ভূগোল এবং পরিবেশ • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৫

ভূগোল এবং পরিবেশ প্রশ্ন

আগস্ট-২০২৪। ফেনী ও কুমিল্লাবাসীরা এক ভয়াবহ দুর্যোগের সম্মুখীন হন। একাধারে ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পানির স্রোত ভাসিয়ে নিয়ে যায় গবাদিপশুসহ অন্যান্য সম্পদ। তখন অনেক মানুষের প্রাণহানি ঘটে।

  1. ক)

    খরা কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিরোধ বলতে কী বোঝ? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত দুর্যোগের কারণ ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত দুর্যোগ নিয়ন্ত্রণে কী কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে-বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    দীর্ঘ সময় বৃষ্টি না হওয়ার ফলে সৃষ্ট অবস্থাকে খরা বলে।

  2. খ)

    দুর্যোগ প্রতিরোধ হলো দুর্যোগ আসার আগেই এর ক্ষয়ক্ষতি কমানোর জন্য নেওয়া ব্যবস্থা। প্রাকৃতিক দুর্যোগ সম্পূর্ণ প্রতিরোধ করা সম্ভব না হলেও প্রতিরোধ কার্যক্রম ক্ষতি কমায়।
    এটি কাঠামোগত ও অকাঠামোগত হতে পারে। যেমন, বেড়িবাঁধ ও আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, নদী খনন (কাঠামোগত) এবং প্রশিক্ষণ ও গণসচেতনতা বৃদ্ধি (অকাঠামোগত)।

  3. গ)

    উদ্দীপকের দুর্যোগটি বন্যা। আগস্ট ২০২৪-এ ফেনী ও কুমিল্লায় ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পানির স্রোত এ বন্যা ঘটিয়েছে। এর কারণগুলো হলো-

    ১. উজানে প্রচুর বৃষ্টি: উজানের অঞ্চলে বেশি বৃষ্টি হলে সেই পানি খরস্রোতে নিচের দিকে নেমে আসে। উদ্দীপকে এ কারণ স্পষ্ট।
    ২. মৌসুমি জলবায়ু ও ভৌগোলিক অবস্থান: বাংলাদেশ মৌসুমি জলবায়ুর দেশ এবং নিম্ন সমভূমি। বর্ষাকালে ভারী বৃষ্টিতে নদী উপচে পড়ে।
    ৩. নদীর গভীরতা কম: পলি জমে নদীর গভীরতা কম হলে পানি ধারণক্ষমতা কমে যায়।
    ৪. মানবসৃষ্ট কারণ: নদী অববাহিকায় বৃক্ষ কর্তন, বাঁধ নির্মাণ ও অপরিকল্পিত নগরায়ন বন্যার ঝুঁকি বাড়ায়।

  4. ঘ)

    উদ্দীপকের বন্যা নিয়ন্ত্রণে নিচের ব্যবস্থাগুলো নেওয়া যেতে পারে।

    ১. সাধারণ ব্যবস্থাপনা: নদীর দুই তীরে ঘন জঙ্গল সৃষ্টি করা, নদী-শাসন নিশ্চিত করা, সহজে স্থানান্তরযোগ্য বসতি তৈরি করা এবং পুকুর, নালা, বিল খনন করে পানি সংরক্ষণ করা।
    ২. পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ: বন্যার পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ ব্যবস্থা উন্নত করলে মানুষ আগেই নিরাপদ স্থানে যেতে পারে। এতে উদ্দীপকের মতো প্রাণহানি কমানো সম্ভব।
    ৩. প্রকৌশলগত ব্যবস্থা: নদীর দুই তীরে বেড়িবাঁধ নির্মাণ, ড্রেজার দিয়ে নদীর তলদেশ খনন করে পানি ধারণক্ষমতা বাড়ানো, জলাধার নির্মাণ এবং পরিকল্পিত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রেখে রাস্তাঘাট বানানো।
    ৪. আশ্রয়কেন্দ্র ও বনায়ন: সর্বোচ্চ বন্যা লেভেলের ওপরে আশ্রয়কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা এবং সারা দেশে বনায়ন।
    ৫. আন্তর্জাতিক সমঝোতা: আন্তর্জাতিক নদীর পানি ন্যায্যতার ভিত্তিতে ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নেওয়া।

    সুতরাং, এসব ব্যবস্থা একসাথে নিলে বন্যার ক্ষয়ক্ষতি অনেক কমানো সম্ভব।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন