পৌরনীতি ও নাগরিকতা • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৪

পৌরনীতি ও নাগরিকতা প্রশ্ন

দরিদ্র দিনমজুর 'জেড মিয়া' ধনী ব্যবসায়ী জনাব শিশিরের ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী। জেড মিয়া আক্ষরিক জ্ঞানের অভাবে সমাজের শিক্ষিত শ্রেণির সাথে যুক্তিসংগত আলোচনায় অংশ না নেওয়া এবং সমিতি থেকে ঋণ গ্রহণের সময় টিপসই দেওয়া বিষয়গুলো ব্যবসায়ীর নজরে পড়লে তিনি এগিয়ে আসেন এবং গ্রামের সকল অশিক্ষিত মানুষের শিক্ষা গ্রহণে উদ্বুদ্ধের পাশাপাশি খরচের দায়িত্বও নেন।

  1. ক)

    জনসংখ্যা সমস্যা কী?

    (1)
  2. খ)

    জনসংখ্যা পুনর্বণ্টন করা কেন প্রয়োজন?

    (2)
  3. গ)

    'জেড মিয়ার' স্বাক্ষর না পারা আমাদের দেশে কোন নাগরিক সমস্যা নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    নাগরিকের শিক্ষাজীবনকে নিশ্চিত করতে ব্যবসায়ীর উদ্যোগটির পাশাপাশি সরকারের করণীয় বর্ণনা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    কোনো দেশের সম্পদ ও সুযোগ-সুবিধার তুলনায় জনসংখ্যা অতিরিক্ত বেড়ে গেলে যে সমস্যার সৃষ্টি হয়, তাকে জনসংখ্যা সমস্যা বলে।

  2. খ)

    কোনো এলাকায় জনসংখ্যা অতিরিক্ত ঘনবসতিপূর্ণ হলে সেখানে বাসস্থান, খাদ্য, শিক্ষা ও চিকিৎসা সেবার ওপর চাপ বাড়ে। আবার অন্য এলাকায় জনসংখ্যা কম হলে সম্পদ অব্যবহৃত থেকে যায়। জনসংখ্যা পুনর্বণ্টনের মাধ্যমে অধিক ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা থেকে কম ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় মানুষকে স্থানান্তর করলে সম্পদের সুষম ব্যবহার সম্ভব হয়। এতে আঞ্চলিক ভারসাম্য রক্ষা পায় এবং সামগ্রিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়। তাই জনসংখ্যা পুনর্বণ্টন প্রয়োজন।

  3. গ)

    'জেড মিয়ার' স্বাক্ষর করতে না পারা আমাদের দেশের নিরক্ষরতা সমস্যাকে নির্দেশ করে।

    যে ব্যক্তি লিখতে ও পড়তে পারে না, তাকে নিরক্ষর বলে। উদ্দীপকে জেড মিয়া অক্ষরজ্ঞানের অভাবে শিক্ষিতদের সাথে আলোচনায় অংশ নিতে পারেন না এবং ঋণ নেওয়ার সময় টিপসই দেন। নিরক্ষরতার ফলে মানুষ নিজের অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন হতে পারে না, সহজে প্রতারিত হয় এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারে না। দারিদ্র্য, শিক্ষার প্রতি অনীহা ও সচেতনতার অভাব নিরক্ষরতার প্রধান কারণ। সুতরাং, জেড মিয়ার অবস্থা নিরক্ষরতা সমস্যারই প্রতিফলন।

  4. ঘ)

    নাগরিকের শিক্ষাজীবন নিশ্চিত করতে ব্যবসায়ী শিশিরের উদ্যোগ প্রশংসনীয়, কারণ তিনি অশিক্ষিতদের শিক্ষার জন্য উদ্বুদ্ধ করেছেন এবং খরচের দায়িত্ব নিয়েছেন। তবে সামগ্রিকভাবে শিক্ষা নিশ্চিত করতে সরকারের নিম্নোক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন:

    ১. অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা: প্রাথমিক স্তরে সকল শিশুর জন্য বিনামূল্যে ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং উপবৃত্তি ও বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরণ করা।
    ২. গণশিক্ষা কার্যক্রম: বয়স্ক ও নিরক্ষর মানুষের জন্য রাত্রিকালীন ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষাকেন্দ্র চালু করা।
    ৩. অবকাঠামো ও শিক্ষক: পর্যাপ্ত বিদ্যালয় স্থাপন, প্রশিক্ষিত শিক্ষক নিয়োগ এবং শিক্ষার মান উন্নয়ন করা।
    ৪. সচেতনতা সৃষ্টি: গণমাধ্যমের মাধ্যমে শিক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে প্রচার চালানো এবং দারিদ্র্য দূরীকরণে ব্যবস্থা নেওয়া।

    সুতরাং, ব্যক্তিগত উদ্যোগের পাশাপাশি সরকারি পদক্ষেপ একত্রে কার্যকর হলে নিরক্ষরতা দূর হবে এবং প্রত্যেক নাগরিকের শিক্ষাজীবন নিশ্চিত হবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন