অর্থনীতি • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৫

অর্থনীতি প্রশ্ন

ভূমিহীন শেফালী বেগম একটি গাভি কিনতে চান। তাই তিনি ঋণের জন্য একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে যান। কিন্তু প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা বলেন যে, তারা জামানত ছাড়া কোনো ঋণ প্রদান করেন না। তিনি তাকে অন্য এক্লুটি প্রতিষ্ঠানের যাওয়ার প্ররামর্শ দেন। যেটি কোনো জামানত ছাড়াই ঋণ প্রদান করে থাকে। সেখান থেকে তিনি বি জামানতে ঋণ গ্রহণ করে একটি গাডি ক্রয় করেন। যার ফলে তার আয়ের ব্যবস্থা হয়।

  1. ক)

    কাগজি মুদ্রা কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সর্বশেষ ঋণদাতা বলা হয়' কেন?

    (2)
  3. গ)

    শেফালী বেগম প্রথম য়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠানে গিয়েছিলেন তা কোন ধরনের আর্থিক প্রতিষ্ঠান? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত ২য় আর্থিক প্রতিষ্ঠানটি সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করে- বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    কাগজ দিয়ে তৈরি যে মুদ্রা সরকারি আদেশে বিনিময়ের মাধ্যম হিসেবে প্রচলিত থাকে, তাকে কাগজি মুদ্রা বলে।

  2. খ)

    বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো অর্থ সংকটে পড়লে এবং অন্য কোথাও থেকে ঋণ না পেলে সর্বশেষ আশ্রয় হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে যায়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক তখন তাদের প্রয়োজনীয় ঋণ দিয়ে সংকট থেকে রক্ষা করে। এর মাধ্যমে ব্যাংক ব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থা বজায় থাকে। তাই কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সর্বশেষ ঋণদাতা বলা হয়।

  3. গ)

    শেফালী বেগম প্রথমে যে প্রতিষ্ঠানে গিয়েছিলেন, সেটি জামানত ছাড়া ঋণ দেয় না এবং জনগণকে ঋণ দেয়। এটি একটি বাণিজ্যিক ব্যাংক।

    ব্যাখ্যা:
    ১. জামানত নির্ভর ঋণ: বাণিজ্যিক ব্যাংক ঋণ দেওয়ার সময় ঋণ ফেরত পাওয়ার নিশ্চয়তা হিসেবে জামানত চায়।
    ২. আমানত ও ঋণ: এ ব্যাংক জনগণের আমানত সংগ্রহ করে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দেয়।
    ৩. ভূমিহীনদের সীমাবদ্ধতা: ভূমিহীন শেফালীর জামানত দেওয়ার মতো সম্পদ নেই, তাই তিনি এখান থেকে ঋণ পাননি।

  4. ঘ)

    উদ্দীপকের ২য় প্রতিষ্ঠানটি জামানত ছাড়াই ঋণ দেয়। এটি ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান, যেমন গ্রামীণ ব্যাংক। এই প্রতিষ্ঠান সুবিধাবঞ্চিত মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে ভূমিকা রাখে।

    ১. জামানতবিহীন ঋণ: ভূমিহীন ও দরিদ্র মানুষ জামানত দিতে পারে না। এ প্রতিষ্ঠান জামানত ছাড়াই ঋণ দিয়ে তাদের সহায়তা করে। শেফালী বেগম এ ঋণে গাভি কিনেছেন।
    ২. আয়ের ব্যবস্থা: ঋণের টাকায় গাভি, হাঁস-মুরগি বা ক্ষুদ্র ব্যবসা করে দরিদ্র মানুষ নিজের আয় বাড়াতে পারে।
    ৩. দারিদ্র্য বিমোচন: আয় বাড়লে দারিদ্র্য কমে এবং পরিবারের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়।
    ৪. নারীর ক্ষমতায়ন: নারীরা ঋণ নিয়ে স্বাবলম্বী হতে পারে, ফলে সমাজে তাদের অবস্থান শক্তিশালী হয়।

    সুতরাং ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান সুবিধাবঞ্চিত মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন