ভূগোল এবং পরিবেশ • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৫

ভূগোল এবং পরিবেশ প্রশ্ন

ঘটনা-১: সানজিদা টেবিলে বসে পড়ছিল। হঠাৎ সে অনুভব করল, চেয়ার টেবিলসহ ঘরের সব আসবাবপত্র কাঁপছে।ঘটনা-২: শিমুলতলী গ্রামে দীর্ঘদিন বৃষ্টি হয় না। প্রকৃতি স্বাভাবিক কোমলতা হারিয়ে রুক্ষ হয়ে উঠেছে।ঘটনা-৩: লক্ষ্মীপুরের বিস্তীর্ণ এলাকা এবার পানিতে তলিয়ে গিয়েছে। বিপন্ন মানুষজন উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছে।

  1. ক)

    বায়ুদূষণ কী?

    (1)
  2. খ)

    বাংলাদেশে মাটি ক্ষয় বৃদ্ধি পাচ্ছে কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    ঘটনা-২ এ বর্ণিত দুর্যোগের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    ঘটনা-১ ও ৩ এ বর্ণিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় আমাদের করণীয়সমূহ বিশ্লেষণ করো

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    বায়ুমণ্ডলে মিশ্রিত দূষিত পদার্থ ও ক্ষতিকর গ্যাসের কারণে বায়ু অস্বাস্থ্যকর হয়ে ওঠাকে বায়ুদূষণ বলে।

  2. খ)

    বাংলাদেশে বন্যা, অতিবৃষ্টি ও নদীভাঙনের ফলে প্রতিবছর প্রচুর মাটি ক্ষয় হয়। বনভূমি ধ্বংস হওয়ায় গাছের শিকড়ে মাটি আর আটকে থাকে না। এছাড়া অপরিকল্পিত চাষাবাদ, পাহাড় কাটা ও ভূমি ব্যবহারের অপব্যবস্থাপনাও মাটি ক্ষয় বাড়িয়ে দিচ্ছে। এ কারণে বাংলাদেশে মাটি ক্ষয় বাড়ছে।

  3. গ)

    ঘটনা-২ এ দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হওয়ায় প্রকৃতি কোমলতা হারিয়ে রুক্ষ হয়েছে, অর্থাৎ দুর্যোগটি খরা।

    বৈশিষ্ট্য:
    ১. দীর্ঘ সময় বৃষ্টি না হলে বা কম বৃষ্টি হলে মাটির আর্দ্রতা কমে যায়। মাটি স্বাভাবিক কোমলতা হারিয়ে রুক্ষ হয়।
    ২. কৃষিজ ফসলের উৎপাদন কমে যায়, ফলে খাদ্যদ্রব্যের অভাব ও দুর্ভিক্ষ দেখা দিতে পারে।
    ৩. উপদ্রুত এলাকায় পানির অভাব দেখা দেয়।
    ৪. প্রবল উত্তাপে নানা রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়ে, পরিবেশ রুক্ষ হয় এবং অগ্নিকাণ্ড বেড়ে যায়। বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে এর প্রভাব বেশি।

  4. ঘ)

    ঘটনা-১ এ ঘরের আসবাবপত্র কাঁপা ভূমিকম্প এবং ঘটনা-৩ এ লক্ষ্মীপুরের বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে যাওয়া বন্যা নির্দেশ করে। উভয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় করণীয়:

    ভূমিকম্প:
    ১. ভবন নির্মাণে জাতীয় বিল্ডিং কোড মানা এবং মজবুত ভবন তৈরি করা।
    ২. ভূমিকম্পের সময় করণীয় (শক্ত টেবিলের নিচে আশ্রয়, খোলা স্থানে যাওয়া) সম্পর্কে জনগণকে প্রশিক্ষণ ও সচেতন করা।

    বন্যা:
    ৩. বন্যার পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ ব্যবস্থা উন্নত করা এবং উঁচু স্থানে আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করা।
    ৪. বেড়িবাঁধ নির্মাণ, নদী খনন, নদীশাসন ও বনায়ন করা এবং পরিকল্পিত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখা।

    সুতরাং, পূর্বপ্রস্তুতি, সচেতনতা ও কাঠামোগত ব্যবস্থার সমন্বয়ে ভূমিকম্প ও বন্যার ক্ষতি কমানো সম্ভব।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন