বিজ্ঞান • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৩

বিজ্ঞান প্রশ্ন

রনির বাবা হঠাৎ বুকের বাম পাশে প্রচণ্ড ব্যাথা অনুভব করলেন। তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলো। ডাক্তার বললেন, একটি বিশেষ অঙ্গের অস্বাভাবিকতায় এ রোগটি হয়েছে। তিনি বললেন, "সুনিয়ন্ত্রিত কর্মক্ষম জীবন ব্যবস্থাই এই রোগের চিকিৎসা।"

  1. ক)

    হৎস্পন্দন কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    রক্তের গ্রুপ জানা জরুরি কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত অঙ্গটি সুস্থ রাখার উপায় ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের অজ্ঞাটিতে রক্ত প্রবাহের গতিপথ বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    হৃৎপিণ্ডের ছন্দময় সংকোচন ও প্রসারণকে হৃৎস্পন্দন বা হার্ট-বিট বলে।

  2. খ)

    রক্তের গ্রুপ জানা জরুরি, কারণ রক্ত দেওয়ার আগে দাতা ও গ্রহীতার গ্রুপ মিলিয়ে নিতে হয়। ভুল গ্রুপের রক্ত দিলে গ্রহীতার রক্ত জমাট বেঁধে যায় এবং প্রাণহানি ঘটতে পারে। এছাড়া শিশুর পিতৃত্ব নির্ণয়ে জটিলতা হলে এবং অপরাধী শনাক্তকরণেও রক্তের গ্রুপ পরীক্ষা কাজে লাগে। বিয়ের আগে বর-কনের রক্তের গ্রুপ পরীক্ষা করলে ভবিষ্যৎ জটিলতা এড়ানো যায়।

  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত অঙ্গটি হৃৎপিণ্ড, কারণ বুকের বাম পাশে ব্যথা ও সুনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের পরামর্শ হৃদরোগের লক্ষণ। হৃৎপিণ্ড সুস্থ রাখার উপায়গুলো হলো:

    ১. উচ্চতা ও বয়স অনুযায়ী কাঙ্ক্ষিত ওজন বজায় রাখা, কারণ ওজন বেশি হলে হৃৎপিণ্ড দুর্বল হয়।

    ২. শর্করা, মিষ্টি ও স্নেহজাতীয় খাদ্য নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং শাকসবজি ও আঁশযুক্ত খাবার বেশি খাওয়া। চর্বিযুক্ত খাবার বর্জন করা।

    ৩. খাবারে লবণ কম খাওয়া, রসুন, তেঁতুল ও ভিটামিন C সমৃদ্ধ ফল খাওয়া।

    ৪. নিয়মিত হালকা ব্যায়াম বা হাঁটা, সময়মতো ঘুমানো এবং মানসিক চাপ এড়ানো।

    ৫. ধূমপান ও অতিভোজন থেকে বিরত থাকা।

    এসব নিয়ম মানলে হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

  4. ঘ)

    উদ্দীপকের অঙ্গ হৃৎপিণ্ডে রক্ত প্রবাহের গতিপথ নিচে বিশ্লেষণ করা হলো। হৃৎপিণ্ডের চারটি প্রকোষ্ঠ আছে, ওপরে ডান ও বাম অলিন্দ এবং নিচে ডান ও বাম নিলয়।

    ১. দেহ থেকে ডান অংশে: দেহের বিভিন্ন অংশ থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইডযুক্ত রক্ত ঊর্ধ্ব ও নিম্ন মহাশিরার মাধ্যমে ডান অলিন্দে আসে।

    ২. ডান অলিন্দ সংকুচিত হলে ট্রাইকাসপিড কপাটিকা খুলে রক্ত ডান নিলয়ে যায়।

    ৩. ডান নিলয় সংকুচিত হলে সেমিলুনার কপাটিকা দিয়ে রক্ত ফুসফুসীয় ধমনির মাধ্যমে ফুসফুসে যায়। সেখানে রক্ত কার্বন ডাই-অক্সাইড ছেড়ে অক্সিজেন গ্রহণ করে।

    ৪. অক্সিজেনযুক্ত রক্ত ফুসফুসীয় শিরা দিয়ে বাম অলিন্দে ফেরে।

    ৫. বাম অলিন্দ থেকে বাইকাসপিড কপাটিকা দিয়ে রক্ত বাম নিলয়ে আসে।

    ৬. বাম নিলয় সংকুচিত হলে রক্ত মহাধমনির মাধ্যমে সারা দেহে ছড়িয়ে পড়ে।

    এভাবে রক্ত একটি চক্রাকার পথে হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস ও দেহের মধ্য দিয়ে সংবহিত হয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন