বাংলা ১ম পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৭
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
আমার দেশের মতন এমন দেশ কি কোথাও আছে বউ কথা কও পাখি ডাকে নিত্য হিজল গাছে।। দোয়ের কোয়েল কুটুম পাখি, বন-বাদাড়ে যায়রে ডাকি আছে শাপলা শালুক ঝিলে বিলে, পুকুর ভরা মাছে।। হাজার তারার মানিক জ্বলে হেথায় মাটির ঘরে সবার মুখের মিষ্টি কথায় সবার হৃদয় ভরে রে।।
- ক)(1)
কবি জীবনানন্দ দাসকে 'নির্জনতম' কবি বলে আখ্যায়িত করেছেন কে?
- খ)(2)
"এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে- সবচেয়ে সুন্দর করুণ"- পঙ্ক্তিটির মর্মার্থ বর্ণনা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকটির সাথে 'এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে' কবিতা কতটুকু সাদৃশ্যপূর্ণ বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপক ও 'এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে' কবিতার আলোচ্য বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বর্ণনা দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কবি জীবনানন্দ দাসকে 'নির্জনতম কবি' বলে আখ্যায়িত করেছেন কবি বুদ্ধদেব বসু।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে- সবচেয়ে সুন্দর করুণ" পঙ্ক্তিটির মাধ্যমে কবি বাংলার অনন্য রূপ এবং সেই রূপের মাঝে জড়িয়ে থাকা এক ধরনের বিষাদময় স্নিগ্ধতাকে বুঝিয়েছেন।
কবি জীবনানন্দ দাস বাংলাদেশকে পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর স্থান বলে মনে করেন। তবে এ সৌন্দর্য শুধু নয়নাভিরাম চাকচিক্য নয়, বরং এর শান্ত, শ্যামল ও বিষণ্ণ প্রকৃতির মাঝে এক মায়াময় করুণ ভাব বিরাজ করে, যা কবির হৃদয়কে এক গভীর ভালোবাসায় আচ্ছন্ন করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকটির সাথে 'এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে' কবিতাটি গ্রামবাংলার চিরায়ত রূপ, পাখি ও জলাশয়কেন্দ্রিক প্রকৃতির বর্ণনার দিক থেকে গভীরভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ।
'এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে' কবিতায় কবি জীবনানন্দ দাস বাংলার নরম ঘাস, গাছপালা, নদী, মেঘ আর পাখির কলতানের মধ্য দিয়ে বাংলার নৈসর্গিক রূপের নিখুঁত চিত্র তুলে ধরেছেন। বাংলার নিভৃত পল্লীপ্রকৃতির সৌন্দর্যই এই কবিতার প্রাণ।
উদ্দীপকেও একইভাবে বাংলার হিজল গাছ, বউ কথা কও, দোয়েল, কোয়েলসহ নানা পাখির ডাক, ঝিল-বিলের শাপলা-শালুক ও মাছে ভরা পুকুরের কথা বর্ণিত হয়েছে। উভয় রচনাতেই বাংলাদেশের গ্রাম্য প্রকৃতি এবং পাখি ও গাছগাছালির মুগ্ধকর রূপটি একাত্ম হয়ে প্রকাশ পাওয়ায় এদের মধ্যে গভীর সাদৃশ্য লক্ষণীয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপক ও 'এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে' উভয় কবিতাতেই বাংলাদেশের গ্রামবাংলার অকৃত্রিম ও স্নিগ্ধ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের চমৎকার বর্ণনা ফুটে উঠেছে।
'এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে' কবিতায় জীবনানন্দ দাস বাংলার সবুজ প্রকৃতির নিবিড় ছায়ায় গড়ে ওঠা রূপের বর্ণনা দিয়েছেন। সেখানে কাঁঠাল-অশ্বত্থ-বট-জারুল-হিজলের গাছপালা, ধলেশ্বরী-পদ্মা-মেঘনার জলধারা, শঙ্খচিল ও মাছরাঙার ওড়াউড়ি এবং শান্ত নদীর কিনারে ঘাসের স্নিগ্ধ রূপ জীবন্ত হয়ে উঠেছে। এই রূপ কেবল দৃশ্যমান নয়, বরং এর সাথে মিশে আছে কবির অন্তরের গভীর ভালোবাসা।
অন্যদিকে উদ্দীপকেও বাংলার চিরচেনা পল্লীপ্রকৃতির দৃশ্যপট অঙ্কিত হয়েছে। সেখানে হিজল গাছে বউ কথা কও পাখির নিরবচ্ছিন্ন ডাক, ঝোপঝাড়ে দোয়েল-কোয়েল ও নানা কুটুম পাখির সুরেলা কণ্ঠ, ঝিল ও বিলে ফুটে থাকা শাপলা-শালুক এবং মাছে ভরা পুকুরের সমৃদ্ধ রূপ প্রতিফলিত হয়েছে। এছাড়া সাধারণ মানুষের মাটির ঘরে তারার আলোর মতো সৌন্দর্য ও তাঁদের অমায়িক মুখের মিষ্টি কথার মধ্য দিয়ে প্রকৃতি ও মানুষের পারস্পরিক মেলবন্ধন প্রকাশ পেয়েছে।
অতএব, উদ্দীপক ও আলোচ্য কবিতা উভয়ই নদীমাতৃক বাংলার চিরায়ত গাছপালা, বুনো ফুল, পাখির কলতান ও শ্যামল পরিবেশের অপরূপ রূপবৈচিত্র্যকে গভীরভাবে উপস্থাপন করেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও