বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৩
বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন
শিলা ও সীমা দুই বোন। শিলা সাহিত্যের প্রতি অনুরাগী। জোসনা ও জননীর গল্প, অলাতচক্র, পদ্মানদীর মাঝি ও অ্যানা ফ্রাঙ্কের ডায়রির মতো বইগুলো শিলার সংগ্রহে রয়েছে। অন্যদিকে সীমা গবেষণা নিয়ে ব্যস্ত। সীমা পুরোনো মুদ্রা ও ছোট পাথরের মুর্তি সংগ্রহ করতে বিভিন্ন জায়গায় যায় এবং আগের মানুষের ব্যবহারকৃত বাসন ও পানপাত্র দেখার জন্য জাদুঘর পরিদর্শন করে।
- ক)(1)
শ্রুতি কী?
- খ)(2)
ইতিহাস পাঠ অত্যন্ত জরুরি কেন?
- গ)(3)
শিলার সংগৃহীত বস্তুগুলো ইতিহাসের কোন ধরনের উপাদান? বর্ণনা দাও।
- ঘ)(4)
'ইতিহাস রচনার ক্ষেত্রে সীমার সংগৃহীত নিদর্শনগুলোর গুরুত্ব অপরিসীম'-মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
শ্রুতি হলো গুরুর মুখে শুনে শুনে মুখে মুখে প্রচলিত জ্ঞান, যা প্রাচীন ভারতে বেদ হিসেবে পরিচিত।
- খ)
ইতিহাস পাঠ করে মানুষ নিজের অতীত, ঐতিহ্য ও পরিচয় জানতে পারে। অতীতের সাফল্য ও ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমানকে বুঝতে এবং ভবিষ্যৎ গড়তে পারে। ইতিহাস জাতীয় চেতনা, দেশপ্রেম ও সচেতনতা জাগ্রত করে। তাই ইতিহাস পাঠ অত্যন্ত জরুরি।
- গ)
শিলার সংগৃহীত ‘জোসনা ও জননীর গল্প’, ‘অলাতচক্র’, ‘পদ্মানদীর মাঝি’ ও ‘অ্যানা ফ্রাঙ্কের ডায়েরি’ ইতিহাসের লিখিত বা সাহিত্যিক উপাদান।
লিখিত উপাদানের মধ্যে আছে উপন্যাস, গল্প, কাব্য, ডায়েরি, জীবনী ও দলিলপত্র। ‘জোসনা ও জননীর গল্প’ ও ‘অলাতচক্র’ মুক্তিযুদ্ধের সময়কে তুলে ধরে, ‘পদ্মানদীর মাঝি’ জেলে সমাজের জীবন দেখায়, আর ‘অ্যানা ফ্রাঙ্কের ডায়েরি’ যুদ্ধের সময়ের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা। এসব থেকে সময়কালের সমাজ, মানুষ ও ঘটনার পরিচয় পাওয়া যায়।
- ঘ)
মন্তব্যটি যথার্থ; ইতিহাস রচনায় সীমার সংগৃহীত নিদর্শনগুলোর গুরুত্ব অপরিসীম।
১. সীমার সংগ্রহ পুরোনো মুদ্রা, ছোট পাথরের মূর্তি, বাসন ও পানপাত্র—এগুলো প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। মুদ্রা থেকে শাসক, সময়কাল ও অর্থনীতির তথ্য মেলে।
২. মূর্তি থেকে শিল্পকলা ও ধর্মবিশ্বাস এবং বাসন-পানপাত্র থেকে তৎকালীন মানুষের জীবনযাত্রা জানা যায়।
৩. এগুলো সরাসরি অতীতের সাক্ষী ও পক্ষপাতমুক্ত। লিখিত উপাদান না থাকা যুগের ইতিহাস রচনায় এবং লিখিত তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ে এগুলো অপরিহার্য।সুতরাং, ইতিহাস রচনায় এসব নিদর্শনের গুরুত্ব অপরিসীম।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও