বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৬

বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন

দৃশ্যকল্প-১: রাজা প্রতাপাদিত্য সাধারণ পরিবার থেকে উঠে জনগণের সমর্থনে নিজ বংশের প্রতিষ্ঠাতা হন। অরাজকতা দূর করে প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠা করেন। তার পরবর্তী শাসকরা বংশীয়ভাবে শাসনভার নিয়ে স্থিতিশীলতা বজায় রাখেন।
দৃশ্যকল্প-২: লিনা টেলিভিশনে একটি পুরোনো প্রামাণ্যচিত্র দেখেছিল। যেখানে বার্ধক্যগ্রস্ত শাসক শেষ পর্যন্ত হেরে গেলেন, শত্রু রাজ্যে প্রবেশ করল, কিন্তু তার পতনের ধ্বংসস্তূপ থেকে জন্ম নিল নতুন যুগের আলো, যা প্রজা ও সংস্কৃতিকে নতুন দিশা দেখাল।

  1. ক)

    কৌলীন্য প্রথা কী?

    (1)
  2. খ)

    ত্রি-শক্তির সংঘর্ষ কেন হয়েছিল? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    দৃশ্যকল্প-১ এ রাজা প্রতাপাদিত্য এর কার্যক্রমের সাথে প্রাচীন বাংলার কোন শাসকের কার্যক্রমের মিল খুঁজে পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    দৃশ্যকল্প-২ এ লিনার দেখা প্রামাণ্যচিত্রে প্রাচীন বাংলার যে শাসনের অবসানের প্রতিফলন ঘটেছে তার ফলাফল বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    কৌলীন্য প্রথা হলো সেন রাজা বল্লাল সেন প্রবর্তিত সামাজিক প্রথা, যেখানে আচার, বিনয়, বিদ্যা প্রভৃতি গুণের ভিত্তিতে ব্রাহ্মণ-কায়স্থদের মধ্যে কুলীন ও অকুলীন শ্রেণি ভাগ করা হয়।

  2. খ)

    ত্রি-শক্তির সংঘর্ষ বলতে পাল, গুর্জর-প্রতিহার ও রাষ্ট্রকূট— এই তিন শক্তির মধ্যে কনৌজ (কান্যকুব্জ) দখল ও উত্তর ভারতের কর্তৃত্ব নিয়ে সংঘটিত দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধকে বোঝায়। কনৌজ ছিল রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ, তাই এর অধিকার লাভে তিন শক্তি বারবার সংঘর্ষে জড়ায়। এই সংঘর্ষে পাল বংশ ধর্মপাল ও দেবপালের সময় সক্রিয় ছিল।

  3. গ)

    দৃশ্যকল্প-১-এর রাজা প্রতাপাদিত্যের কার্যক্রমের সঙ্গে প্রাচীন বাংলার শাসক গোপালের মিল পাওয়া যায়।

    গোপাল সাধারণ পরিবার থেকে এসে প্রজাদের ও সামন্তদের সমর্থনে রাজা নির্বাচিত হন। তিনি মাৎস্যন্যায় দূর করে শান্তি ও প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করেন এবং পাল বংশের ভিত্তি স্থাপন করেন। তাঁর উত্তরসূরিরা বংশানুক্রমে শাসন করে সেই ধারা বজায় রাখেন, যেমন প্রতাপাদিত্যের উত্তরসূরিরা করেছেন।

  4. ঘ)

    দৃশ্যকল্প-২-এ বার্ধক্যগ্রস্ত শাসকের পরাজয়, শত্রুর রাজ্যে প্রবেশ ও নতুন যুগের সূচনা— এটি লক্ষ্মণ সেনের পরাজয় ও সেন শাসনের অবসানকে নির্দেশ করে। এর ফলাফল:

    ১. রাজনৈতিক: বখতিয়ার খলজির নদীয়া বিজয়ের ফলে বাংলায় তুর্কি মুসলিম শাসনের সূচনা ও হিন্দু শাসনের অবসান হয়।
    ২. ধর্মীয় ও সামাজিক: সুফি-দরবেশদের প্রভাবে ইসলাম প্রসারিত হয় এবং জাতিভেদ ও কৌলীন্য প্রথার নিপীড়িত মানুষ নতুন ধর্মের প্রতি আকৃষ্ট হয়।
    ৩. সাংস্কৃতিক: ফারসি ও আরবি ভাষার প্রভাব বাড়ে, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতা পেয়ে বিকশিত হয় এবং স্থাপত্যে নতুন ধারা আসে।

    সুতরাং, সেন শাসনের অবসান বাংলার রাজনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতিতে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আনে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন