্থান : পৃথিবী সব সময় এক রকম থাকে না। নানা সময়ে দুষ্ট লোকের জন্ম হয়। তারা মানুষের ওপর অত্যাচার করলে জগতে শোক, দুঃখ ও অশান্তি বাড়ে। এমন সময় ধর্ম রক্ষার্থে ভগবান নিজেকে সৃজন করেন।
২. সাধুদের রক্ষা : অত্যাচারে শিষ্টের জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। তখন তাঁদের পরিত্রাণের জন্য ভগবান অবতাররূপে আসেন।
৩. দুষ্কৃতকারীদের বিনাশ : অবতাররূপে তিনি দুষ্টদের বিনাশ করেন। শ্রীকৃষ্ণ কংস, জরাসন্ধ, শিশুপাল ও দুর্যোধনের অত্যাচার থেকে মানুষকে রক্ষা করেন।
৪. ধর্মসংস্থাপন : দুষ্ট দমনের পর জগতে আবার শান্তি ফিরে আসে এবং ধর্ম প্রতিষ্ঠিত হয়। তখন ভগবান তাঁর স্বস্থানে ফিরে যান।
সুতরাং ধর্ম প্রতিষ্ঠা, শিষ্টের পালন ও দুষ্টের দমনের উদ্দেশ্যেই স্রষ্টা অবতাররূপে পৃথিবীতে আসেন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও