পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২২
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট কয়টি আসন লাভ করে?
- খ)(2)
অসহযোগ আন্দোলন বলতে কী বোঝো?
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত বৈশিষ্ট্যের আলোকে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে চিহ্নিত কর। শিক্ষা ক্ষেত্রে তার অবদানসমূহ ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
বাঙালির জাতিসত্তার বিকাশে উত্তর নেতার অবদান মূল্যায়ন কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৫৪ সালের পূর্ব বাংলা প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট মোট ২৩৭টি মুসলিম আসনের মধ্যে ২২৩টি আসন লাভ করে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অসহযোগ আন্দোলন হলো ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে ১৯২০ সালে শুরু হওয়া একটি অহিংস ও রক্তপাতহীন প্রতিবাদী আন্দোলন। রাওলাট আইন, জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড এবং খিলাফত প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে এই আন্দোলন সূচিত হয়। এ আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল ব্রিটিশ সরকারের সাথে সকল ক্ষেত্রে সহযোগিতা বর্জন করা—যেমন সরকারি খেতাব বর্জন, আদালত ও সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বর্জন, বিদেশি পণ্য বর্জন এবং আইন অমান্য করে ব্রিটিশ সরকারকে অচল করে দেওয়া।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে কৃষক-প্রজা পার্টি গঠন, ঋণ সালিসি বোর্ড গঠন, ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাবের উত্থাপন এবং বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইন সংশোধনের বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে অবিভক্ত বাংলার প্রখ্যাত জননেতা শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হককে নির্দেশ করা হয়েছে।
শিক্ষাক্ষেত্রে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের অবদান অপরিসীম। বিশেষ করে অনগ্রসর বাঙালি মুসলিম সমাজের শিক্ষার প্রসারে তিনি বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেন। বাংলার শিক্ষামন্ত্রী ও পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি বহু স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৩৭ সালে তিনি অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী হয়ে অবৈতনিক প্রাথমিক শিক্ষা বিল পাস করান। নারী শিক্ষার বিকাশে তিনি কলকাতায় বিখ্যাত লেডি ব্র্যাবোর্ন কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। এছাড়া কলকাতায় ইসলামিয়া কলেজ (বর্তমান মৌলানা আজাদ কলেজ), ঢাকায় ফজলুল হক মুসলিম হল, তেজগাঁও কৃষি কলেজ (বর্তমান শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়), চাখার ফজলুল হক কলেজসহ অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তাঁর প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতায় প্রতিষ্ঠিত হয়। তিনি দরিদ্র ও মেধাবী মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষাবৃত্তি ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থাও করেন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাঙালির জাতিসত্তা ও রাজনৈতিক চেতনার বিকাশে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের অবদান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও অনস্বীকার্য।
প্রথমত, তিনি বাংলার শোষিত ও নির্যাতিত কৃষক-প্রজাদের মাঝে রাজনৈতিক সচেতনতা জাগ্রত করেন। প্রজাস্বত্ব আইন সংশোধন এবং ঋণ সালিসি বোর্ড গঠনের মাধ্যমে তিনি সামন্তবাদী ও মহাজনি শোষণ থেকে কৃষক সমাজকে মুক্ত করে তাদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক স্বাধিকার প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করেন।
দ্বিতীয়ত, ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ মুসলিম লীগের লাহোর অধিবেশনে তিনি ঐতিহাসিক 'লাহোর প্রস্তাব' উত্থাপন করেন, যেখানে ভারতের উত্তর-পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলগুলোকে নিয়ে 'স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ' (Independent States) গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছিল। এ প্রস্তাবের মাঝেই মূলত ভবিষ্যৎ স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের বীজ নিহিত ছিল।
তৃতীয়ত, ভাষা আন্দোলন পরবর্তী সময়ে ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে তিনি মওলানা ভাসানী ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সাথে মিলে 'যুক্তফ্রন্ট' গঠন করেন এবং মুসলিম লীগ সরকারের শোচনীয় পরাজয় ঘটিয়ে বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিজয়ে নেতৃত্ব দেন। পরবর্তীতে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনি বাংলা নববর্ষ উদযাপন এবং বাংলা একাডেমির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
সুতরাং, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্ব ও কৃষক-দরদি রাজনীতির মধ্য দিয়ে অধিকারহীন বাঙালি জাতিকে আত্মমর্যাদাসম্পন্ন ও স্বাধিকারকামী জাতিসত্তায় রূপান্তরিত করতে অসামান্য অবদান রেখেছিলেন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও