বাংলা ১ম পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৩
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
আমাদের দেশের মাটিতে মেশানো আমার প্রাণের ঘ্রাণগৌরবময় জীবনের সম্মান।প্রাণ-স্পন্দনে লক্ষ তরুর করেজীবন প্রবাহ সঞ্চারি মর্মরে,বক্ষে জাগায়ে আগামী দিনের আশা-আমার দেশের এ মাটি মধুর, মধুর আমার ভাষা ।
- ক)(1)
সনেটের অষ্টকে কী থাকে?
- খ)(2)
আর কি হে হবে দেখা?' – কবি এরূপ সংশয় প্রকাশ করেছেন কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপক ও 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতায় বর্ণিত সাদৃশ্যের দিকটি ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
“উদ্দীপক ও 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতায় বিশেষ দিকের সাদৃশ্য থাকলেও আঙ্গিক ও চেতনাগত পার্থক্য স্পষ্ট।”- মন্তব্যটির যৌক্তিক মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
সনেটের অষ্টকে কোনো ভাব বা বিষয়ের উপস্থাপন করা হয়।
- খ)
কবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত বহুদূর বিদেশে অবস্থান করছিলেন। সেখান থেকে কপোতাক্ষ নদের তীরে ফিরে আসা সহজ নয়। দেশ ও কালের দূরত্ব, প্রবাস-জীবনের অনিশ্চয়তা এবং দীর্ঘদিন নদকে না দেখার বেদনা তাঁকে ভাবিয়ে তুলেছে।
তাই জন্মভূমির প্রিয় নদের সঙ্গে আর কখনো দেখা হবে কি না, এই সংশয় ও আকুলতা থেকেই কবি প্রশ্নটি করেছেন।
- গ)
উদ্দীপকের কবি দেশের মাটির সঙ্গে নিজের প্রাণের ঘ্রাণ মিশে থাকার কথা বলেছেন এবং দেশের মাটি ও ভাষাকে মধুর বলে গভীর ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন। ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় কবি মধুসূদন প্রবাসে থেকেও জন্মভূমির কপোতাক্ষ নদের জন্য গভীর আকুলতা অনুভব করেছেন।
এভাবে উদ্দীপক ও কবিতা, দুটিতেই স্বদেশপ্রেম ও জন্মভূমির প্রতি গভীর টান প্রকাশ পেয়েছে। এটিই দুটির সাদৃশ্যের দিক।
- ঘ)
মন্তব্যটি যুক্তিযুক্ত। উদ্দীপক ও ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতা, দুটিতেই স্বদেশের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ পেয়েছে। কিন্তু আঙ্গিক ও চেতনায় পার্থক্য স্পষ্ট।
১. আঙ্গিকগত পার্থক্য: ‘কপোতাক্ষ নদ’ একটি সনেট বা চতুর্দশপদী কবিতা, যা চৌদ্দ চরণে রচিত এবং অষ্টক ও ষট্কে বিভক্ত। উদ্দীপকে এই নির্দিষ্ট কাঠামো নেই।
২. চেতনাগত পার্থক্য: কবিতায় প্রবাসী কবির বিরহ, স্মৃতিকাতরতা ও নদের সঙ্গে আর দেখা হবে কি না, এই সংশয় প্রধান। উদ্দীপকে দেশের মাটিতে মিশে থাকার গৌরব, ভাষার মাধুর্য ও আগামী দিনের আশাবাদ প্রকাশ পেয়েছে।
৩. কবিতায় কপোতাক্ষ নদ কবির কাছে ব্যক্তিগত স্মৃতির প্রতীক, উদ্দীপকে দেশের মাটি ও ভাষা সামগ্রিক জাতীয় গৌরবের প্রতীক।সুতরাং, সাদৃশ্য থাকা সত্ত্বেও দুটির আঙ্গিক ও চেতনাগত পার্থক্য স্পষ্ট, মন্তব্যটি যৌক্তিক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও