হিন্দু ধর্ম • Combined Board • সকল বোর্ড ২০১৭

হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন

অমিয় বাবু তাঁর সন্তানদের লেখা-পড়াসহ যাবতীয় খরচ বহন করেন। এছাড়াও অতিথি সেবা, মা-বাবার ভরণ-পোষণ, সমাজের প্রতি তার কর্তব্য নিষ্ঠার সাথে পালন করেন। তাঁর প্রতিবেশী ননী বাবুর বয়স ৭৫ বছর। সন্ন্যাস গ্রহণের সময় এসেছে। সন্ন্যাসী জাগতিক সকল কর্ম পরিত্যাগ করে ঈশ্বর চিন্তায় মগ্ন থাকেন। দিনের বেলায় লোকালয় থেকে সংগৃহীত আহার গ্রহণ করেন। রাতের বেলায় দুধ ও ফলমূল খেয়ে জীবন ধারণ করেন।

  1. ক)

    আশ্রম কত প্রকার?

    (1)
  2. খ)

    ব্রহ্মচর্যাশ্রম বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    আশ্রম ধর্মানুযায়ী অমিয় বাবু কোন আশ্রমের অন্তর্ভুক্ত তা ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    "সন্ন্যাসী জাগতিক সকল কর্ম পরিত্যাগ করে কেবল ঈশ্বর চিন্তাতেই মগ্ন থাকেন"- উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    আশ্রম চার প্রকার।

  2. খ)

    ব্রহ্মচর্যাশ্রম হলো মানুষের জীবনের প্রথম পঁচিশ বছর। এ সময় পাঁচ বছর বয়স হলে গুরুগৃহে গিয়ে গুরুর কাছে দীক্ষা নিয়ে তাঁর তত্ত্বাবধানে পড়াশোনা করতে হয়। এই আশ্রমে শিষ্য শাস্ত্র অধ্যয়ন, আত্মসংযম, পরিশ্রম ও কঠোর জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়। বর্তমানে এটি ছাত্রজীবনে পর্যবসিত হয়েছে।

  3. গ)

    আশ্রম ধর্মানুযায়ী অমিয় বাবু গার্হস্থ্য আশ্রমের অন্তর্ভুক্ত।

    গার্হস্থ্য আশ্রম মানুষের জীবনের দ্বিতীয় পঁচিশ বছর। ব্রহ্মচর্য শেষে বিবাহ করে সন্তান-সন্ততি লাভ, তাদের ভরণ-পোষণ ও সংসারধর্ম পালন এই আশ্রমের কাজ। এই আশ্রমে পিতৃযজ্ঞ, দেবযজ্ঞ, ভূতযজ্ঞ, নৃযজ্ঞ ও ঋষিযজ্ঞ—এই পাঁচটি যজ্ঞ করতে হয়। উদ্দীপকে অমিয় বাবু সন্তানের লেখাপড়ার খরচ বহন করেন, মা-বাবার ভরণ-পোষণ করেন (পিতৃযজ্ঞ), অতিথি সেবা করেন (নৃযজ্ঞ) এবং সমাজের প্রতি কর্তব্য পালন করেন। এসব গার্হস্থ্য আশ্রমের বৈশিষ্ট্য।

  4. ঘ)

    উক্তিটি সন্ন্যাস আশ্রম সম্পর্কিত। সন্ন্যাস শব্দের অর্থ সম্পূর্ণরূপে ত্যাগ। পঁচাত্তর থেকে একশ বছরের মধ্যে এ আশ্রমে জীবন ধারণের শাস্ত্রীয় নির্দেশ আছে।

    ১. সন্ন্যাসী একাকী জীবনধারণ করেন; স্ত্রীও তাঁর সঙ্গে থাকেন না। তিনি অতীত জীবনের সব স্মৃতি পরিহার করেন।
    ২. তিনি জাগতিক সকল কর্ম ত্যাগ করে একমনে ঈশ্বরচিন্তায় মগ্ন থাকেন।
    ৩. দুপুরবেলার আহার লোকালয় থেকে সংগ্রহ করেন এবং বাকি দুই বেলা দুধ-ফল স্বল্প পরিমাণে খান। উদ্দীপকে ননী বাবুর ক্ষেত্রেও তা-ই বলা হয়েছে।
    ৪. সন্ন্যাসের মূল কথা কর্মফলাসক্তি ও ভোগাসক্তি ত্যাগ। শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় বলা হয়েছে, যিনি কর্মফলের আশ্রয় না নিয়ে কর্তব্য কর্ম করেন, তিনিই সন্ন্যাসী ও যোগী।

    অতএব, সন্ন্যাসীর জীবন সম্পূর্ণ ত্যাগ ও ঈশ্বরচিন্তায় নিবেদিত—উক্তিটি যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন