অর্থনীতি • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৪

অর্থনীতি প্রশ্ন

সিলেটের নাইজুল সাহেব বাঁশ ও বেত দিয়ে ঝুড়ি, মোড়া, পাটি, মাদুরসহ হস্তশিল্পজাত দ্রব্য' তৈরি করেন। এ কাজে বাড়ির সকলে তাকে সহযোগিতা করেন। তার তৈরি দ্রব্যের চাহিদা দেশে-বিদেশে ব্যাপক বৃদ্ধি পাচ্ছে।

  1. ক)

    শিল্প কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    EPZ কী? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    নাইজুল সাহেবের শিল্পটি কোন ধরনের? বিশ্লেষণ করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত খাতসহ শিল্প খাঁতের আর কোন কোন উপখাত উন্নয়নের মাধ্যমে আমাদের দেশের দ্রুত উন্নয়ন সম্ভব? মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    যে উৎপাদন প্রক্রিয়ায় প্রাকৃতিক সম্পদ ও কাঁচামালকে মানুষের ব্যবহারের উপযোগী পণ্যে রূপান্তর করা হয়, তাকে শিল্প (Industry) বলে।

  2. খ)

    EPZ-এর পূর্ণরূপ Export Processing Zone, অর্থাৎ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা। এটি সরকার নির্ধারিত বিশেষ শিল্পাঞ্চল, যেখানে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা রপ্তানির উদ্দেশ্যে পণ্য উৎপাদন করে। এখানে কর রেয়াত, শুল্কমুক্ত যন্ত্রপাতি আমদানি ও অবকাঠামো সুবিধা দেওয়া হয়। বাংলাদেশে চট্টগ্রাম ও ঢাকা (সাভার) প্রথম দিকের EPZ।

  3. গ)

    নাইজুল সাহেব বাঁশ ও বেত দিয়ে ঝুড়ি, মোড়া, পাটি, মাদুর ইত্যাদি তৈরি করেন এবং বাড়ির সকলে তাকে সাহায্য করেন। এসব বৈশিষ্ট্য কুটির শিল্পের (Cottage Industry)।

    ১. কুটির শিল্প সাধারণত পরিবারের সদস্যদের শ্রমে নিজ বাড়িতে পরিচালিত হয়।
    ২. এতে মূলধন কম লাগে এবং সরল যন্ত্রপাতি বা হাতের কাজ প্রধান।
    ৩. বাঁশ, বেত, মাটি ইত্যাদি স্থানীয় কাঁচামাল ব্যবহৃত হয়।
    ৪. এ ধরনের পণ্য প্রধানত হস্তশিল্পজাত, যেমন পাটি, মাদুর ও মোড়া।

    এসব কারণে নাইজুল সাহেবের শিল্পটি কুটির শিল্প।

  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত খাতটি হলো শিল্প খাতের কুটির শিল্প উপখাত। শিল্প খাতের আরও উপখাত হলো ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এবং বৃহদায়তন শিল্প। এসব উপখাতের উন্নয়নের মাধ্যমে আমাদের দেশের দ্রুত উন্নয়ন সম্ভব বলে আমি মনে করি।

    ১. ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প: কম মূলধনে স্থাপন করা যায়, ফলে অনেক মানুষের কর্মসংস্থান হয় এবং স্থানীয় সম্পদের ব্যবহার বাড়ে।
    ২. বৃহদায়তন শিল্প: পাট, বস্ত্র, চিনি, সার, সিমেন্ট ও তৈরি পোশাকের মতো শিল্পে বড় আকারে উৎপাদন হয়। এগুলো রপ্তানি আয় বাড়ায় ও বিপুল শ্রমিকের কর্মসংস্থান করে।
    ৩. এসব শিল্প আমদানি-বিকল্প পণ্য উৎপাদন করে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ে সহায়তা করে এবং জাতীয় আয় ও মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি করে।

    সুতরাং, কুটির শিল্পের সাথে ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বৃহদায়তন শিল্পের সমন্বিত উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন