বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৪
বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন
সুলতান শাকিল খান সেনাপতি জনিকে খুব বিশ্বাস করতেন। জনি ক্ষমতা লাডের আশায় সুলতানের শত্রুদের সাথে হাত মেলায়। যুদ্ধক্ষেত্রে সেনাপতি হওয়া সত্ত্বেও নীরব দর্শক হিসেবে কাজ করে। ফলে সুলতান শাকিল খান পরাজিত ও নিহত হন এবং ক্ষমতাও হারান।
- ক)(1)
চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত কী?
- খ)(2)
দ্বৈত শাসন বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের সাথে বাংলার ইংরেজ শাসনের সূচনা পর্বের কোন ঘটনার মিল পাওয়া যায়? বিশ্লেষণ করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের উক্ত ঘটনার ফলে বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয়েছিল বলে তুমি মনে কর কি?
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত হলো ১৭৯৩ সালে লর্ড কর্নওয়ালিস প্রবর্তিত ভূমি-রাজস্ব ব্যবস্থা, যাতে জমিদারদের জমির স্থায়ী মালিকানা দিয়ে চিরকালের জন্য রাজস্বের হার নির্ধারিত করা হয়।
- খ)
দ্বৈত শাসন হলো ১৭৬৫ সালে রবার্ট ক্লাইভ প্রবর্তিত শাসনব্যবস্থা। এতে রাজস্ব আদায় ও দেওয়ানির ক্ষমতা ইংরেজ কোম্পানির হাতে থাকে, কিন্তু শাসন ও বিচার (নিজামত) পরিচালনার দায়িত্ব থাকে নবাবের হাতে। ফলে ক্ষমতা থাকে কোম্পানির, আর দায়িত্ব থাকে নবাবের। এ ব্যবস্থায় বাংলায় অরাজকতা দেখা দেয়।
- গ)
উদ্দীপকের সুলতানের বিশ্বস্ত সেনাপতি জনি শত্রুদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে যুদ্ধে নীরব দর্শক হয়ে থাকে। এর মিল ১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধের সঙ্গে।
সিরাজউদ্দৌলা তাঁর প্রধান সেনাপতি মীর জাফরকে বিশ্বাস করতেন। কিন্তু মীর জাফর ক্ষমতার লোভে ইংরেজদের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করেন এবং যুদ্ধে নিষ্ক্রিয় থাকেন। ফলে নবাব পরাজিত ও নিহত হন। - ঘ)
হ্যাঁ, আমি মনে করি পলাশীর যুদ্ধের ফলে বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয়েছিল।
১. এ যুদ্ধের পর বাংলার শেষ স্বাধীন নবাবের পতন হয় এবং ইংরেজ কোম্পানির হাতে প্রকৃত ক্ষমতা চলে যায়।
২. মীর জাফর ও পরবর্তী নবাবরা ইংরেজদের হাতের পুতুল হন।
৩. এরপর ইংরেজরা ধীরে ধীরে সমগ্র ভারতে ঔপনিবেশিক শাসন প্রতিষ্ঠা করে, যা প্রায় দুইশ বছর স্থায়ী হয়।
সুতরাং, পলাশীর যুদ্ধ বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্ত যাওয়ার সূচনা করেছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও