ভূগোল এবং পরিবেশ • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫

ভূগোল এবং পরিবেশ প্রশ্ন

দৃশ্যকল্প-১: পলাশ দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একটি এলাকায় বসবাস করেন। এখানে বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে প্রকৃতি বুহ্মরূপ ধারণ করে এবং অগ্নিকাণ্ডের তান্ডব বেড়ে যায়।দৃশ্যকল্প-২: প্রতি বছর একটি নির্দিষ্ট ঋতুতে শিমুলদের এলাকা প্লাবিত হয়ে ঘর-বাড়ি তলিয়ে যায়। এতে তাদের জীবন, সম্পদ ও পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হয়।দৃশ্যকল্প-৩: মুকুল দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকায় বসবাস করেন। যেখানে চৈত্র-বৈশাখ মাসে একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়।

  1. ক)

    প্রশমন কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    সুনামি সংঘটিত হবার কারণ ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    দৃশ্যকল্প-১ এ পলাশের এলাকায় সংঘটিত দুর্যোগের প্রভাব বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    দৃশ্যকল্প-২ ও ৩ দুর্যোগদ্বয়ের মধ্যে কোনটি অধিকতর ক্ষতিকর? বিশ্লেষণমূলক মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    দুর্যোগের ঝুঁকি ও ক্ষয়ক্ষতি কমানোর জন্য আগেভাগে যে ব্যবস্থা বা পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তাকে প্রশমন বলে।

  2. খ)

    সুনামি সংঘটিত হওয়ার প্রধান কারণ সমুদ্রের তলদেশে প্রবল ভূমিকম্প। ভূমিকম্পে সমুদ্রতলে চ্যুতি ও ফাটল সৃষ্টি হলে পানি তীর থেকে নিচে নেমে যায়, পরক্ষণেই বিশাল ঢেউ হয়ে উপকূলে আছড়ে পড়ে। এছাড়া সমুদ্রের তলদেশে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ও ভূমিধসের কারণেও সুনামি হতে পারে।

  3. গ)

    দৃশ্যকল্প-১ এ পলাশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের এলাকায় প্রকৃতির রুদ্ররূপ এবং অগ্নিকাণ্ডের তাণ্ডবের যে বর্ণনা আছে, তা ভূমিকম্প দুর্যোগকে নির্দেশ করে। ভূমিকম্পের প্রভাব নিচে বর্ণনা করা হলো।

    ভূমিকম্প কী: ভূত্বকের কোনো অংশের আকস্মিক ও ক্ষণস্থায়ী কম্পনকে ভূমিকম্প বলে। বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। ভূমিকম্পে ভূপৃষ্ঠ হঠাৎ কেঁপে উঠে ব্যাপক ধ্বংস সাধন করে।

    পলাশের এলাকায় প্রভাব:
    ১. অবকাঠামোর ক্ষতি: ভূমিকম্পে ঘরবাড়ি, সেতু, রেলপথ, সড়কপথ ও পাইপলাইন ভেঙে পড়ে। টেলিফোন ও বিদ্যুৎ লাইন ছিঁড়ে গিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল হয়ে যায়।
    ২. অগ্নিকাণ্ড: উদ্দীপকে উল্লিখিত অগ্নিকাণ্ডের তাণ্ডব এ দুর্যোগের একটি বড় প্রভাব। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের লাইন ছিঁড়ে বা শর্টসার্কিট হয়ে আগুন ধরে যায়, যা ক্ষতিকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
    ৩. প্রাণহানি ও মহামারি: বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে মারা যায়। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দুর্ভিক্ষ ও রোগব্যাধি দেখা দেয়।
    ৪. ভূপ্রকৃতির পরিবর্তন: ভূত্বকে ফাটল ও চ্যুতি সৃষ্টি হয়, নদীর গতি পরিবর্তিত বা বন্ধ হয় এবং পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস ঘটে।

    সুতরাং, ভূমিকম্পের প্রভাবে পলাশের এলাকায় জীবন, সম্পদ ও যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক ক্ষতি হয়।

  4. ঘ)

    দৃশ্যকল্প-২ এ বর্ষাকালে প্রতিবছর এলাকা প্লাবিত হয়ে ঘরবাড়ি তলিয়ে যাওয়ার বর্ণনা আছে, যা বন্যা। দৃশ্যকল্প-৩ এ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলে চৈত্র-বৈশাখ মাসে সংঘটিত দুর্যোগটি ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস। আমার মতে এ দুটির মধ্যে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস অধিকতর ক্ষতিকর।

    দুর্যোগ দুটির পরিচয়: অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পানিতে নদী উপচে নিচু ভূমি প্লাবিত হলে বন্যা হয়। আর এপ্রিল-মে ও অক্টোবর-নভেম্বর মাসে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট প্রবল নিম্নচাপে ঘূর্ণিঝড় হয়, যার সাথে সমুদ্রে জলোচ্ছ্বাস দেখা দেয়। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, নোয়াখালী, বরিশাল ও খুলনার উপকূলে প্রায় প্রতিবছর এটি আঘাত হানে।

    ১. আকস্মিকতা ও প্রস্তুতির সুযোগ: বন্যা সাধারণত ধীরে ধীরে আসে এবং আগাম সতর্কবার্তা পাওয়া যায়, ফলে মানুষ গবাদিপশু ও জিনিসপত্র নিয়ে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে পারে। কিন্তু ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ ও শক্তি দ্রুত বদলায় এবং এটি অল্প সময়ের মধ্যে আঘাত হানে। তাই প্রস্তুতির সুযোগ কম।
    ২. প্রাণহানি: ঘূর্ণিঝড়ের প্রবল বাতাস এবং ১০-১৫ ফুট উঁচু জলোচ্ছ্বাসে এক রাতেই হাজার হাজার মানুষ ও পশু প্রাণ হারায়। বন্যায় সাধারণত প্রাণহানি তুলনামূলক কম।
    ৩. সম্পদের ক্ষতি: ঘূর্ণিঝড়ে ঘরবাড়ি, গাছপালা, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ কাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। লোনা পানি ঢুকে কৃষিজমি দীর্ঘদিন চাষের অযোগ্য থাকে। বন্যায় ক্ষতি হলেও পানি নামার পর পলি জমে জমি অনেক ক্ষেত্রে আরও উর্বর হয়।
    ৪. কিছু ক্ষেত্রে বন্যার ব্যাপকতা: বন্যা অনেক বড় এলাকা জুড়ে এবং দীর্ঘ সময় স্থায়ী হয়, ফলে ফসলহানি, রোগব্যাধি ও কর্মহীনতা বাড়ে। তবে এ ক্ষতি ঘূর্ণিঝড়ের মতো সর্বগ্রাসী নয়।

    সুতরাং, বন্যা ব্যাপক এলাকায় ক্ষতি করলেও আকস্মিকতা, প্রাণহানি ও স্থায়ী ধ্বংসের বিচারে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস অধিক ক্ষতিকর। তবে আগাম সতর্কতা, আশ্রয়কেন্দ্র ও বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে উভয় দুর্যোগের ক্ষতি কমানো সম্ভব।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন