হিন্দু ধর্ম • Combined Board • সকল বোর্ড ২০১৭

হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন

মেধাবী ছাত্র সমরেশ ছাত্রজীবন শেষে সমাজ সেবায় মনোনিবেশ করেন। সারা ভারত ঘুরে তিনি দেখতে পান মানুষের দুঃখ-দুর্দশা এবং শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে নারীদের পিছিয়ে পড়ার চিত্র। নারীদের শিক্ষার জন্য তিনি নানা কর্মকাণ্ড শুরু করেন। কারণ যে জাতি নারীদের সম্মান দেয় না, সে জাতি কখনো বড় হতে পারে না।

  1. ক)

    মহাবীর কার উপাধি ছিল?

    (1)
  2. খ)

    'বেলুড় মঠ' প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের সমরেশের চরিত্রের সাথে পাঠ্যপুস্তকের যে চরিত্রের মিল পাওয়া যায় তা ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    'যে জাতি নারীদের সম্মান দেয় না, সে জাতি কখনো বড় হতে পারে না'- কথাটি বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    স্বামী বিবেকানন্দ বিধবাবিবাহ প্রচলনের জন্য ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে 'মহাবীর' বলে আখ্যায়িত করেছিলেন।

  2. খ)

    স্বামী বিবেকানন্দ তাঁর গুরুদেব শ্রীরামকৃষ্ণের আদর্শ প্রচারের জন্য ১৮৯৭ সালে রামকৃষ্ণ মিশন এবং পরের বছর বেলুড় মঠ প্রতিষ্ঠা করেন। এর উদ্দেশ্য ছিল গুরুর আদর্শ প্রচার এবং ধর্মচর্চার পাশাপাশি মানুষের সেবা। শিক্ষা, চিকিৎসা ও আপৎকালীন সাহায্য প্রদানের মাধ্যমে মানুষের কল্যাণ করা এর লক্ষ্য। বেলুড় মঠ এই মিশনের প্রধান কেন্দ্র।

  3. গ)

    উদ্দীপকের সমরেশের চরিত্রের সঙ্গে পাঠ্যবইয়ের স্বামী বিবেকানন্দের চরিত্রের মিল পাওয়া যায়।

    সমরেশের কর্মকাণ্ড: সমরেশ মেধাবী ছাত্র ছিলেন। ছাত্রজীবন শেষে তিনি সমাজসেবায় মনোনিবেশ করেন। সারা ভারত ঘুরে তিনি মানুষের দুঃখ-দুর্দশা এবং শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে নারীদের পিছিয়ে পড়া দেখেন। তিনি নারীশিক্ষার জন্য নানা কর্মকাণ্ড শুরু করেন।

    বিবেকানন্দের সঙ্গে মিল: বিবেকানন্দও মেধাবী ছিলেন এবং সারা ভারত পরিভ্রমণ করে মানুষের দারিদ্র্য ও দুর্দশা প্রত্যক্ষ করেন। তিনি বলেছেন, 'দরিদ্ররা ঈশ্বরের প্রতিভূ' এবং 'আগে অন্ন, তারপর ধর্ম'। তিনি দুর্ভিক্ষপীড়িতদের সেবা করেন, রামকৃষ্ণ মিশন প্রতিষ্ঠা করেন এবং সবার জন্য সমান শিক্ষার কথা বলেন। নারীশিক্ষাকে তিনি সর্বান্তঃকরণে সমর্থন করতেন এবং বলেছিলেন, 'কোনো পাখি একটি ডানা নিয়ে উড়তে পারে না'। এমনকি সারদাদেবীর পরিচালনায় নারীদের জন্য একটি মঠ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও করেন। সমরেশের উক্তিটিও বিবেকানন্দেরই বাণী।

    অতএব, সমরেশের মধ্যে বিবেকানন্দের আদর্শ প্রতিফলিত হয়েছে।

  4. ঘ)

    স্বামী বিবেকানন্দ নারী-স্বাধীনতায় বিশ্বাসী ছিলেন। তাঁর এই বাণী নারীর মর্যাদা ও জাতির উন্নতির সম্পর্ককে তুলে ধরে। উক্তিটির যথার্থতা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো—

    ১. শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা: বিবেকানন্দ নারীশিক্ষাকে সর্বান্তঃকরণে সমর্থন করতেন। বৈদিক যুগের মৈত্রেয়ী ও গার্গীর মতো বিদুষী নারীর উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই যুগে নারীরা শিক্ষা পেলে এ যুগে পারবে না কেন? শিক্ষিত নারী পরিবার ও সমাজকে আলোকিত করেন।
    ২. সমাজের ভারসাম্য: তাঁর মতে, 'নারীদের অবস্থার উন্নতি না করে বিশ্বের মঙ্গলসাধন করা সম্ভব নয়। কোনো পাখি একটি ডানা নিয়ে উড়তে পারে না।' অর্থাৎ নারী ও পুরুষ উভয়েই সমাজের দুই ডানা। একটি দুর্বল থাকলে জাতি এগোতে পারে না।
    ৩. কুসংস্কার দূরীকরণ: বিবেকানন্দ বাল্যবিবাহকে ঘৃণা করতেন। তাঁর মতে মেয়েদের লেখাপড়া শিখিয়ে বয়স হলে বিয়ে দিলে তাদের সন্তানেরা দেশের কল্যাণ করবে। বিধবাদের পুনর্বিবাহের পাশাপাশি শিক্ষা দিয়ে স্বাবলম্বী করার কথাও তিনি বলেন।
    ৪. স্বাধীনতা ও আধ্যাত্মিক অধিকার: ইচ্ছা না থাকলে বিয়ে না করার স্বাধীনতা নারীর স্বাভাবিক অধিকার। আধ্যাত্ম সাধনাতেও নারীদের সুযোগ দেওয়ার জন্য তিনি নারীদের মঠ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করেছিলেন।

    সুতরাং, নারীকে সম্মান, শিক্ষা ও সুযোগ না দিলে জাতি অর্ধেক শক্তি নিয়ে চলে। তাই বিবেকানন্দের উক্তিটি যথার্থ: যে জাতি নারীদের সম্মান দেয় না, সে জাতি কখনো বড় হতে পারে না।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন