হিন্দু ধর্ম • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২০
হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন
শ্যামল নবম শ্রেণির ছাত্র। সে প্রতিদিন ঘুম থেকে ওঠে ভগবানের উপাসনাদি, যোগাসন ও গুরুজনকে প্রণাম করে দিনের কার্যক্রম শুরু করে। এতে তার মন শুদ্ধ ও পবিত্র থাকে এবং শরীরে ভারসাম্য বজায় থাকে। আবার কোমর ও মেরুদণ্ডের শক্তি বৃদ্ধি পায়। সে কোনো অসুস্থ বোধ করছে না। অন্যদিকে পলাশ ১০ম শ্রেণির ছাত্র। সে প্রায়ই অসুস্থ থাকে। তার মানসিক অবস্থা ও হজম শক্তি বৃদ্ধি পায় না এবং মেরুদণ্ড সতেজ, কোষ্ঠকাঠিন্য ও অজীর্ণ দূর হয় না। দেখা যায় সে কোনো যোগাসনও করে না।
- ক)(1)
যোগাসন কাকে বলে?
- খ)(2)
'প্রত্যাহার' বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
শ্যামলের মন ও শরীর ভালো থাকার জন্য যে ধর্মীয় রীতিগুলো অনুশীলন করে তার আবশ্যকতা বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
পলাশ কোনো আসন অনুশীলন না করার ফলে তার জীবনের উপর যে প্রভাব পড়েছে তা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
দেহ ও মনকে সুস্থ ও স্থির রাখার উদ্দেশ্যে যে বিভিন্ন দেহভঙ্গি বা দেহাবস্থান অনুশীলন করা হয়, তাকে যোগাসন বলে।
- খ)
প্রত্যাহার অর্থ ফিরিয়ে নেওয়া। বাহ্যিক বিষয়বস্তু থেকে ইন্দ্রিয়সমূহকে ভিতরের দিকে ফিরিয়ে নেওয়াকে যোগে প্রত্যাহার বলে। এটি অষ্টাঙ্গ যোগের পঞ্চম ধাপ। দৃঢ়সংকল্প ও অভ্যাসের দ্বারা ইন্দ্রিয়গুলোকে অন্তর্মুখী করা যায়। ইন্দ্রিয় অন্তর্মুখী হলে চিত্তে বিষয়ের প্রতি আসক্তি নষ্ট হয় এবং চিত্ত আরাধ্য বস্তুতে নিবিষ্ট হতে পারে।
- গ)
শ্যামল প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে ভগবানের উপাসনা, যোগাসন এবং গুরুজনকে প্রণাম করে দিনের কাজ শুরু করে। এই ধর্মীয় রীতিগুলো তার মন ও শরীর সুস্থ রাখার জন্য অত্যন্ত আবশ্যক।
উপাসনার আবশ্যকতা: বিশেষ পদ্ধতিতে ঈশ্বরের গুণগান করার নাম উপাসনা। পাঠ্যবই অনুযায়ী উপাসনা হৃদয়কে পরিশুদ্ধ ও পবিত্র করে, মনের দৃঢ়তা বাড়ায় এবং কামনা-বাসনা, হিংসা-বিদ্বেষ দূর করে মনকে সত্যের পথে চালিত করে। উদ্দীপকে শ্যামলের মন যে শুদ্ধ ও পবিত্র থাকে, তা এই উপাসনারই ফল।
যোগাসনের আবশ্যকতা: আসন অনুশীলনে শরীরে দৃঢ়তা আসে, শরীর নীরোগ ও লঘুভার হয় এবং শরীর ও মনে সমন্বয় ঘটে। শ্যামলের শরীরে ভারসাম্য বজায় থাকা এবং কোমর ও মেরুদণ্ডের শক্তি বৃদ্ধি পাওয়া (যেমন বৃক্ষাসনের প্রভাব) যোগাসনের ফল। এ কারণে সে অসুস্থ বোধ করে না।
গুরুজনকে প্রণামের আবশ্যকতা: প্রণাম শিষ্টাচার ও শ্রদ্ধা প্রকাশের অন্যতম উপায়। এটি মানুষকে বিনয়ী করে এবং বড়দের আশীর্বাদ লাভের সুযোগ দেয়।
অতএব, উপাসনা, যোগাসন ও প্রণামের মাধ্যমে শ্যামলের মন ও শরীর দুটিই সুস্থ ও সুন্দর থাকে।
- ঘ)
উদ্দীপকে শ্যামল নিয়মিত যোগাসন করে সুস্থ থাকলেও পলাশ কোনো আসন করে না। ফলে সে প্রায়ই অসুস্থ থাকে, তার হজম শক্তি ও মানসিক অবস্থার উন্নতি হয় না এবং মেরুদণ্ড সতেজ থাকে না। আসন অনুশীলন না করার ফলে পলাশের জীবনে এই নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
পাঠ্যবই অনুযায়ী আসন হলো দেহ ও মনকে সুস্থ ও স্থির রাখার জন্য নির্দিষ্ট দেহভঙ্গি। এর মাধ্যমে শরীর নীরোগ হয় এবং মনে স্থিরতা আসে। পলাশের জীবনে প্রভাবগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো—
১. হজম ও পেটের সমস্যা: অর্ধকূর্মাসন ও হলাসনের মতো আসন অজীর্ণ, কোষ্ঠকাঠিন্য, পেট ফাঁপা দূর করে এবং হজমশক্তি বাড়ায়। পলাশ এগুলো না করায় তার কোষ্ঠকাঠিন্য ও অজীর্ণ দূর হচ্ছে না।
২. মেরুদণ্ডের দুর্বলতা: অর্ধকূর্মাসন মেরুদণ্ড সতেজ করে এবং হলাসন মেরুদণ্ডকে সুস্থ ও নমনীয় রাখে। আসন না করায় পলাশের মেরুদণ্ড সতেজ থাকছে না।
৩. মানসিক অস্থিরতা: আসনে মস্তিষ্ক শান্ত হয়, ভয়-ক্রোধ আলগা হয় এবং মন ধীর, স্থির ও শান্ত হয়। আসনের অভাবে পলাশের মানসিক অবস্থার উন্নতি ঘটছে না।
৪. সার্বিক অসুস্থতা: আসন প্রাণশক্তি ও সুস্বাস্থ্য দেয়। এর অভাবে পলাশ প্রায়ই অসুস্থ থাকে, যার প্রভাব তার পড়াশোনায়ও পড়ে। দশম শ্রেণির ছাত্র হিসেবে এটি তার জন্য ক্ষতিকর।শ্যামলের সঙ্গে তুলনা করলে বোঝা যায় সুস্থতার পার্থক্যের মূল কারণ আসন অনুশীলন।
সুতরাং, আসন অনুশীলন না করার ফলে পলাশের শারীরিক, মানসিক ও শিক্ষাজীবন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সুস্থ জীবনের জন্য তাকে নিয়মিত যোগাসন করা উচিত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও