বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৫
বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন
- ক)(1)
'বারোভূঁইয়া'কারা?
- খ)(2)
বাংলাকে বুলগাকপুর বলা হয়েছিল কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে কোন শাসকের বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
বাংলায় মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠায় উক্ত শাসকের অবদান মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
‘বারোভূঁইয়া’ হলেন ষোলো শতকের মাঝামাঝি থেকে সতেরো শতকের মধ্যে মুঘলদের অধীনতা অস্বীকার করে স্বাধীনভাবে সংগ্রামকারী বাংলার বড় বড় জমিদার বা ভূঁইয়া।
- খ)
তেরো শতকের শুরুতে বাংলা ছিল বিদ্রোহ-বিশৃঙ্খলায় পূর্ণ। দিল্লির সুলতানদের অধীনে শাসনকর্তা হয়ে আসা অনেকেই দিল্লির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে স্বাধীন হতে চেয়েছেন, যদিও সেই বিদ্রোহ শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি। বারবার বিদ্রোহের কারণে ঐতিহাসিক জিয়াউদ্দিন বারানী বাংলাকে ‘বুলগাকপুর’ নাম দিয়েছিলেন। এর অর্থ ‘বিদ্রোহের নগরী’।
- গ)
উদ্দীপকে ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বখতিয়ার খলজির বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হয়েছে।
ছকে বলা হয়েছে, তিনি জাতিতে তুর্কি ও ভাগ্যান্বেষী সৈনিক, মুসলমান শাসনের সূচনাকারী এবং বংশে খলজি। বখতিয়ার উত্তর আফগানিস্তানের গরমশিরের বাসিন্দা, জাতিতে তুর্কি, বংশে খলজি ও পেশায় সৈনিক ছিলেন। গজনি ও দিল্লিতে চাকরি না পেয়ে তিনি বদাউন ও অযোধ্যা হয়ে জায়গির লাভ করেন, এরপর নিজের শক্তি বাড়িয়ে বিহার ও নদীয়া জয় করেন। ১২০৪ সালে নদীয়া জয় করে তিনি বাংলায় মুসলিম শাসনের সূচনা করেন। ‘ছদ্মবেশী বণিক’ কথাটি নদীয়া অভিযানে তাঁর কৌশলী অগ্রসর হওয়ার ইঙ্গিত দেয়।
- ঘ)
বাংলায় মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠায় বখতিয়ার খলজির অবদান অসামান্য।
১. তিনি বিহার জয় করে এবং ১২০৪ সালে মাত্র ১৭/১৮ জন অশ্বারোহী নিয়ে অতর্কিতে নদীয়া আক্রমণ করেন। রাজা লক্ষ্মণ সেন পালিয়ে বিক্রমপুরে আশ্রয় নেন এবং বখতিয়ার বিনা বাধায় নদীয়া দখল করেন। এরপর লক্ষ্মণাবতী (গৌড়) জয় করে সেখানে রাজধানী স্থাপন করেন, যা মুসলমান আমলে লখনৌতি নামে পরিচিত হয়।
২. তিনি শুধু রাজ্য জয় করেই ক্ষান্ত হননি, বিজিত অঞ্চলে শাসন সুপ্রতিষ্ঠার ব্যবস্থাও নেন। তাঁর শাসনকালে মাদ্রাসা, মক্তব ও মসজিদ নির্মিত হয়।
৩. তাঁর হাত ধরেই ভারতের পূর্বাংশে প্রথম মুসলিম রাজনৈতিক শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়, যা প্রায় সাড়ে পাঁচ শ বছর (১২০৪-১৭৫৭) স্থায়ী ছিল। তাঁর তিব্বত অভিযান ব্যর্থ হয় এবং ১২০৬ সালে মৃত্যু হয়, তবু এটি তাঁর মূল কৃতিত্বকে ম্লান করেনি।
সুতরাং, বখতিয়ার খলজি বাংলায় মুসলিম শাসনের ভিত্তি স্থাপনকারী হিসেবে ইতিহাসে স্মরণীয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও