হিন্দু ধর্ম • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৪
হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন
লিটন বাবু বাসায় ফেরার সময় গৃহঋণ বাবদ ব্যাংক থেকে উত্তোলিত টাকার ব্যাগ অটোরিক্সায় ফেলে এসেছে। পরিবারের সাথে আলাপ করে স্থানীয় থানার উদ্দেশ্যে রওনা হতেই ঘরের বাইরে এসে দেখলেন, সে অটোরিক্সা চালক বাসার সামনে ব্যাগ হাতে দাঁড়িয়ে। লিটন বাবু তাকে কিছু টাকা দিতে চাইলে চালক বললেন, তিনি টাকা ফেরত দিতে পেরেই আনন্দিত। এই বলে চলে গেলেন। লিটন বাবুর দুই সন্তান অর্পা ও অয়ন। তারা প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যা দুই বেলা তাদের গৃহ দেবতার সামনে হাত জোড় করে এবং মাথা মাটিতে ঠেকিয়ে শ্রদ্ধা জানান।
- ক)(1)
ধর্মপথ কাকে বলে?
- খ)(2)
আমরা কেন ধর্ম পালন করি? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
রিক্সাচালকের আচরণে কোন গুণটি প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
অর্পা ও অয়নের আচরণে কোন দিকটি ফুটে উঠেছে? তার গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
জীবনের যে পথ অনুসরণ করলে নিজের মোক্ষ বা চিরমুক্তি ঘটে এবং সকলের কল্যাণ হয়, সে পথই ধর্মপথ। (ধর্মপথ ন্যায়, সত্য, অহিংসা ও কল্যাণের পথ।)
- খ)
আমরা নিজের মোক্ষলাভ এবং জগতের কল্যাণের জন্য ধর্ম পালন করি। এ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, ‘আত্মমোক্ষায় জগদ্ধিতায় চ’। মোক্ষলাভের আগে পর্যন্ত বারবার জন্ম নিয়ে জন্ম, জরা ও মৃত্যুর যন্ত্রণা ভোগ করতে হয়। মোক্ষলাভ করলে জীবাত্মা ব্রহ্মে লীন হয়। এছাড়া ধর্ম পালনে পশুবৃত্তির বিনাশ হয় এবং মানবিকতা ও পবিত্রতা জাগ্রত হয়।
- গ)
উদ্দীপকের রিক্সাচালকের আচরণে সততা গুণটি প্রকাশ পেয়েছে।
সততা কী: সৎ থাকা, অন্যের জিনিস লোভ না করে ঠিকভাবে ফিরিয়ে দেওয়া, মিথ্যা ও অন্যায় পরিহার করে ন্যায়ের পথে চলার গুণকে সততা বলে। পাঠ্যবইয়ে বলা হয়েছে, ‘সততাই উৎকৃষ্ট পন্থা’। পরের জিনিস আত্মসাৎ করা অধর্ম, কিন্তু অন্যের গচ্ছিত জিনিস ফেরত দেওয়া ধর্মের কাজ।
উপাখ্যানের দৃষ্টান্ত: গরিব কাঠুরিয়ার কুঠার নদীতে পড়ে গেলে জলদেবী সোনার কুঠার দেখালেও তিনি লোভ না করে বলেন, ওটা তাঁর নয়। তাঁর সততায় মুগ্ধ হয়ে জলদেবী সোনা ও রুপার কুঠারও দিয়ে দেন। অথচ লোভী মোড়ল মিথ্যা বলে সবকিছু হারায়।
উদ্দীপকের সাথে সম্পর্ক: লিটন বাবু গৃহঋণের টাকা ভর্তি ব্যাগ অটোরিক্সায় ফেলে এসেছিলেন। ব্যাগে বড় অঙ্কের টাকা ছিল, তবু চালক লোভ না করে বাসায় এসে তা ফেরত দেন। এমনকি পুরস্কারের টাকাও নেননি, শুধু ফেরত দিতে পেরে আনন্দ প্রকাশ করেন। কাঠুরিয়ার মতো তিনিও লোভ জয় করে সততা দেখিয়েছেন।
সুতরাং, রিক্সাচালকের আচরণে সততা গুণটি প্রকাশ পেয়েছে।
- ঘ)
অর্পা ও অয়নের আচরণে শিষ্টাচার ও শ্রদ্ধা-ভক্তির দিকটি ফুটে উঠেছে। তারা প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায় গৃহদেবতার সামনে হাত জোড় করে ও মাথা মাটিতে ঠেকিয়ে শ্রদ্ধা জানায়, যা প্রণাম বা নমস্কারের অন্তর্গত।
শিষ্টাচার ও প্রণাম: নম্র, ভদ্র বা শিষ্ট আচরণকে শিষ্টাচার বলে। শিষ্টাচার মনুষ্যত্বের অন্যতম প্রধান উপাদান এবং নৈতিক মূল্যবোধ ও ধর্মের অঙ্গ। শ্রদ্ধা প্রকাশের অন্যতম উপায় প্রণাম, যা চার প্রকার: অভিবাদন, পঞ্চাঙ্গ, অষ্টাঙ্গ ও নমস্কার। নমস্কার হলো হাত জোড় করে মাথায় ঠেকানো।
গুরুত্ব বিশ্লেষণ:
১. ভক্তি ও শ্রদ্ধার প্রকাশ: ঈশ্বর আমাদের সৃষ্টি করেছেন এবং দেব-দেবীরা নিজ গুণে সহায়তা করেন। তাই প্রণামের মাধ্যমে আমরা তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ভক্তি জানাই। ধর্মাচারের মধ্য দিয়েও এভাবে শিষ্টাচার প্রকাশ পায়।
২. আধ্যাত্মিক তাৎপর্য: হিন্দু ধর্মদর্শন অনুসারে জীবের মধ্যে আত্মারূপে ব্রহ্ম অবস্থান করেন। তাই প্রণামের মাধ্যমে আমরা আসলে সেই ব্রহ্মকেই প্রণাম করি।
৩. সামাজিক ও পারিবারিক বন্ধন: বড়দের প্রণাম করলে তাঁরা আশীর্বাদ করেন। এতে ছোট-বড়র মধ্যে স্নেহ, শ্রদ্ধা ও সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। ভদ্র ব্যবহারে মানুষের মন জয় করা যায়।
৪. চরিত্র গঠন: শৈশব থেকে নিয়মিত প্রণাম ও শ্রদ্ধা প্রকাশ নম্রতা, বিনয় ও ধর্মপথে চলার অভ্যাস গড়ে তোলে।সুতরাং, অর্পা ও অয়নের আচরণে প্রকাশিত শিষ্টাচার ধর্মীয়, নৈতিক ও সামাজিক জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও