ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৫

ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র প্রশ্ন

মিতা সোপ ইন্ডাস্ট্রিজের সাপ্তাহিক উৎপাদন ক্ষমতা ৫০,০০০ একক। সে অনুপাতে উৎপাদন বিভাগে কর্মী নিয়োজিত আছে। কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ সাবান উৎপাদনের জন্য প্রতি সপ্তাহে ৫ টন কাঁচামাল প্রয়োজন। প্রতিষ্ঠানটির ক্রয় বিভাগ প্রতি সপ্তাহে গড়ে ৩/৪ টন কাঁচামাল ক্রয় ও সরবরাহ করে। ফলে উৎপাদন বিভাগ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনা। এতে প্রতিষ্ঠানটি ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়। উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য সম্প্রতি কর্মী বিভাগ উৎপাদন বিভাগের জন্য আরো ২০ জন কর্মী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়।

  1. ক)

    শ্রমবিভাজন নীতি কী?

    (1)
  2. খ)

    কার্যভিত্তিক সংগঠন বলতে কী বুঝায়?

    (2)
  3. গ)

    ব্যবস্থাপনার কোন কাজটি যথাযথভাবে সম্পন্ন না হওয়ায় মিতা ইন্ডাস্ট্রিজ ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    তুমি কি মনে কর কর্মী বিভাগ কর্তৃক গৃহীত সিদ্ধান্তের ফলে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে? যুক্তিসহ মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক কাজকে কর্মীদের দক্ষতা ও যোগ্যতা অনুযায়ী বিভিন্ন ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশে বিভক্ত করে বণ্টন করার নীতিকে শ্রমবিভাজন নীতি বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে সংগঠন কাঠামোতে প্রতিষ্ঠানের সার্বিক কার্যাবলিকে কাজের প্রকৃতি অনুযায়ী বিভিন্ন বিভাগে বিভক্ত করে প্রত্যেক বিভাগের দায়িত্ব একেকজন বিশেষজ্ঞের ওপর অর্পণ করা হয়, তাকে কার্যভিত্তিক সংগঠন বলে।

    এরূপ সংগঠনে বিশেষজ্ঞ কর্মকর্তাগণ নিজ নিজ কাজের ক্ষেত্রে সরলরৈখিক আদেশ দানের পূর্ণ কর্তৃত্ব ভোগ করেন। এতে বিশেষজ্ঞ কর্মীদের জ্ঞানের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার নিশ্চিত হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ব্যবস্থাপনার ‘সমন্বয়সাধন’ (Coordinating) কাজটি যথাযথভাবে সম্পন্ন না হওয়ায় মিতা ইন্ডাস্ট্রিজ ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।

    প্রতিষ্ঠানের অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য বিভিন্ন বিভাগ, উপ-বিভাগ এবং কর্মীদের মধ্যকার প্রচেষ্টাকে সুসংবদ্ধ ও ঐক্যবদ্ধ করার প্রক্রিয়াকে সমন্বয়সাধন বলে। প্রতিষ্ঠানের এক বিভাগের কাজের গতির সাথে অন্য বিভাগের কাজের সামঞ্জস্য না থাকলে ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি হয়।

    উদ্দীপকে মিতা সোপ ইন্ডাস্ট্রিজের উৎপাদন বিভাগের সাপ্তাহিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য ৫ টন কাঁচামাল প্রয়োজন হলেও ক্রয় বিভাগ সরবরাহ করছে মাত্র ৩/৪ টন। ফলে উৎপাদন বিভাগ এবং ক্রয় বিভাগের মধ্যকার কাজের মধ্যে কোনো কার্যকর যোগসূত্র বা সমন্বয় নেই। কাঁচামাল সংকটে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। অতএব, সমন্বয়সাধন কাজের ব্যর্থতাই এর প্রধান কারণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    না, আমি মনে করি কর্মী বিভাগ কর্তৃক আরও ২০ জন কর্মী নিয়োগের সিদ্ধান্তের ফলে উৎপাদনের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে না।

    উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য শুধু শ্রমিক সংখ্যা বাড়ালেই চলে না, বরং উৎপাদনের মৌলিক উপকরণগুলোর মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে হয়। প্রয়োজনীয় কাঁচামাল নিশ্চিত না করে কেবল অতিরিক্ত জনবল বাড়ালে শ্রমের অপচয় ও পরিচালন ব্যয় বাড়ে, কিন্তু উৎপাদন বৃদ্ধি পায় না।

    উদ্দীপকে মিতা সোপ ইন্ডাস্ট্রিজের ৫০,০০০ একক উৎপাদন ক্ষমতার অনুপাতে ইতিমধ্যেই পর্যাপ্ত কর্মী নিয়োজিত আছে। মূল সমস্যা কর্মীদের ঘাটতি নয়, বরং কাঁচামালের অপ্রতুলতা। সাপ্তাহিক চাহিদা ৫ টন কাঁচামালের বিপরীতে ক্রয় বিভাগ গড়ে ৩/৪ টন সরবরাহ করায় বিদ্যমান কর্মীরাই পূর্ণ সক্ষমতায় কাজ করতে পারছে না। এমতাবস্থায় আরও ২০ জন কর্মী নিয়োগ করলে কাঁচামালের ঘাটতির কারণে তারাও অলস বসে থাকবে। এতে শুধু মজুরি খরচ বাড়বে এবং ক্ষতির পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পাবে।

    অতএব, কর্মী নিয়োগ না করে বরং ক্রয় বিভাগের মাধ্যমে প্রতি সপ্তাহে নির্ধারিত ৫ টন কাঁচামাল সরবরাহ নিশ্চিত করাই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের একমাত্র কার্যকর সমাধান।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন