অর্থনীতি ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৭

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

দেলোয়ার সাহেব তার সঞ্চিত পাঁচ লক্ষ টাকা শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করেন। ২০১৩ সালে 'X' কোম্পানির প্রতিটি প্রাথমিক শেয়ারের মূল্য ছিল ১০.০০ টাকা। বর্তমানে এই শেয়ারের বাজার মূল্য ৭৫.০০ টাকা। গত বছর এই শেয়ারের মূল্য ছিল ১২০.০০ টাকা।

  1. ক)

    IPO এর পূর্ণরূপ কী?

    (1)
  2. খ)

    অর্থায়নের বাহ্যিক উৎস বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত দু'ধরনের শেয়ারের মধ্যে তুলনামূলক আলোচনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে শেয়ারের মূল্যে পরিবর্তনের ধারণাটি বন্ড মার্কেটের সাথে তুলনা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    IPO এর পূর্ণরূপ হলো Initial Public Offering (প্রাথমিক গণপ্রস্তাব)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তার নিজস্ব তহবিল বা অভ্যন্তরীণ উৎস ছাড়া বাইরের বিভিন্ন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা আর্থিক মধ্যস্থতাকারীদের কাছ থেকে যে অর্থ সংগ্রহ করে, তাকে অর্থায়নের বাহ্যিক উৎস বলে। যেমন—বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ, শেয়ার বা বন্ড বিক্রয়, মহাজনদের কাছ থেকে ঋণ ইত্যাদি।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে মূলত শেয়ারের দুটি রূপ বা বাজারের কথা বলা হয়েছে: প্রাথমিক শেয়ার (Primary Share) এবং সেকেন্ডারি বা বাজার শেয়ার (Secondary Share)। নিচে এদের তুলনামূলক আলোচনা করা হলো:

    ১. সংজ্ঞা: কোনো কোম্পানি যখন প্রথমবার জনসাধারণের কাছে শেয়ার বিক্রির প্রস্তাব দেয়, তাকে প্রাথমিক শেয়ার বলে। পক্ষান্তরে, প্রাথমিক শেয়ার ইস্যুর পর পুঁজিবাজারে যখন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে শেয়ার কেনাবেচা হয়, তাকে সেকেন্ডারি বা মাধ্যমিক শেয়ার বলে।
    ২. মূল্য নির্ধারণ: উদ্দীপকে ২০১৩ সালে প্রাথমিক শেয়ারের মূল্য ছিল নির্দিষ্ট অঙ্ক বা অভিহিত মূল্য (১০.০০ টাকা)। কিন্তু সেকেন্ডারি বাজারে শেয়ারটির মূল্য পরিবর্তনশীল, যা বাজারে চাহিদা ও জোগানের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয় (যেমন উদ্দীপকে বর্তমানে ৭৫ টাকা ও পূর্বে ১২০ টাকা)।
    ৩. লেনদেনের পক্ষ: প্রাথমিক শেয়ারে কোম্পানি সরাসরি বিনিয়োগকারীর নিকট শেয়ার বিক্রি করে অর্থ সংগ্রহ করে। অন্যদিকে মাধ্যমিক শেয়ারে বিনিয়োগকারী থেকে বিনিয়োগকারীর মধ্যে লেনদেন হয়, যার সাথে কোম্পানির সরাসরি অর্থ প্রাপ্তির সম্পর্ক থাকে না।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে শেয়ার বাজারে শেয়ারের মূল্যের দ্রুত ও ব্যাপক ওঠানামা নির্দেশিত হয়েছে, যা বন্ড মার্কেটের বৈশিষ্ট্য থেকে বেশ ভিন্ন। নিচে এদের তুলনামূলক বিশ্লেষণ তুলে ধরা হলো:

    ১. মূল্যের অস্থিরতা ও ঝুঁকি: শেয়ারের মূল্য প্রতিনিয়ত বাজারে চাহিদা ও জোগান, কোম্পানির আর্থিক অবস্থা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে দ্রুত পরিবর্তিত হয়। উদ্দীপকে X কোম্পানির শেয়ারের দাম ১০ টাকা থেকে বেড়ে ১২০ টাকা হয় এবং পরবর্তীতে কমে ৭৫ টাকায় নেমে আসে। এই ধরনের ব্যাপক মূল্যের তারতম্য ও ঝুঁকি শেয়ার বাজারের মূল বৈশিষ্ট্য। অন্যদিকে, বন্ড মার্কেটে মূল্যের এমন তীব্র ওঠানামা সচরাচর দেখা যায় না; এটি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল এবং ঝুঁকি কম।

    ২. আয়ের নিশ্চয়তা: শেয়ারের ক্ষেত্রে লভ্যাংশ অনির্দিষ্ট এবং মূলধনি লাভ বা ক্ষতি মূল্যের ওপর নির্ভর করে। কিন্তু বন্ড হলো একটি ঋণপত্র, যার বিপরীতে বন্ডহোল্ডার নির্দিষ্ট মেয়াদে নির্দিষ্ট হারে নিশ্চিত সুদ পেয়ে থাকেন। ফলে বন্ডের বাজারমূল্য মূলত সুদের হারের পরিবর্তনের সাথে ধীরে পরিবর্তিত হয়, শেয়ারের মতো ফটকা কারবার বা তীব্র ওঠানামা এতে থাকে না।

    ৩. মালিকানা বনাম ঋণ: শেয়ার মালিকরা কোম্পানির আংশিক মালিকানা লাভ করেন এবং লাভ-ক্ষতির অংশীদার হন। পক্ষান্তরে, বন্ডহোল্ডাররা কোম্পানির পাওনাদার, তাই তাদের মূলধন ফেরত পাওয়ার অগ্রাধিকার ও নিরাপত্তা বেশি থাকে।

    সুতরাং, উদ্দীপকে শেয়ার মূল্যের যে অতি-পরিবর্তনশীলতা দেখা যায়, বন্ড মার্কেটের ক্ষেত্রে তার তীব্রতা অনেক কম এবং সেখানে নির্দিষ্ট রিটার্ন ও স্থিতিশীলতা বিরাজ করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন